দেশের ধনকুবের শিল্পপতি মুকেশ আম্বানি (Mukesh Ambani) ও নীতা আম্বানির (Nita Ambani) ছোট ছেলে অনন্ত আম্বানির সাধের ‘বনতারা’ (Vantara) পশু সংরক্ষণ কেন্দ্র এবার সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) আতস কাচের নীচে।

ভারত ও বিদেশ থেকে বনতারা কীভাবে পশু সংগ্রহ করেছে, বিশেষত হাতিগুলি।
শেষ আপডেট: 26 August 2025 11:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের ধনকুবের শিল্পপতি মুকেশ আম্বানি (Mukesh Ambani) ও নীতা আম্বানির (Nita Ambani) ছোট ছেলে অনন্ত আম্বানির সাধের ‘বনতারা’ (Vantara) পশু সংরক্ষণ কেন্দ্র এবার সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) আতস কাচের নীচে। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের (Reliance Industries) মালিকানাধীন গুজরাতের জামনগরের বনতারা পশু উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে সর্বোচ্চ আদালত। সিটের মাথায় থাকবেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি জষ্টি চেলামেশ্বর। সদস্য হিসেবে থাকছেন হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি রাঘবেন্দ্র চৌহান, মুম্বইয়ের প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার হেমন্ত নাগরালে ও কাস্টমস বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার অনীশ গুপ্ত। সিটকে আগামী ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পঙ্কজ মিঠল ও পিবি বরালেকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ সত্যানুসন্ধানী তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। আদালতে আর্জি জানিয়েছিলেন আইনজীবী সিআর জয়া সুকিন ও দেব শর্মা নামে এক ব্যক্তি। তাঁরা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক খবরের দৃষ্টান্ত তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন।
এর ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট সিটকে যে যে বিষয়ে তদন্ত করতে বলেছে, সেগুলি হল- ভারত ও বিদেশ থেকে বনতারা কীভাবে পশু সংগ্রহ করেছে, বিশেষত হাতিগুলি। এক্ষেত্রে বন্যপ্রাণ (সংরক্ষণ) আইন, ১৯৭২-কে মেনে চলা হয়েছে কিনা। এই আইনের ভিত্তিতেই দেশের চিড়িয়াখানাগুলি চলে। এই আইনেই পশু ক্রয়-বিক্রয়ের বিধি ও ধারা রয়েছে। পশুপালনের মান, পশু চিকিৎসা ও রক্ষণাবেক্ষণ ঠিকঠাকভাবে হচ্ছে কিনা ও পশুকল্যাণে কী করা হচ্ছে তা তদন্ত করে দেখতে বলা হয়েছে।
সিটকে আদালত জলের অপব্যবহার ও কার্বন দূষণের অভিযোগও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়াও রয়েছে আর্থিক তছরুপের অভিযোগও। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ বলেছে, কোনও ভিত্তির উপর না দাঁড়িয়ে থাকা অভিযোগকে মান্যতা দেওয়া আইনের কাজ নয়। তা সত্ত্বেও অভিযোগ যখন উঠেছে, তখন তার আগুপিছু তদন্ত করে দেখাই যায়, যাতে আদালত একটি স্থির সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারে।
উল্লেখ্য, প্রথম অভিযোগটিতে ছিল, বনতারায় চলতে থাকা অনিয়মের বিরুদ্ধে একটি নজরদারি কমিটি গঠন করা হোক। এছাড়াও এখানে আটক রাখা সমস্ত হাতি ও পশুকে বন্যপ্রাণ আইন অনুযায়ী জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হোক। দ্বিতীয় আবেদনটি একটি হস্তিনী, যার নাম মাধুরী অথবা মাধবী। আবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩০ বছর ধরে এই হস্তিনীটি কোলাপুরের একটি গ্রামের জৈন মন্দিরে ছিল। বম্বে হাইকোর্টের এক রায়ে এই হাতিটিকে বনতারায় পুনর্বাসিত করা হয়। সুপ্রিম কোর্টও এই রায় বহাল রাখায় কোলাপুরে ব্যাপক প্রতিবাদ ওঠে।
মঙ্গলবার বনতারার তরফে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইনের অধীনে যে কোনও সহযোগিতা করতে তারা প্রস্তুত। তারাও চায় এ বিষয়ে স্বচ্ছতা ও পশুদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করে নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। বনতারা কর্তৃপক্ষ বলেছে, সিটের সঙ্গে পুরো মাত্রায় সহযোগিতা করা হবে। কোনও অনুমানের দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে পশুদের উন্নতি ও মঙ্গলের জন্য যেন এই তদন্তকাজ চলে।