'ওঁর ঠাকুর্দা তো দেখে যেতে পারলেন না নাতির এই উন্নতি।'

নাতির কথায় আম্মা
শেষ আপডেট: 19 May 2025 16:58
বেশ কিছুকাল হল বর্ষীয়ান অভিনেত্রী চিত্রা সেনের পর্দায় দেখা মিলছে না। কঠোর বা কোমল দু ধরনের অভিনয়েই তিনি দর্শক হৃদয় জয় করে নিয়েছেন চিরকাল। কিন্তু পর্দায় তাঁর অনুপস্থিতি, দর্শক মিস করছেন ইদানীং। আজ চিত্রা সেনের একমাত্র নাতি, কৌশিক সেন-রেশমি সেন পুত্র ঋদ্ধি সেনের জন্মদিন। দ্য ওয়াল, নাতির জন্মদিনে ঠাকুমার খোঁজ নিতেই জানতে পারল চিত্রা সেনের বর্তমান অসুস্থ অবস্থার কথা। ভয়ানক অসুস্থ বর্ষীয়সী শিল্পী। একেবারেই শয্যাশায়ী তিনি। হঠাৎ পড়ে গিয়ে কিছুটা সেরিব্রাল অ্যাটাকের শিকার বর্ষীয়ান অভিনেত্রী।
তিন প্রজন্ম অভিনয় জগতে পরিবারগুলির মধ্যে এই সেন পরিবার অন্যতম। মূলতঃ মঞ্চ নাটকেই এই পরিবার ছাপ রেখেছেন বারবার। ছোট পর্দা আর বড় পর্দাতেও তাঁরা ভীষণ ভাবে জনপ্রিয়।

নাট্যকার শ্যামল সেন বিয়ে করেছিলেন নৃত্যপটীয়সী অভিনেত্রী চিত্রা মণ্ডলকে। তাঁদের একমাত্র পুত্র কৌশিক সেন। কৌশিক বিয়ে করেন রেশমী সেনকে। রেশমিকে অভিনয় জগতে এনেছিলেন শাশুড়ি চিত্রা সেন ও স্বামী কৌশিক সেন। রেশমি এখন সিরিয়ালেও খুব জনপ্রিয় মুখ। কৌশিক-রেশমির একমাত্র পুত্র ঋদ্ধি সেন। ঋদ্ধি ভারতীয় ছবিতে সবচেয়ে কমবয়সী অভিনেতা হিসেবে জাতীয় পুরস্কার জিতে নিয়েছিলেন।
আজ ঋদ্ধির জন্মদিনের দিনটা প্রবল অসুস্থতায় ভুলেই গেছেন চিত্রা সেন। দ্য ওয়াল তাঁকে ফোন করতে চিত্রা দেবী জিজ্ঞেস করলেন 'আজ কত তারিখ?' ১৯ শে মে বলতেই এক লহমায় অসুস্থতার কন্ঠেই আলো খেলে গেল ঠাকুমার।

কিন্তু কথা বলার অবস্থায় নেই চিত্রা সেন। যন্ত্রণাময় কন্ঠে তিনি বললেন 'আমি তো শুয়ে আছি গো! খুব অসুস্থ। একদম বিছানায় শোয়া। পড়ে গিয়েছিলাম। পড়ে গিয়ে আর কথাই বলতে পারি না (জড়িয়ে যেতে থাকল তাঁর কথা, সেই চেনা কণ্ঠ পাল্টে গেছে একেবারেই)।
নাতির জন্মদিনে ধরা ধরা গলায় চিত্রা সেন বললেন নাতির সঙ্গে কাটানো পুরনো দিনের কথা,
'১৯ শে মে ঋদ্ধি জন্মাল সেই দিনটা মনে পড়ে। ওকে ছোটবেলায় আমিই মানুষ করেছিলাম। ঋদ্ধি ডিম খেতে ভালবাসত, ওঁর মা ওকে ডিম খেতে দিত না। আমি ডিমের কুসুমটা আলাদা করে সরিয়ে রাখতাম। ও আমার কাছে এসে কুসুমটা খেয়ে যেত। ছোট ছোট পায়ে আমার এই সারা বাড়িতে ঋদ্ধি ঘুরে বেড়াত। আমি শ্যুটিং থেকে বা রিহার্সাল থেকে ফিরেই ওকে খাওয়াতে বসে পড়তাম। ঋদ্ধির যখন ১৩ বছর বয়স, তখন তো ওরা এ বাড়ি থেকে চলে গেল।'
নাতি যে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা সেটা কী ভাবে বুঝেছিলেন অভিনেত্রী ঠাকুমা? আমাদের দল 'স্বপ্নসন্ধানী' নাট্যদলে যখন রিহার্সাল করতাম তখন আমি সংলাপ ভুলে গেলে ঋদ্ধি সব সংলাপ মনে করিয়ে দিত আমাকে। এখনও কানে বাজে ওঁর গলা, বলত,'আম্মা তুমি ভুল করেছ!'
ছোটবেলায় এতটাই শ্রুতিধর ছিল আমার নাতি। সবাইকে কপি করতেও ঋদ্ধি খুব ভাল পারত। ১৩ বছর আমার এই বাড়িতে ওর সঙ্গে নানা মুহূর্ত জড়িয়ে। শুয়ে শুয়ে সেসব শুধু মন পড়ে এখন।'

তবে নাতি ঋদ্ধি সেনের অল্প বয়সেই এত খ্যাতিতে ঠাকুমার রয়ে গেছে একটি আক্ষেপ। চিত্রা সেনের কথায় 'ওঁর ঠাকুর্দা তো দেখে যেতে পারলেন না নাতির এই উন্নতি। অনেকদিন আগেই তো আমার স্বামী শ্যামল সেন মারা গেছেন। ঋদ্ধি ভীষণ ট্যালেন্টেড ছেলে। আমিই ওর বাবা-মাকে বলেছিলাম ওকে অভিনয় জগতে আনলে নাম করবে। আমার সঙ্গে 'ভাল রাক্ষসের গল্প'তে ঋদ্ধি কত ছোটবেলায় অভিনয় করেছিল আজকের দিনে সেটাই মনে পড়ছে। আমি ভীষণ খুশি হয়েছিলাম ও যেদিন জাতীয় পুরস্কার পেল।
আমি আজ জন্মদিনে ঋদ্ধি দাদুভাইকে অনেক আশীর্বাদ করি, আরও বড় হোক।'

চিত্রা সেন যে হারে অসুস্থ, তাঁকে হয়তো আর কখনও পর্দায় দেখা যাবে না। সামান্য কথা বলতেও তাঁর ভীষণ কষ্ট। আমাদের সবার প্রিয় 'বয়া' আজ রয়েছেন আর এক বয়ার দেখভালে। এখন শুধু তাঁর সুস্থ হবার প্রার্থনা।