সরকারের দাবি, নতুন আইনটি কর ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করবে।

শেষ আপডেট: 23 December 2025 10:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইনকাম ট্যাক্স বা আয়কর দফতরের কড়াকড়ি নাকি বাড়ছে? শুধু তাই নয়, আগামী দিনে সাধারণ মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ই-মেল বা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে সরাসরি নজরদারি (social media access) চালাতে পারবে আয়কর দফতর। সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনই এক দাবিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক বিভ্রান্তি। এবার সেই দাবি নিয়ে বিস্তারিত ফ্যাক্ট চেক প্রকাশ করল কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য সংস্থা প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB)।
PIB স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ওই দাবি ভ্রান্ত ও বিভ্রান্তিকর। সংস্থার বক্তব্য, ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হতে চলা ইনকাম ট্যাক্স অ্যাক্ট, ২০২৫ (Income Tax Act 2025) অনুযায়ী সাধারণ করদাতাদের ডিজিটাল পরিসরে নজরদারির কোনও প্রশ্নই নেই।
PIB জানিয়েছে, নতুন আইনে যেসব ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে, তা কেবলমাত্র ‘সার্চ অ্যান্ড সার্ভে’ (Search and Survey) অভিযানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অর্থাৎ, যেসব ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের কর ফাঁকির নির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক তল্লাশি অভিযান চলছে, শুধুমাত্র সেই ক্ষেত্রেই এই ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। আইন মেনে কর দেওয়া সৎ করদাতারা এতে মোটেই প্রভাবিত হবেন না।
PIB-এর বক্তব্য, “যতক্ষণ না কোনও করদাতার বিরুদ্ধে গুরুতর কর ফাঁকির প্রমাণের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক সার্চ অপারেশন শুরু হচ্ছে, ততক্ষণ আয়কর দফতরের কোনও ক্ষমতাই নেই কারও ব্যক্তিগত ডিজিটাল পরিসরে ঢোকার।”
সংস্থাটি জানিয়েছে, এক্স (আগের টুইটার)-এর একটি হ্যান্ডল, @IndianTechGuide, একটি পোস্ট শেয়ার করে দাবি করেছিল যে আয়কর দফতর নাকি গণহারে ডিজিটাল নজরদারি চালাতে পারবে। PIB সেই পোস্টটিকে চিহ্নিত করে জানিয়েছে, এই দাবি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর।
PIB আরও স্পষ্ট করেছে, আয়কর দফতর রুটিন অ্যাসেসমেন্ট, ডেটা প্রসেসিং বা স্ক্রুটিনি কেসে কখনওই কোনও ব্যক্তির প্রাইভেট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যেমন ই-মেল, সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্যান্য অনলাইন অ্যাকাউন্ট, অ্যাক্সেস করতে পারে না। আইন মেনে চলা করদাতাদের এই নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই।
PIB-এর ফ্যাক্ট চেক ইউনিট জানিয়েছে, “এই বিধানগুলি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে কালো টাকা এবং বড় আকারের কর ফাঁকি ধরার জন্য। সাধারণ, আইন মেনে চলা নাগরিকদের জন্য নয়।”
এখানেই শেষ নয়। PIB মনে করিয়ে দিয়েছে, সার্চ ও সার্ভে চলাকালীন নথি বা প্রমাণ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা আয়কর দফতরের কাছে নতুন কিছু নয়। এই ক্ষমতা ১৯৬১ সালের ইনকাম ট্যাক্স আইনেও আগে থেকেই ছিল।
ইনকাম ট্যাক্স অ্যাক্ট, ২০২৫ কী বলছে?
২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে দেশের দীর্ঘদিনের পুরনো ইনকাম ট্যাক্স অ্যাক্ট, ১৯৬১ বাতিল হয়ে কার্যকর হবে নতুন ও আধুনিক ইনকাম ট্যাক্স অ্যাক্ট, ২০২৫। সরকারের দাবি, নতুন আইনটি কর ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করবে।
১৯৬১ সালের আইনে যেখানে মোট ৮১৯টি জটিল ধারা ছিল, সেখানে নতুন আইনে সেগুলিকে কমিয়ে আরও স্পষ্ট ও সহজ ধারায় আনা হয়েছে, যাতে করদাতাদের পক্ষে নিয়ম মানা সহজ হয়।
পুরনো আইনের ধারা ১৩২ অনুযায়ী আয়কর আধিকারিকরা তল্লাশি অভিযানের সময় কোনও সম্পত্তিতে প্রবেশ করতে পারতেন, নথি বা ইলেকট্রনিক যন্ত্র বাজেয়াপ্ত করতে পারতেন এবং ডিজিটাল ডেটায় অ্যাক্সেস পেতেন।
নতুন আইনে সেই ব্যবস্থাই আরও স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে। ইনকাম ট্যাক্স অ্যাক্ট, ২০২৫-এর ধারা ২৪৭ অনুযায়ী, অনুমোদিত কোনও আয়কর আধিকারিক প্রয়োজন হলে কম্পিউটার সিস্টেম বা তথাকথিত ‘ভার্চুয়াল ডিজিটাল স্পেস’-এর অ্যাক্সেস কোড ‘ওভাররাইড’ করে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন, তবে শুধুমাত্র সার্চ ও সার্ভে অভিযানের সময়।
সরকারের যুক্তি, বর্তমানে বহু কর ফাঁকির ঘটনায় তথ্য ও নথি রাখা থাকে দূরবর্তী সার্ভার বা ডিজিটাল স্টোরেজে। সেই কারণে আদালতে কর ফাঁকি প্রমাণ করা এবং ঠিক কত টাকা ফাঁকি দেওয়া হয়েছে, তা নির্ধারণ করতে ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট থেকে প্রমাণ সংগ্রহ অত্যাবশ্যক হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে PIB-এর বার্তা স্পষ্ট। নতুন আয়কর আইনের নাম করে সাধারণ মানুষের উপর ডিজিটাল নজরদারির যে দাবি ছড়ানো হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর।