ধনতেরসে রূপা কিনবেন ভাবছেন? গয়নার বদলে রূপোর পাত্র কেনা আপনার জন্য হতে পারে করমুক্ত আয়ের পথ। আয়কর সাশ্রয়ের এই নতুন পদ্ধতি জেনে নিন।

শেষ আপডেট: 20 October 2025 16:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো : ট্যাক্স বাঁচানো সবসময়ই সাধারণ মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এতদিন অনেকেই মনে করতেন রূপার গয়না কেনা ট্যাক্স সাশ্রয়ের একটি ভালো উপায়। তবে সাম্প্রতিক আর্থিক হিসাব বলছে, রূপার গয়নার বদলে বিশেষ ধাতব পাত্র কেনা এখন আরও লাভজনক হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই কৌশল কেবল আপনার ট্যাক্সই বাঁচাবে না, ভবিষ্যতে আর্থিক সুরক্ষাও দেবে। বর্তমান বাজারে এটি একটি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সৃষ্টি করেছে, যা প্রচলিত ট্যাক্স পরিকল্পনার ধারণা বদলে দিতে পারে। এই নতুন উপায়টি কীভাবে কাজ করে এবং কেন এটি রূপার গয়নার চেয়ে বেশি ফলপ্রসূ, তা জেনে আপনি নিশ্চয় অবাক হবেন।
কেন সোনা এখন বেশি লাভজনক?
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা সবসময় নিরাপদ এবং লাভজনক বিকল্পের সন্ধান করেন। তথ্য অনুযায়ী, সোনা শুধুমাত্র অলঙ্কার হিসেবে নয়, বরং একটি লাভজনক বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবেও উঠে এসেছে, বিশেষ করে ট্যাক্স সেভিং-এর ক্ষেত্রে। অনেক ভারতীয় পরিবার ঐতিহাসিকভাবে সোনা ও রূপা উভয়কেই সম্পদ হিসেবে ধরে রেখেছে। তবে ট্যাক্স সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদী রিটার্ন বিবেচনায়, রূপার গয়নার তুলনায় সোনা কেনা, বিশেষ করে নির্দিষ্ট বিনিয়োগের মাধ্যমে, এখন বেশি লাভজনক।
বিশ্ব গোল্ড কাউন্সিলের (WGC) তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোট সোনার চাহিদার একটি বড় অংশ গয়না হলেও, সোনা বার ও কয়েন হিসেবে বিনিয়োগের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। গত বছরের তুলনায় এই বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে গয়নার অংশ কমে ৮০% থেকে ৬৪% হয়েছে, যেখানে বিনিয়োগের চাহিদা বেড়ে ১৯% থেকে ৩৫% হয়েছে। এর পেছনে অনিশ্চিত বিশ্ব অর্থনীতি ও মুদ্রাস্ফীতির চাপকে দায়ী করা হচ্ছে, যেখানে সোনা একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচিত।
রূপা না সোনা: বিনিয়োগের সঠিক পথ
বিনিয়োগের দৃষ্টিকোণ থেকে সোনা ও রূপা উভয়ই মূল্যবান। তবে করের নিয়ম ও রিটার্নের সম্ভাবনা ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত, রূপার গয়না কিনলে সোনার মতো ৩% জিএসটি প্রযোজ্য হয়। মেকিং চার্জের উপর ৫% জিএসটি দিতে হয়। যদি রূপা বা সোনার গয়না বিক্রি করা হয়, তাহলে প্রাপ্ত লাভের উপর ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স (Capital Gains Tax) দিতে হয়।
২৪ মাসের মধ্যে বিক্রি করলে শর্ট-টার্ম ক্যাপিটাল গেইন (STCG) হিসেবে আয়ের সাথে যোগ করে আপনার আয়কর স্ল্যাব অনুযায়ী কর দিতে হবে।
