১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং এক সময় কানোরিয়া পরিবারের নিয়ন্ত্রণাধীন কলকাতা-ভিত্তিক এসআরইআই গোষ্ঠী দীর্ঘদিন নির্মাণ যন্ত্রপাতি ও পরিকাঠামো অর্থায়নের ক্ষেত্রে প্রভাবশালী সংস্থা ছিল।

পিএনবি থেকে প্রায় আড়াই হাজার কোটির ঋণ জালিয়াতি কানোরিয়াদের দুই SREI সংস্থার
শেষ আপডেট: 27 December 2025 12:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এবার ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ এসআরইআই (SREI) গোষ্ঠীর প্রাক্তন উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে। কম নয়, মোট ২ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকারও বেশি ঋণ জালিয়াতি (Loan Fraud) নথিভুক্ত করা হয়েছে তাদের নামে। আর এই জালিয়াতিতে ফের নাম জড়িয়েছে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের (PNB)।
এই জালিাতির খবর আরবিআইকে (RBI) জানিয়েছে পিএনবি। শুক্রবার নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই জালিয়াতি (Fraud) সংক্রান্ত অভিযোগ দুটি বড় এনবিএফসি—এসআরইআই ইকুইপমেন্ট ফিনান্স লিমিটেড (SEFL) এবং এসআরইআই ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফিনান্স লিমিটেড (SIFL)-এর সঙ্গে যুক্ত।

ব্যাঙ্ক সূত্রে জানানো হয়েছে, এসআরইআই ইকুইপমেন্ট ফিনান্স সংক্রান্ত জালিয়াতির অঙ্ক ১ হাজার ২৪০.৯৪ কোটি টাকা এবং এসআরইআই ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফিনান্সের ক্ষেত্রে সেই পরিমাণ ১ হাজার ১৯৩.০৬ কোটি টাকা। এই ঋণগুলি পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের নয়া দিল্লির শাখা থেকে মঞ্জুর করা হয়েছিল। দুই ক্ষেত্রেই অভিযোগের ধরন ‘বরোয়াল ফ্রড’ (Borrowal Fraud)—ব্যাঙ্কিং পরিভাষায় যার অর্থ, ঋণ নেওয়ার সময় ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া, কিংবা প্রতারণার উদ্দেশ্যে প্রাপ্ত ঋণের অর্থ অন্য খাতে সরিয়ে দেওয়া।

১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং এক সময় কানোরিয়া পরিবারের নিয়ন্ত্রণাধীন কলকাতা-ভিত্তিক এসআরইআই গোষ্ঠী (Kolkata Based SREI) দীর্ঘদিন নির্মাণ যন্ত্রপাতি ও পরিকাঠামো অর্থায়নের ক্ষেত্রে প্রভাবশালী সংস্থা ছিল। তবে প্রশাসনিক দুর্বলতা, তহবিল ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপির চাপে গোষ্ঠীটি কার্যত ভেঙে পড়ে। ২০২১ সালের অক্টোবরে গুরুতর ‘মিসম্যানেজমেন্ট’-এর অভিযোগে এসআরইআই-এর দুই সংস্থার বোর্ড ভেঙে দিয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।
পরবর্তীতে কেপিএমজি-সহ একাধিক সংস্থার ফরেনসিক অডিটে উঠে আসে গুরুতর অনিয়মের ছবি। রিপোর্টে দাবি করা হয়, সংশ্লিষ্ট পার্টির মাধ্যমে অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং অনাদায়ী ঋণ ঢাকতে ‘এভারগ্রিনিং’-এর মতো কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে।

পিএনবি (PNB) স্পষ্ট করেছে, এই পুরো ২ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকার জন্য তারা আগেই শতভাগ প্রভিশন করে রেখেছে—এই তথ্য স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দেওয়া একটি ফাইলিংয়েও উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, জালিয়াতি আনুষ্ঠানিক ভাবে রিপোর্ট হলেও ব্যাঙ্কের চলতি বা ভবিষ্যৎ ত্রৈমাসিক মুনাফায় এর কোনও অতিরিক্ত নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, এসআরইআই-এর বর্তমান পর্বটি প্রাক্তন উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা এই জালিয়াতির অভিযোগ থেকে প্রশাসনিক ভাবে আলাদা। দেউলিয়া আইন (IBC) অনুযায়ী দীর্ঘ কর্পোরেট ইনসলভেন্সি রেজোলিউশন প্রক্রিয়া (CIRP) শেষে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে সরকারি ‘ব্যাড ব্যাঙ্ক’—ন্যাশনাল অ্যাসেট রিকনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (NARCL)-এর হাতে যায় এসআরইআই-এর দুই সংস্থা। তার আগেই ২০২৩ সালের আগস্টে জাতীয় কোম্পানি আইন ট্রাইব্যুনাল (NCLT) ওই রেজোলিউশন প্ল্যান অনুমোদন করে।
ফলে বর্তমানে এসআরইআই-এর পরিচালন কাঠামো এবং ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ নতুন, এবং প্রাক্তন প্রোমোটারদের বিরুদ্ধে ওঠা এই আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ভাবে তাদের কোনও প্রত্যক্ষ যোগ নেই।