রান্নার গ্যাসের জোগানে সমস্যা হতেই বাড়ছে ইন্ডাকশন ওভেন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, বৈদ্যুতিক কেটলির মতো বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের চাহিদা, জানাচ্ছেন এ শহরের ভোগ্যপণ্য বিক্রেতারা (ডিলার)।

এলপিজির দাম বাড়ায় মানুষ বিকল্পের দিকে ঝুঁকছেন বেশি
শেষ আপডেট: 11 March 2026 21:51
রাজ্যে বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত। শাসকদলের এই দাবিকে কটাক্ষ করে বিরোধীদের পাল্টা দাবি, রাজ্যে শিল্পের চাহিদা বাড়ন্ত বলেই উদ্বৃত্ত মনে হয়। এই তরজার সত্যাসত্য যাই হোক না কেন, আপাতত এই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জোগান অন্তত ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যুদ্ধের অনিশ্চয়তায় (Middle East Crisis) জ্বালানির চিন্তায় (fuel supply) খানিকটা স্বস্তি দিচ্ছে। কারণ রান্নার গ্যাসের জোগানে সমস্যা হতেই বাড়ছে ইন্ডাকশন ওভেন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, বৈদ্যুতিক কেটলির মতো বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের চাহিদা (Electronic device demand increase), জানাচ্ছেন এ শহরের ভোগ্যপণ্য বিক্রেতারা (ডিলার)।
এ দিকে, আইআরসিটিসি-ও তাদের সহযোগী সংস্থাগুলিকে (ভেন্ডার) এলপিজির বদলে যতটা সম্ভব ইন্ডাকশন ওভেন-সহ বৈদ্যুতিক সরঞ্জামে খাবার করতে (ট্রেনে নয়) নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলেও চাহিদা বেড়েছে ওই সব সরঞ্জামের।
সব মিলিয়ে এই বাড়তি চাহিদার জেরে এমন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম তৈরি করা সংস্থার শেয়ার দরও বেড়েছে বুধবার। যেমন এনএসই-তে টিটিকে প্রেস্টিজের শেয়ার দর এ দিন ৫০.৯৫ টাকা (১০.৫২%) বেড়েছে। জয়পান ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার দর বেড়েছে এক টাকা (৪%)। ৭.৫০ টাকা দামি হয়েছে হ্যাভেলস ইন্ডিয়া-র শেয়ারের দাম।
যুদ্ধের জেরে ইতিমধ্যেই অশোধিত তেলের জোগানে টান পড়েছে। ফলে তা থেকে উৎপাদিত পেট্রল-জিজ়েল, রান্নার গ্যাসের (এলপিজি) জোগান যেমন কমেছে, বেড়েছে দামও। ভারতে পাম্পগুলিতে এখনও তেলের টান পড়েনি, তেলবের দামও বাড়েনি। উল্টোদিকে, হেঁশেলের উপর চাপ বাড়ছে ক্রমাগত। গৃহস্থ থেকে হোটেল-রেস্তোরাঁর এলপিজির দাম যেমন বেড়েছে, জোগান বিভিন্ন জায়গায় ২০-৩০% কমেছে।
আর ঠিক এটাই আমজনতা কিংবা বাণিজ্যিক সংস্থাগুলি খাবার তৈরি বা তা গরম করার জন্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের দিকে ঝুঁকছে। রাজ্যের এ সব ব্যবসায় যুক্ত ব্যবসায়ী সংস্থা যেমন গ্রেট ইস্টার্ন, খোসলা ইলেকট্রনিক্স বা সেলস এম্পোরিয়ামের কর্তারা জানাচ্ছেন, কয়েকদিনের মধ্যেই ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে শোরুমে। বাড়ছে কেনাকাটাও।
খোসলা ইলেকট্রনিক্সের কর্তা মণীশ খোসলা বুধবার বলেন, “বিদ্যুতের জোগান যথেষ্ট। তাই অনেকেই আগাম তৈরি থাকতে চাইছেন। এত দিন আমরা দৈনিক গড়ে ৭০-৮০টি ইন্ডাকশন ওভেন বিক্রি করেছি। এখন তা বেড়ে ১৩০-১৪০টি হয়েছে। বেশি ক্রেতা টানতে আমরা আমাদের লভ্যাংশ থেকে কিছু সুবিধাও আপাতত তাঁদের দেব বলে ঠিক করেছি।” তিনি জানান, গোটা রাজ্যে তাঁদের ৮৬টি বিপণি রয়েছে। এর মধ্যে বৃহত্তর কলকাতায় ৪৫টি।
তিনটি সরঞ্জাম কেনারই আগ্রহ তাঁরা দেখছেন তাঁদের বিপণিতে, জানালেন গ্রেট ইস্টার্নের অন্যতম কর্তা পুলকিত বেদও। তাঁর মতে, অনেকে যেমন খাবার তৈরির জন্য ইন্ডাকশান ওভেন কিনতে চাইছেন, কেউ জল গরমের জন্য বৈদ্যুতিক কেটলি। আর মাইক্রোওয়েভ ওভেনে খাবার গরম করেও গ্যাস কিছুটা বাঁচানো সম্ভব।
ওই তিনটি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম মিলিয়ে বিক্রি ৩০% বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন সেলস এম্পোরিয়ামের কর্তা অভিষেক জৈন। তাঁদের হিসাবে, এর মধ্যে ৬৫% ইন্ডাকশন ওভেন। বাকিটা মাইক্রোওয়েভ ওভেন ও বৈদ্যুতিক কেটলি। সব মিলিয়ে গরমে বিদ্যুৎ না গেলে অন্তত গ্যাসের চিন্তা কমাতে পারবেন দেশের নাগরিকেরা।
ইনফিনিটি রিটেলের (ক্রোমা) সিইও তথা এমডি শিবাশিস রায় এ দিন জানান, তাঁদের বিপণিগুলিতে ইন্ডাকশন কুকটপ বা ওভেনের চাহিদা বাড়ছে স্বাভাবিক ভাবেই। কিন্তু আরও যেটা লক্ষ্যণীয়, ক্রেতারা এক সঙ্গে একাধিক ওই সরঞ্জাম কিনছেন। যা আগে দেখা যেত না। সম্ভবত, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবেই তাঁরা সেগুলি কিনছেন। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক কেটলির বিক্রি অন্য সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ বেড়েছে। তাঁর আশ্বাস, বাড়তি চাহিদা মেটাতে বিপণি কিংবা অনলাইন ব্যবস্থাতেও এই সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জামগুলির জোগান নিশ্চিত করা হচ্ছে।