বাঙালিদের মনে রঘুবীর যাদব চিরকালের হয়ে থাকবে রাজা সেনের 'দামু' ছবি দিয়ে। ১৯৯৬ সালে ভুলতে বসা সিঙ্গেল স্ক্রিন সিনেমাহলগুলো আবার হাউসফুল হয়েছিল 'দামু' দেখতে।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 25 June 2025 12:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রঘুবীর যাদব (Raghubir Yadav),বম্বে ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম অভিনেতা। মঞ্চ থেকে বড় পর্দা হয়ে ছোট পর্দা, তার অবাধ বিচরণ। অভিনেতা, লেখক, মিউজিক ডিরেক্টর, গায়ক, সেট ডিজাইনার নানা রূপে তিনি বহুমুখীপ্রতিভার অধিকারী। চার দশকের বেশি ধরে তাঁর অভিনয় জীবন। অস্কার পুরস্কার মনোনীত তিনটি ছবি 'সালাম বম্বে','ওয়াটার' ও 'লাগান' এ কাজ করেছেন তিনি।
রঘুবীর যাদব ২৫ জুন, ১৯৫৭ সালে মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরে জন্মগ্রহণ করেন এক কৃষক পরিবারে। তাঁর পিতামহ সেখানে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেখানেই তিনি পড়াশোনা করেন। গ্রামেই লোকদলের সঙ্গে 'রামলীলা' নাটকে অভিনয় করতেন তিনি। সেই প্রথম অভিনয়ে হাতখড়ি। এরপর লক্ষ্মী নারায়ণ যাদব স্কুলে পড়াকালীন মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি পালিয়ে আসেন বাড়ি ছেড়ে। যোগ দেন পার্সি থিয়েটার কোম্পানিতে। সেখানেই রপ্ত করেন উর্দু আর হিন্দি।
১৯৬৭ থেকে ১৯৭৩ পার্শি থিয়েটারে তাঁর অভিনয় জীবনের প্রাথমিক শিক্ষা হয়ে গিয়েছিল। এই দলের সঙ্গে ৫০ টি নাটকে প্রায় ২৫০০ রজনী নানা গ্রামে, শহরে সারা ভারতে অভিনয় করেছিলেন তিনি। লাইভ পারফর্মার হবার পাঠ তিনি পেয়ে গিয়েছিলেন এভাবেই।
সাতের দশকের মাঝামাঝি 'রঙ্গোলি' পাপেট থিয়েটার লখনৌতে যোগ দেন তিনি। সেখানেই তিনি খবর পান দিল্লীতে ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামাতে অভিনয়ের প্রথাগত শিক্ষা দেওয়া হয়। ১৯৭৭ সালে এনএসডিতে ১৯৮৬ পর্যন্ত অভিনয়ের পাঠ নেন। সেখানেই তাঁর সঙ্গে আলাপ হয় নাসিরুদ্দিন শাহ, ওম পুরি, মনোজ বাজপেয়ীর মতো অভিনেতাদের সঙ্গে।
একের পর এক বিখ্যাত নাটকে অভিনয় করেছিলেন তিনি যেমন 'আগ্রা বাজার', 'চরণদাস চোর', 'রক্ত কল্যান'।

১৯৮৫ সালে 'ম্যাসি সাব' ছবিতে ডেবিউ হয় তাঁর। এরপরই সুযোগ পান মীরা নায়ারের 'সালাম বম্বে' ছবিতে কাজ করার। এরপর একের পর এক মূলধারা ও অন্যধারার ছবিতে কাজ করেন তিনি 'রুদালি', 'মায়া মেমসাহেব','১৯৪২ লাভ স্টোরি','ব্যান্ডিট কুইন', 'খামোশি','দিল সে','সাজ','দুশমানি','ভুল ভুলাইয়া' আরও কত।
২০০১ সালে 'লাগান' ছবিতে ভুরার চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। তাঁর কেরিয়ারে দ্বিতীয় ছবি যা অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডে মনোনীত হয়। যে ছবি নিয়ে সারা দেশ জুড়ে উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল সেই সময়। বিশেষ ভাবে দর্শকের মন কেড়ে নেয় রঘুবীর যাদবের চরিত্র।
টেলিভিশনেও তাঁর অজস্র কাজ। ১৯৮৮ সালে যাদব তার টেলিভিশন কেরিয়ার শুরু করেছিলেন 'মুঙ্গেরিলাল কে হাসিন সপনে', প্রধান চরিত্র 'মুঙ্গেরিলাল' হয়েই তিনি অভিনয় করে। এরপর 'অমরাবতী কি কথায়িন',
পরবর্তীতে তিনি টেলিভিশন অনুষ্ঠান 'মোল্লা নাসিরুদ্দিন' এবং 'চাচা চৌধুরী' নাটকে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। এই সিরিয়াল দুটি করে ছোটদের কাছে বিশাল জনপ্রিয়তা পান তিনি। তিনি বিআই টিভির 'অর্জুন পণ্ডিত' নাটকে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন ।

২০০৭ সালে অভিনয় করেন দীপা মেহতার 'ওয়াটার' ছবিতে। তৃতীয় বার তাঁর যে ছবি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডে মনোনীত হয়।
পেপসি, পার্লে, ব্রিটেনিয়া,ভিম, কোটাক মাহিন্দ্রা, ক্র্যাক ক্রিম একাধিক ব্র্যান্ডের হয়ে বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন তিনি।
রঘুবীর পূর্ণিমা খাড়গাকে ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামাতে পড়াকালীন। কিন্তু সে বিয়ে টেকেনি। তারপর রোশনি নামে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকেন। রোশনি কিছু টেলিভিশন সিরিজে অভিনয়ও করেছিলেন।
বাঙালিদের মনে রঘুবীর যাদব চিরকালের হয়ে থাকবে রাজা সেনের 'দামু' ছবি দিয়ে। ১৯৯৬ সালে ভুলতে বসা সিঙ্গেল স্ক্রিন সিনেমাহলগুলো আবার হাউসফুল হয়েছিল 'দামু' দেখতে। বহুদিন পর ছোটদের নিয়ে বাংলা ছবি আর সেই ছবিতে দামু নামেই বিশাল জনপ্রিয়তা পান রঘুবীর যাদব।