শহরের ভবিষ্যৎ মানচিত্র কেমন হতে পারে, তারই একটি স্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরল সিদ্ধা গ্রুপ। বুধবার কলকাতায় ‘ভিশন ২০৩০’ নামে আগামী দশকের জন্য তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘোষণা করল দেশের প্রথম সারির এই রিয়েল এস্টেট সংস্থা।

শেষ আপডেট: 21 January 2026 20:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শহরের ভবিষ্যৎ মানচিত্র কেমন হতে পারে, তারই একটি স্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরল সিদ্ধা গ্রুপ। বুধবার কলকাতায় ‘ভিশন ২০৩০’ নামে আগামী দশকের জন্য তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘোষণা করল দেশের প্রথম সারির এই রিয়েল এস্টেট সংস্থা। এই রোডম্যাপ অনুযায়ী, কলকাতা, মুম্বই ও জয়পুর—এই তিন শহরে মিলিয়ে প্রায় ১.০২ কোটি বর্গফুট আবাসিক নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সিদ্ধা। পাশাপাশি, ২০৩০ সালের মধ্যে ৩ হাজারেরও বেশি ফ্ল্যাট বিক্রির লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।
সংস্থার এই সম্প্রসারণ পরিকল্পনার মূল ভিত আটটি নতুন প্রকল্প। কলকাতায় সিদ্ধা গ্যালাক্সিয়া ইনফিনিয়া এবং মুম্বইয়ের ওরলিতে বিলাসবহুল সিদ্ধা সিফেস—এই প্রকল্পগুলিকে কেন্দ্র করেই আগামী দিনে নতুন নির্মাণ পর্ব শুরু হতে চলেছে। সংস্থার দাবি, অতীত অভিজ্ঞতা ও বাজারে বিশ্বাসযোগ্যতার উপর ভর করেই এই সাহসী লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।
সিদ্ধা গ্রুপের ট্র্যাক রেকর্ডের দিকে তাকালে সেই আত্মবিশ্বাসের কারণ স্পষ্ট হয়। কোভিড অতিমারির মতো কঠিন সময়েও কাজ থামায়নি সংস্থা। বরং সেই সময়েই প্রায় ৫ হাজার পরিবারের হাতে ফ্ল্যাট তুলে দিয়ে বাজারে নিজেদের নির্ভরযোগ্যতা আরও জোরদার করেছে সিদ্ধা।
বিনিয়োগের নিরিখেও সিদ্ধার প্রকল্পগুলির নজির চোখে পড়ার মতো। জয়পুরের সিদ্ধা রাজ আঙ্গন প্রকল্প তার অন্যতম উদাহরণ। সবুজ জমিতে এনআরআইদের জন্য বিশেষ কনভেনশন প্রকল্প হিসেবে শুরু হওয়া এই আবাসনে একসময় ২০ থেকে ৩০ লক্ষ টাকায় বিক্রি হওয়া ভিলাগুলির বর্তমান বাজারদর পৌঁছেছে প্রায় ৭ কোটি টাকায়। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে কীভাবে সম্পত্তির মূল্য কয়েক গুণ বাড়ানো যায়, সেই দৃষ্টান্ত হিসেবেই তুলে ধরা হচ্ছে এই প্রকল্পকে।
নতুনত্বেও জোর দিচ্ছে সিদ্ধা। মুম্বইয়ের সিদ্ধা স্কাই প্রকল্পে ড্রোনের মাধ্যমে ডেলিভারি পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে কলকাতার জন্য একেবারে আলাদা চমক নিয়ে আসছে সংস্থা। সিদ্ধা এসপ্ল্যানেড প্রকল্পে তৈরি হচ্ছে একটি অবজারভেটরি ডেক—যার ভাবনায় অনুপ্রেরণা নিউ ইয়র্কের এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং। এখান থেকে এক জায়গায় দাঁড়িয়েই কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য ও ল্যান্ডমার্কের ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ উপভোগ করতে পারবেন পর্যটকরা। তবে এর জন্য কোনও অর্থ লাগবে না, শুধুমাত্র অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমেই সুযোগ পাওয়া যাবে।
সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর সঞ্জয় জৈন বলেন, “ভিশন ২০৩০ শুধুই নির্মাণের লক্ষ্য নয়। আমরা এমন লাইফস্টাইল ইকোসিস্টেম তৈরি করতে চাই, যেখানে আধুনিক পরিকল্পনার সঙ্গে সমাজ ও সংস্কৃতির সংযোগ থাকবে।”
বর্তমানে ৪,৪৪৩ কোটি টাকার টার্নওভার এবং রুফটপ স্কাইওয়াকের মতো একাধিক অভিনব ভাবনার অভিজ্ঞতা নিয়ে সিদ্ধা গ্রুপ আগামী দিনে শহুরে জীবনের সংজ্ঞা নতুন করে লিখতে প্রস্তুত—এমনটাই বার্তা তাদের ভিশন ২০৩০-এ।