ব্যাঙ্কগুলিকে বিশেষ কর্মসূচি ও শিবিরের মতো আয়োজন করতে নির্দেশ দিয়েছে আরবিআই। তবে সাইবার অপরাধ এড়াতে সতর্ক থাকুন বরাবর

শেষ আপডেট: 25 December 2025 16:53
বছর শেষ হতে আর ক’দিন বাকি। নতুন বছর আসতেও। এই সময়ে যদি আচমকা কোনও পুরনো ও একেবারে ভুলে মেরে দেওয়া সঞ্চয় ভাণ্ডারের কথা জানতে পারেন? যে টাকা আর ব্যাঙ্কে নয়, চলে গিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) কাছে! যদি সঠিক নথিসহ প্রমাণ দিয়ে তা পাওয়ার সুযোগ মেলে (সুদ প্রযোজ্য হলে তা-ও পাবেন), তাহলে বড়দিন, নতুন বছর --সব মিলিয়ে উতসবের এই মরশুমে মন্দ কী!
ব্যাঙ্কিং শিল্প সূত্রের খবর, পরিষেবার নিয়ম মতো, দশ বছর বা তার চেয়েও বেশি কোনও অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় থাকলে সেখানে সঞ্চিত থাকা টাকা আরবিআইয়ের বিশেষ ভাণ্ডারে (ডিপোজ়িটর এডুকেশন অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস) চলে যেতে পারে। অর্থাত, সেটি তখন দাবিহীন সঞ্চয়। হয়তো গ্রাহকও সেই অ্যাকাউন্ট বা সেখানের সঞ্চয় সম্পর্কে একেবারেই ভুলে গিয়েছেন। কিন্তু সেই দাবিহীন টাকা তিনি তারপরেও দাবি করতে পারেন।
ইতিমধ্যেই সেই বার্তা দিয়ে আরবিআইয়ের কাছে থেকে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ-ও পাঠানো হয়েছে। এমনিতে এটা বছরের যে কোনও সময়ই দাবি করা যায়। তবে গত তিন মাস ধরে চলতি ডিসেম্বর পর্যন্ত আপাতত এ জন্য ব্যাঙ্কগুলিকে বিশেষ কর্মসূচি ও শিবিরের মতো আয়োজন করতে নির্দেশ দিয়েছে আরবিআই।
শীর্ষ ব্যাঙ্কের দাবি, সঠিক নথি থাকলে এই টাকা ফেরত পাওয়া একেবারেই সহজ। আরবিআই বার্তায় বলেছে, গ্রাহককে তাঁর ব্যাঙ্কের যে কোনও শাখায় যেতে হবে। সেটি তাঁর অ্যাকাউন্টের রেগুলার শাখা (অর্থাৎ, সেখানে তাঁর অ্যাকাউন্ট না থাকলেও হবে, তবে সেই ব্যাঙ্কের কোনও শাখার গ্রাহক হতে হবে তাঁকে) না হলেও হবে। একটি ফর্ম বা আবেদনপত্রের সঙ্গে তাঁকে তাঁর কেওয়াইসি নথি (দেওয়া থাকলেও ফের– আধার, ভোটার কার্ড, পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স) দিতে হবে।
আরবিআইয়ের কাছে গচ্ছিত দাবিহীন অ্যাকাউন্টের টাকা? হাতে পাওয়ার হদিস দিচ্ছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কই।#TheWallBangla #ReserveBankofIndia #rbipolicy pic.twitter.com/eqgIoJq3l0
— The Wall (@TheWallTweets) December 25, 2025
সেগুলি যাচাই করে দেখার পরে সব সঠিক থাকলে গ্রাহক সুদ সহ (প্রযোজ্য হলে) আরবিআইয়ের কাছে গচ্ছিত রাখা সেই টাকা ফেরত পেয়ে যাবেন। মনে রাখা ভাল, এই অর্থ গ্রাহকের আইনত উত্তরাধিকারীও পেতে পারেন। তবে তাঁকেও আইনি উত্তরাধিকার-সহ সেই সব প্রমাণ পেশ করতে হবে। তারপর তা যাচাই করে দেখা হবে। ব্যাঙ্কিং সূত্রের মতে, কোনও গ্রাহক হয়তো প্রয়াত। সে ক্ষেত্রে তাঁর আইনত উত্তরাধকারীও এই সুযোগ পেতে পারেন।
অল ইন্ডিয়া ন্যাশনালাইজ়ড ব্যাঙ্ক অফিসাসর্স ফেডারেশনের জাতীয় প্রেসিডেন্ট সঞ্জয় দাসও জানান, গ্রাহকদের স্বার্থে এই পরিষেবা রয়েছে। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি আরবিআইয়ের নির্দেশের প্রেক্ষিতে এই তিন মাস ধরে বিশেষ ভাবে উদ্যোগী হয়েছে। তারা নিজেরাও এমন গ্রাহকদের বা তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানাচ্ছে। এবং এই পরিষেবা ঠিকমতো কার্যকর হচ্ছে কিনা, তা উপরমহল থেকে বিশেষ ভাবে নজরদারি করা হচ্ছে।
আরবিআই জানিয়েছে, কোনও গ্রাহক অনলাইনেও তাঁর এমন কোনও নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টের বিষয়ে তথ্য জানতে পারেন। এ জন্য তাঁকে এই ওয়বসাইটের https://udgam.rbi.org.in ঠিকানায় গিয়ে লগ ইন করে দেখতে হবে। কারও সেটিতে নাম নথিভুক্ত (রেজিস্টার) না থাকলে ই-মেল খোলার মতো করে সেটা আগে করে নিতে হবে।
তবে আরবিআই আলাদা করে কিছু না জানালেও দ্য ওয়ালের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের জানিয়ে রাখা ভাল, যে এ ক্ষেত্রেও সকলকে সাইবার অপরাধ থেকে সতর্ক থাকতে হবে। কোনও অচেনা নম্বর থেকে বা অচেনা কেউ ফোন করে নিষ্ক্রিয় থাকা অ্যাকাউন্টের হদিস দিয়ে দেবে এবং গচ্ছিত টাকা পাইয়ে দেবে বলে দাবি করলে সঙ্গে সঙ্গে নিজের ব্যাঙ্কে যোগাযোগ করুন।
কারণ ফোনে এই গোটা প্রক্রিয়া কখনওই সম্ভব নয়, তা উপরে বলা ধাপগুলি থেকে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন। এ জন্য কোনও ওটিপি চাইলেও কাউকে তা দেবেন না। যা কথা বলার, আরবিআইয়ের নির্দেশ মতো ব্যাঙ্কের যে কোনও শাখায় গিয়ে কথা বলুন। আর অনলাইনে খোঁজ করলে, সেটির জন্যও তো আপনাকে নাম নথিভুক্তি করতে হবে. ফলে সেখানে অচেনা কারও সঙ্গে যোগাযোগের প্রশ্নই নেই।
বছরে শেষ বা নতুন বছরের আনন্দ করার আগে সব সময়ে প্রতারকদের ফাঁদ এড়াতে এই সতর্কবার্তা মনে রাখুন। প্রতারকদের ফাঁদে পা দিলে কিন্তু আর্থিক ক্ষতি বছরভরের আনন্দই মাটি হয়ে যাবে!