উৎসবের অফার লোভনীয়, কিন্তু সতর্কতা জরুরি—NPCI বলছে: অফিসিয়াল সাইট ব্যবহার করুন, লেনদেন প্ল্যাটফর্ম চেক করুন, কোনও ওটিপি দেবেন না, অফার যাচাই করুন ও তাড়াহুড়োবেন না। থামুন, ভাবুন, যাচাই করুন—তারপর লেনদেন করুন।

থামুন, ভাবুন, যাচাই করুন
শেষ আপডেট: 15 October 2025 19:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবেগ থাকুক। কিন্তু সচল থাকুক মস্তিষ্ক। সচেতন থাকুন ক্রেতা। দুর্গা পুজোর রেশ এখনও কাটেনি। শেষ হয়নি উৎসবের মরসুমও। তাই ছেদ পড়েনি কেনাকাটাতেও। নিজের কাউকে উপহার দিতে। দ্রুত পছন্দের জিনিসটি হাতে পেতে বা নানান আকর্ষণীয় অফারের হাতছানির প্রলোভন উপেক্ষা করা সহজ নয়। আর ক্রেতার সেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আচরণকে হাতিয়ার করে অনেক সময়েই জাল পাতছে প্রতারকেরা। তাই ডিজিটাল কেনাকাটার ক্ষেত্রে মাথা ঠান্ডা রেখে ও সচেতন হতে পরামর্শ দিয়েছে দেশে খুচরো লেনদেনের দায়িত্ব পরিচালন করা ন্যাশনাল পেমেন্টস করপোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এনপিসিআই)। তাদের পরামর্শ, পাঁচটি সেফটি টিপ মাথায় রাখুন ক্রেতা।
প্রতারকদের জাল এড়াতে কি সেই পাঁচ বাণ?
১) খেয়াল করুন, সংস্থার ঠিক ওয়েবসাইট বা অ্যাপ - এই আপনি ঢুকেছেন। সন্দেহ থাকলে চেক করে নিন। কেন? কারণ জালিয়াতেরা ঠিক শুরুতেই আপনাকে ফাঁদে ফেলার ছক কষতে পারে। কীভাবে? দু একটি অক্ষরের সামান্য হেরফের করে প্রায় একই রকম ওয়েবসাইট বা তৈরি করে তারা। বিশেষ করে উৎসবের এই মরসুমে। যাতে ক্রেতার ব্যক্তিগত বা লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া যায়।
২) লেনদেনের প্লাটফর্ম সম্পর্কে সচেতন থাকুন।
সংস্থার অফিসিয়াল প্লাটফর্ম বা পাতার মধ্যেই যাতে লেনদেন সম্পূর্ণ হয়, দেখে নিন। বিক্রেতার সম্পর্কে পুরো তথ্য নিশ্চিত ভাবে জানুন। কারণ অনেক সময়ই জলিয়াতেরা এই সুযোগে নিরাপত্তার বিষয়টি এড়িয়ে কেনাকাটার অ্যাপের বাইরে গিয়ে আলাদা ইউপিআই আইডি বা লিংক এ লেনদেন করতে বলে। কিন্তু সংস্থার ওয়েবসাইট বা অ্যাপে স্পষ্ট ভাবে নিরাপত্তাজনিত নির্দেশ দেওয়া থাকে।
৩) ফ্রি ভাউচার কিম্বা ক্যাশব্যাক, এ সব ডিজিটাল বিপণনের আকর্ষণীয় হাতছানি। সবই আশঙ্কাজনক, এমন নয়। কিন্তু এগুলিকেও আর একটি ফাঁদ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ ছাড়ে না জালিয়াতিরাও। ওই সব দেওয়ার টোপ দিয়ে তারা আপনার কাছ থেকে ওটিপি, অ্যাকাউন্টের বিষাদ তথ্য বা নামমাত্র ফি চায়। কিন্তু যে সব অফার সঠিক বা আসল, সেই সব সংস্থা কিন্তু কখনই আপনার কাছ থেকে এই সব স্পর্শকাতর তথ্য বা আগাম টাকা চাইবে না। তাই যে কোনও অফার পাওয়ার সুযোগ নেওয়ার আগে একটু থামুন, ভাবুন, সব যাচাই করে দেখুন। তারপর ধীরে সুস্থে এগোন।
৪) ওটিপির ফাঁদ। সবচেয়ে বড় হাতিয়ার প্রতারকদের। মনে রাখবেন, ওটিপি কার্যত তালার চাবি। যেটা আপনার কাছেই শুধু থাকার কথা। আপনি যদি সেই ছবি অপরিচিত কাউকে বা ভুলবশত পরিচিত কাউকেও দেন, তাহলে তার কোনও দুরভিসন্ধি থাকলে তিনি তালা খোলার অস্ত্রটি পেয়ে গেলেন। ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে অনেক সময় প্রতারকের ক্রেতাকে মেসেজ পাঠিয়ে বলে, লেনদেন সম্পূর্ণ হয়নি বা অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়ে গিয়েছে। সমস্যা মেটাতে তাকে একটি ওটিপি পাঠানো হয়েছে। তিনি যেন সেটি তাদের জানায়। যেই আপনি সেটি তাদের জানিয়ে দিলেন, সেএ চাবি দিয়ে জালিয়াতেরা আপনার অ্যাকাউন্ট বা ওই লেনদেনের হদিস পেয়ে গেলো।
৫) খুব চাপ নিয়ে এই ধরনের লেনদেন করবেন না। কিরকম চাপ? এতক্ষন যে সব বিষয়গুলি বলা হল, আপনাকে সেই সব বিষয় যাচাই করার সুযোগ না দিয়ে আর প্রলোভনের ফাঁদে ফেলতে তারা দ্রুত সব কিছুবসেরে ফেলার জন্য আপনাকে মেসেজ এ বা ফোনের মাধ্যমে চাপ দিতে পারে। তারা তখন বলে থাকে, এক্ষুনি লেনদেন না করলে অফারটি আপনার হাতছাড়া হতে যাবে। কিম্বা আপনার অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়েভাবে। সঠিক সংস্থা বা তাঁদের লেনদেনের প্লাটফর্ম, অর্থাৎ, ওয়েবসাইট বা অ্যাপ কখনোই এই তাড়াহুড়োর আতঙ্ক ছড়াবে না বা এই কৌশল নেবে না। তাই অমন তাড়াহুড়ো বা চাপ কেউ দিলে আগে কিছুক্ষণ ভাবুন। যাচাই করুন সবটা। মাথায় রাখুন উপরে বলে বিষয়গুলি।
তাই সব মিলিয়ে বলা যায়, ডিজিটাল লেনদেন ও আপনার ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখতে এই নীতি মেনে চলুন – “ থামুন। ভাবুন। যাচাই করুন। তারপর ধাপে ধাপে এগিয়ে চলুন। কিন্তু কোনমতেই, কোনও ধাপেই কোনও তাড়াহুড়ো নয়।
আকর্ষণীয় অফার মাত্রই সবগুলি সঠিক নাও হতে পারে। কোনও অফার হাতছাড়া হলেই জীবনে সেই সুযোগ চলে গেলো, তাও নয়। আপনার সুরক্ষার চাবি আসলে আপনারই হাতে।