অনেক পরিবার এখন গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারেও সংযমী হচ্ছে এবং সুযোগ পেলেই ইন্ডাকশন ওভেন কিনে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু চাহিদা এত বেশি যে অনেক জায়গায় এখন ইন্ডাকশন পাওয়া যাচ্ছে না বলে খবর উঠে আসছে দেশের নানা প্রান্ত থেকে।

ছবি - এআই
শেষ আপডেট: 11 March 2026 22:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি (Middle East crisis) এবং জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার (fuel supply uncertainty) জেরে এবার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের রান্নাঘরে। দেশে এলপিজি গ্যাসের জোগান নিয়ে উদ্বেগ (LPG crisis) বাড়তেই ইন্ডাকশন ওভেনের চাহিদা হঠাৎই আকাশছোঁয়া (induction oven demand surge)। ফলে দেশের বড় বড় শহরের দোকান ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ইন্ডাকশন প্রায় 'পাতে পড়তেই উধাও' হয়ে যাচ্ছে (induction oven out of stock)।
বিভিন্ন শহরে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেড়ে যাওয়া এবং রিফিল বুকিংয়ে দেরির খবর ছড়িয়ে পড়তেই অনেক পরিবার বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক কুকটপ বা ইন্ডাকশন ওভেনের দিকে ঝুঁকছেন। এর ফলেই একাধিক শহরে প্যানিক বায়িং বা আতঙ্কের চোটে অতিরিক্ত কেনাকাটা শুরু হয়েছে।
একাধিক শহরে ইন্ডাকশন ওভেনের ঘাটতি চোখে পড়ার মতো
দেশের বড় বড় শহরে দ্রুত ডেলিভারি পরিষেবা দেওয়া অ্যাপগুলিতেও এখন ইন্ডাকশন কুকটপের তীব্র ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।
ব্লিঙ্কিট এবং সুইগি ইনস্টামার্ট-এর মতো অ্যাপ ঘেঁটে দেখা গিয়েছে, কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, চেন্নাইয়ের বহু এলাকাতেই ইন্ডাকশন ওভেনের স্টক শেষ।
উদাহরণ হিসেবে—
শুধু ওভেন নয়, শেষ হয়ে যাচ্ছে ইন্ডাকশন পাত্রও
ইন্ডাকশন ওভেনে রান্না করতে বিশেষ ধরনের পাত্র প্রয়োজন। ফলে শুধু চুলোই নয়, ইন্ডাকশন উপযোগী পাত্রের চাহিদাও হু হু করে বাড়ছে। ফলে অনেক এলাকায় এগুলিও দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।
পরিস্থিতি দেখে বোঝা যাচ্ছে, গ্যাসের জোগান নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বহু পরিবার এখন আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ইন্ডাকশন ওভেন কিনে রাখছেন।
কালোবাজারে গ্যাসের দাম বেড়েছে
এদিকে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। অনেক জায়গায় কালোবাজারে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। দিল্লি ও নয়ডার মতো শহরে কালোবাজারে এখন একটি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ২০০০ থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।
ছোট ব্যবসায়ীদের উপরও চাপ
এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে ছোট ব্যবসায়ীদের উপরও। অনেক রাস্তার খাবারের দোকান, যেমন সিঙাড়া, রুটি বা অন্যান্য স্ট্রিট ফুড বিক্রেতারা পণ্যের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন।
কারণ, অনেক ছোট বিক্রেতা বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করেন না। তারা প্রায়ই এলপিজি অনানুষ্ঠানিকভাবে বা কালোবাজার থেকে কিনে থাকেন। ফলে দাম বাড়লে তাদের খরচও বেড়ে যায়।
শুধু অনলাইন নয়, বাস্তব দোকানেও ইন্ডাকশনের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে।
সরকার অবশ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করেছে। সরকারের দাবি, দেশে বড় কোনও গ্যাস সঙ্কট নেই এবং দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে।
এছাড়াও রান্নার গ্যাসের সরবরাহ বজায় রাখতে সরকার এসেনশিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট (Essential Commodities Act) প্রয়োগ করেছে বলে জানানো হয়েছে। তবু সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ কমেনি।
রেস্তরাঁ ও পিজি-তে খাবারের সীমাবদ্ধতা
বেঙ্গালুরু ও চেন্নাইয়ের মতো শহরে অনেক রেস্তরাঁ এখন গ্যাস সিলিন্ডারের জন্য হিমশিম খাচ্ছে। কোথাও কোথাও সিলিন্ডার পেতে কয়েক দিনের দেরি হচ্ছে। বেঙ্গালুরুর বহু পিজি আবাসনেও খাবারের মেনু সীমিত করা হয়েছে। গ্যাস বেশি লাগে এমন খাবার যেমন পুরি বা রুটি কম পরিবেশন করা হচ্ছে।
যুদ্ধ দীর্ঘ হলে বাড়তে পারে সঙ্কট
মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে চলা যুদ্ধ দীর্ঘ হলে জ্বালানির সরবরাহে আরও সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ফলে অনেক পরিবার এখন গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারেও সংযমী হচ্ছে এবং সুযোগ পেলেই ইন্ডাকশন ওভেন কিনে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু চাহিদা এত বেশি যে অনেক জায়গায় এখন ইন্ডাকশন পাওয়া যাচ্ছে না বলে খবর উঠে আসছে দেশের নানা প্রান্ত থেকে।