মুকেশ আম্বানি (Mukesh Ambani) ঘোষণা করলেন, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বাজারে আসছে রিলায়েন্স জিওর আইপিও (Reliance Jio IPO)। ৫০ কোটির বেশি গ্রাহক নিয়ে জিও প্রস্তুত বিশ্ব প্রতিযোগিতার জন্য।
.jpeg.webp)
মুকেশ আম্বানি।
শেষ আপডেট: 29 August 2025 16:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের টেলি ও ডিজিটাল খাতে বিপ্লব ঘটানো রিলায়েন্স জিও এবার পা রাখতে চলেছে শেয়ার বাজারে। শুক্রবার ‘রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’-এর ৪৮তম বার্ষিক সাধারণ সভায় সংস্থার চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি ঘোষণা করলেন, আগামী বছরের প্রথমার্ধেই (২০২৬) জিওর আইপিও বাজারে আসছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিনিয়োগকারীদের জন্য এ এক বড়সড় সুখবর।
মুকেশ আম্বানি সভায় জানান, ‘‘জিওর আইপিও আনার সব প্রস্তুতি শেষ। আগামী বছরের প্রথম ছ’মাসের মধ্যে সংস্থাটিকে বাজারে তালিকাভুক্ত করা হবে।’’ তাঁর বিশ্বাস, নতুন এই পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের কাছে যথেষ্ট আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।
গত এক দশকে ভারতের টেলিকম খাতকে আমূল পালটে দিয়েছে রিলায়েন্স জিও। বিনামূল্যে ভয়েস কল এবং সুলভ ডেটার মাধ্যমে কোটি কোটি সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দিয়েছে সস্তায় ডিজিটাল সুবিধা। বর্তমানে জিওর গ্রাহক সংখ্যা ৫০ কোটিরও বেশি—যা এক অনন্য রেকর্ড।
মুকেশ আম্বানি বলেন, ‘‘ভারতের ডিজিটাল অবকাঠামোকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করাতে জিও বিরাট ভূমিকা নিয়েছে। আধার থেকে শুরু করে ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস (UPI), প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই জিওর প্রভাব স্পষ্ট।’’
রিলায়েন্স চেয়ারম্যানের দাবি, অদূর ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক টেলি জায়ান্টদের সমকক্ষ হয়ে উঠবে জিও। তাঁর ভাষায়, ‘‘খুব শিগগিরই জিও বিশ্ববাজারে প্রতিদ্বন্দ্বীদের মতো একই উচ্চতায় পৌঁছতে পারবে।’’
একইসঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন যে, জিও শুধু ভারতের নয়, গোটা বিশ্বের ডিজিটাল খাতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করবে।
আইপিও ছাড়াও রিলায়েন্সের পরিকল্পনায় রয়েছে আরও একাধিক চমকপ্রদ উদ্যোগ। সভায় ঘোষণা করা হয়েছে— জিও এআই ক্লাউড, জিও ফ্রেম এবং জিও কম্পিউটার খুব শিগগিরই বাজারে আসছে। স্টোরেজ এবং নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি-নির্ভর পরিষেবাগুলোর মাধ্যমে ভারতীয় স্টার্টআপ ও ব্যবসায়িক পরিকাঠামো আরও মজবুত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আম্বানি।
মুকেশের মতে, ভারতে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের বিস্তারে জিওর অবদান অপরিসীম। শতাধিক নতুন উদ্যোগ জিওর টেলি এবং ডিজিটাল পরিষেবাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। তাঁর বক্তব্য, ‘‘জিও শুধু একটা টেলিকম সংস্থা নয়, এটা ভারতের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার অন্যতম স্তম্ভ।’’