বড় ধাক্কার পর শুক্রবার ঘুরে দাঁড়াল শেয়ারবাজার, চাঙ্গা সেনসেক্স ও নিফটি। ক্রুড অয়েলের দাম কমতেই বাজারে ফিরল প্রাণ।

শেয়ারবাজার
শেষ আপডেট: 20 March 2026 09:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লক্ষ্মীবারের বিরাট ধাক্কা সামলে শুক্রবার ঘুরে দাঁড়াল বাজার। টানা ধসের পর কিছুটা স্বস্তি ফিরল শেয়ারবাজারে (Stock Market)। অপরিশোধিত তেলের দাম (Crude Oil) সামান্য কমতেই ফের চাঙ্গা সূচক (Index)।
শুক্রবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই ঊর্ধ্বমুখী দুই প্রধান সূচক- সেনসেক্স (Sensex) ও নিফটি (Nifty)। ৩০ শেয়ারের বিএসই সেনসেক্স (BSE Sensex) ৩৫২.১৪ পয়েন্ট বা ০.৪৭ শতাংশ বেড়ে ৭৪,৫৫৯.৩৮-এ খোলে। অন্যদিকে, এনএসই নিফটি ৫০ (NSE Nifty 50) ১০৮ পয়েন্ট বেড়ে দিনের শুরুতেই পৌঁছে যায় ২৩,১১০.১৫-এ। উল্লেখ্য, আগের সেশনে সেনসেক্স বন্ধ হয়েছিল ৭৪,২০৭.২৪-এ এবং নিফটি ২৩,০০২.১৫-এ।
শুধু বড় সূচকই নয়, ইতিবাচক ছিল বাজারের বিস্তৃত চিত্রও (Market Breadth)। ওপেনিং ট্রেডে বিএসই মিডক্যাপ সিলেক্ট ইনডেক্স (BSE Midcap Select Index) ১১৯.৮৮ পয়েন্ট বা ০.৭৯ শতাংশ বেড়ে যায়। পাশাপাশি বিএসই স্মলক্যাপ সিলেক্ট ইনডেক্স (BSE Smallcap Select Index) ৬২.৩২ পয়েন্ট বা ০.৮৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৭,২০৬.৩৯-এ।
সেনসেক্স প্যাকের মধ্যে লাভের তালিকায় ছিল টেক মাহিন্দ্রা (Tech Mahindra), এইচসিএল টেক (HCL Tech), ইটার্নাল (Eternal), ইনফোসিস (Infosys) এবং লারসেন অ্যান্ড টুবরো (Larsen & Toubro)। এর মধ্যে টেক মাহিন্দ্রাই এগিয়ে, ওপেনিং ট্রেডে ২.৭৬ শতাংশ বৃদ্ধি। অন্যদিকে লাল চিহ্নে ছিল এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক (HDFC Bank) ও বাজাজ ফিন্যান্স (Bajaj Finance)। সবচেয়ে বেশি পতন এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের, ১.৮১ শতাংশ।
এনএসই-তে (NSE) বাজারের সার্বিক ছবিও ছিল ইতিবাচক। মোট ২,০৮১টি শেয়ার এগিয়েছে, যেখানে কমেছে মাত্র ২৫৯টি। অপরিবর্তিত ছিল ৬২টি শেয়ার।
তবে সতর্কবার্তাও রয়েছে। কোটাক সিকিউরিটিজের ইক্যুইটি রিসার্চ প্রধান শ্রীকান্ত চৌহান (Shrikant Chouhan) বলেন, “ডে ট্রেডারদের (Day Traders) জন্য দুর্বল প্রবণতা বজায় থাকতে পারে, যতক্ষণ না বাজার ২৩,২০০/৭৪,৫০০-এর উপরে ওঠে। নীচের দিকে নামলে ২২,৮৫০–২২,৬৫০–২২,৫০০ বা ৭৪,০০০–৭৩,৫০০–৭৩,০০০ স্তরে নামতে পারে। তবে এই স্তর পেরোতে পারলে ২৩,৪৫০–২৩,৫০০ বা ৭৫,০০০–৭৫,২০০ পর্যন্ত রিবাউন্ড সম্ভব।”
গিফট নিফটি (Gift Nifty), যা আগাম ইঙ্গিত দেয় নিফটির, সেখানেও ছিল মিশ্র ছবি। ১৫.৫ পয়েন্ট কমে ২৩,১০৪.৫০-এ খোলে, আগের ক্লোজিং ছিল ২৩,১২০।
অন্যদিকে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী (FII) টানা ১৫ দিন বিক্রি চালিয়ে গিয়েছে, ১৮ মার্চ বিক্রি করেছে ৭,৫৫৮.১৯ কোটি টাকার শেয়ার। যদিও দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী (DII) ৩,৮৬৩.৯৬ কোটি টাকার শেয়ার কিনে কিছুটা ভারসাম্য ফিরিয়েছে বাজারে।