ঘরে বসেই সহজে আয়কর রিটার্ন দাখিল করুন, শেষ মুহূর্তের চাপ এড়াতে জেনে নিন অনলাইন ফাইলিংয়ের পদ্ধতি।

আইটিআর (প্রতীকী ছবি)
শেষ আপডেট: 27 February 2026 10:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আয়কর রিটার্ন (Income Tax Return) জমা দেওয়ার মরসুম এলেই করদাতাদের মধ্যে চাপ বাড়তে থাকে। শেষ মুহূর্তের ভিড়, পোর্টালের ধীরগতি, কাগজপত্রের অভাব—সব মিলিয়ে ঝামেলার শেষ থাকে না। তাই কর বিশেষজ্ঞরা একবাক্যে বলছেন, ঘরে বসে অনলাইনে রিটার্ন ফাইল করাই এখন সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ পথ। কারণ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) এবং আয়কর দফতর পুরো প্রক্রিয়াটিকে ডিজিটাল করে দেওয়ায় এখন কম্পিউটার বা মোবাইল দিয়েই দ্রুত এবং নির্ভুল ভাবে রিটার্ন দাখিল করা যাচ্ছে।
এক সময়ে কর অফিসে লাইন দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে রিটার্ন জমা দিতে হত। এখন সেই দিন শেষ। আয়কর দফতরের ই-ফাইলিং সিস্টেম (e-Filing System) রিটার্ন জমা দেওয়াকে করেছে দ্রুত, ত্রুটিমুক্ত এবং স্বচ্ছ। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির বাইরে বাকি সকল করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
কী কী কাগজপত্র লাগবে?
রিটার্ন দাখিল শুরু করার আগে কয়েকটি নথি হাতের কাছে রাখা জরুরি—
• স্থায়ী অ্যাকাউন্ট নম্বর (PAN) ও আধার কার্ড (Aadhaar)
• চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে ফর্ম ১৬ (Form 16)
• ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরের ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট
• বিনিয়োগের প্রমাণ—বিমা প্রিমিয়াম, পিএফ, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার/ডিবেঞ্চার বিনিয়োগ, জাকাত তহবিল ইত্যাদি
• অন্যান্য আয়ের নথি—সুদ, লভ্যাংশ বা শেয়ার লেনদেন সংক্রান্ত AIS/ফর্ম ২৬এএস (Form 26AS)
• গৃহঋণ বা ভাড়াবাড়ি সংক্রান্ত তথ্য
• ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে লাভ-লোকসানের হিসাব ও GST সংক্রান্ত তথ্য
• আগের বছরের আয়কর রিটার্নের কপি
কীভাবে অনলাইনে রিটার্ন ফাইল করবেন?
প্রথমে আয়কর দফতরের ই-ফাইলিং পোর্টালে (www.incometax.gov.in
) গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (TIN) এবং রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে পাওয়া ওটিপি দিয়ে অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করা যায়।
তারপর—
১. লগইন করে ‘File New Return’ অপশনে যেতে হবে।
২. সংশ্লিষ্ট করবর্ষ নির্বাচন করতে হবে।
৩. নিজের উপযুক্ত রিটার্ন টাইপ বেছে নিয়ে অনলাইন ফর্ম খুলতে হবে।
৪. ব্যক্তিগত তথ্য, বেতন, অন্যান্য আয়, বিনিয়োগ, সম্পদ, দায়—সব তথ্য সঠিক ভাবে দিতে হবে।
৫. সমস্ত তথ্য ভরার পর সিস্টেম নিজে থেকেই করের হিসেব করে দেবে।
৬. ব্যাঙ্ক ট্রান্সফার, কার্ড বা মোবাইল ফাইনান্সিয়াল সার্ভিস দিয়ে কর জমা দেওয়া যায়।
৭. শেষে রিটার্ন সাবমিট করে ই-ভেরিফাই করতে হবে—আধার OTP, নেট ব্যাঙ্কিং বা EVC–এর মাধ্যমে।
৮. স্লিপ ও সার্টিফিকেট ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করা উচিত।
শেষ তারিখ ও জরিমানা
২০২৪-২৫ মূল্যায়ন বছরের বিলম্বিত ও সংশোধিত রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৫ জানুয়ারি। জাতীয় নির্বাচন মাথায় রেখে সময়সীমা বাড়িয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি, পরে আবার ৩১ মার্চ ২০২৬ করা হয়েছে।
দেওয়ালের গায়ে লেখা—নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা না দিলে জরিমানা। উপ-কর কমিশনার করের ১০% পর্যন্ত জরিমানা ধার্য করতে পারেন। ন্যূনতম জরিমানা হাজার টাকা, আর দৈনিক জরিমানা ৫০ টাকা। বার্ষিক আয় পাঁচ লক্ষের কম হলে জরিমানা কমতে পারে।
সাধারণ সমস্যা ও সমাধান
শেষ মুহূর্তে পোর্টালে ভিড় বাড়ায় টেকনিক্যাল সমস্যা দেখা দিতেই পারে। তাই আগেভাগে রিটার্ন ফাইল করাই বুদ্ধিমানের কাজ। ভুল হলে ‘Revised Return’ জমা দিয়ে সংশোধন করা সম্ভব। রিফান্ড পেতে দেরি হওয়া মানেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট লিঙ্কিং ঠিক নেই—সেটা ঠিক করলেই সমস্যা মিটবে।
করদাতাদের জন্য NBR-এর হেল্পডেস্ক, কল সেন্টার এবং কর অফিসে সহায়তা কেন্দ্র সবসময় খোলা থাকে।