২৪ মাসের বেশি সময় পর বিক্রি করলে লং-টার্ম ক্যাপিটাল গেইন (LTCG) হিসেবে সাধারণত সূচীকরণ সুবিধা সহ ২০% হারে কর দিতে হয়।
তবে, সোনার কিছু বিকল্প বিনিয়োগ করের ক্ষেত্রে আরও সুবিধাজনক, যা রূপার ক্ষেত্রে সাধারণত পাওয়া যায় না।
সভরেন গোল্ড বন্ড: কর সাশ্রয়ের সেরা উপায়
সভারেন গোল্ড বন্ড (Sovereign Gold Bonds বা SGB) ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) দ্বারা ইস্যু করা হয়। এটি সোনার বিনিয়োগের একটি কর-দক্ষ উপায়।
বিনিয়োগকারী বার্ষিক ২.৫% সুদ পান, যা প্রতি ছয় মাস অন্তর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হয়।
৮ বছরের মেয়াদপূর্তি পর্যন্ত রাখলে মূলধন লাভের উপর কোনো কর দিতে হয় না।
SGB-কে সিকিউরিটিজ হিসেবে গণ্য করা হয়, তাই জিএসটি প্রযোজ্য নয়।
ফিজিক্যাল সোনা সংরক্ষণের ঝুঁকি যেমন চুরি বা ক্ষতি, SGB-তে নেই।
এক ব্যক্তি এক আর্থিক বছরে ১ গ্রাম থেকে ৪ কেজি পর্যন্ত SGB কিনতে পারেন। মেয়াদ ৮ বছর হলেও ৫ বছর পর থেকে এটি ভাঙার সুযোগ আছে। ৫ বছরের আগে বিক্রি করলে মূলধন লাভের উপর কর প্রযোজ্য।
ফিজিক্যাল সোনা ও রূপার করের নিয়ম
কেনার সময়:
জিএসটি: ৩% মূল্যের উপর, মেকিং চার্জে ৫%।
বিক্রির সময়:
২৪ মাসের মধ্যে বিক্রি করলে STCG, আয়কর স্ল্যাব অনুযায়ী।
২৪ মাসের বেশি বিক্রি হলে LTCG, সাধারণত সূচীকরণ সহ ২০% হারে। কিছু ক্ষেত্রে ১২.৫% কর প্রযোজ্য।
বাড়িতে সোনা রাখার সীমা:
বিবাহিত মহিলা: ৫০০ গ্রাম
অবিবাহিত মহিলা: ২৫০ গ্রাম
পুরুষ: ১০০ গ্রাম
সীমার বাইরে সোনা থাকলে বৈধ উৎসের প্রমাণ দিতে হবে, না হলে আইনি ব্যবস্থা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের ভাবনা ও বাজারের পূর্বাভাস
বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতি, ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির সোনা কেনার প্রবণতা সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী করছে। অ্যাক্সিস ডাইরেক্ট রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ধনতেরাস থেকে সোনা প্রায় ৬০% রিটার্ন দিয়েছে। চিরাগ মেহতা বলেন, "বিনিয়োগকারীরা পোর্টফোলিওর একটি অংশ সোনায় বরাদ্দ করছেন। অনিশ্চয়তার সময় সোনা দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী সম্পদ প্রমাণ করেছে।"
গোল্ডম্যান স্যাকস ও এইচএসবিসি ২০২৫-২০২৬ সালে সোনার দাম আরও বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে।
সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে
রূপার গয়না ঐতিহ্যের অংশ হলেও, ট্যাক্স সুবিধা ও দীর্ঘমেয়াদী মূলধন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সোনা, বিশেষ করে সভরেন গোল্ড বন্ড, বেশি লাভজনক। প্রতিটি বিনিয়োগের ঝুঁকি রয়েছে। বড় বিনিয়োগের আগে আর্থিক উপদেষ্টার সঙ্গে পরামর্শ করা বুদ্ধিমানের কাজ।