সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে এমনই তথ্য জানিয়েছে আর্থিক বিশ্লেষক সংস্থা ক্রিসিল (Crisil)। ক্রিসিলের ‘রুটি রাইস রেট’ (Roti Rice Rate বা RRR) রিপোর্ট অনুযায়ী, পেঁয়াজ, আলু ও ডালের দাম কমায় টমেটোর দামের বড় বৃদ্ধির প্রভাব অনেকটাই সামলে গেছে। ফলে সাধারণ পরিবারের খাবারের খরচ খুব বেশি বাড়েনি।

শেষ আপডেট: 6 March 2026 19:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও বাড়িতে রান্না করা নিরামিষ থালির খরচ প্রায় একই রয়ে গেছে। জানুয়ারির চেয়ে বাড়েনি। বরং আমিষ থালির খরচ কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ। সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে এমনই তথ্য জানিয়েছে আর্থিক বিশ্লেষক সংস্থা ক্রিসিল (Crisil)। ক্রিসিলের ‘রুটি রাইস রেট’ (Roti Rice Rate বা RRR) রিপোর্ট অনুযায়ী, পেঁয়াজ, আলু ও ডালের দাম কমায় টমেটোর দামের বড় বৃদ্ধির প্রভাব অনেকটাই সামলে গেছে। ফলে সাধারণ পরিবারের খাবারের খরচ খুব বেশি বাড়েনি।
টমেটোর দামেই সবচেয়ে বড় লাফ
রিপোর্ট বলছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে টমেটোর দাম প্রায় ৪৩ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে টমোটোর দাম ছিল প্রায় প্রতি কেজি ২৩ টাকা। এ বছর ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৩৩ টাকা প্রতি কেজি। এর প্রধান কারণ, গত বছরের নভেম্বর থেকে এ বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত বাজারে টমেটোর সরবরাহ কম ছিল। দেরিতে চারা রোপণ হওয়ায় উৎপাদনও কম হয়েছে।
পেঁয়াজ ও আলুর দাম কমেছে
টমেটোর দাম বাড়লেও অন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ সবজির দাম কমেছে। যেমন, পেঁয়াজের দাম কমেছে প্রায় ২৪ শতাংশ। আর আলুর দাম কমেছে প্রায় ১৩ শতাংশ। বাজারে এই দুটি পণ্যের দাম বাড়লেই হাহাকার শুরু হয়। কিন্তু দেখা যাবে মধ্যবিত্ত শ্রেণি আর পেঁয়াজের দাম নিয়ে টুঁ শব্দও করছে না।
খরিফ মরসুমের পেঁয়াজ দেরিতে বাজারে আসায় হঠাৎ সরবরাহ বেড়ে যায়। পাশাপাশি রফতানি কম থাকায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত দেশীয় বাজারে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। আলুর ক্ষেত্রেও এখন ফসল তোলার সময় চলছে, তাই বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমেছে।
ডালের দামেও স্বস্তি
গত বছরের তুলনায় ডালের দাম প্রায় ৯ শতাংশ কমেছে। কারণ চলতি অর্থবর্ষে ডালের মজুত বেশি রয়েছে। বিশেষ করে তুর ডাল ও ছোলার স্টক আগের বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি।
তেলের দাম ও গ্যাসের খরচ কিছুটা বেড়েছে
তবে সবকিছুই যে কমেছে তা নয়। ভোজ্য তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে। এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। বিশ্ববাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কম থাকায় ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে।
আমিষ থালির দাম কেন কমল?
আমিষ খাবারের খরচ কমার মূল কারণ ব্রয়লার মুরগির দাম কমা। ফেব্রুয়ারিতে মুরগির দাম প্রায় ৭ শতাংশ কমেছে। যেহেতু একটি আমিষ থালির মোট খরচের প্রায় অর্ধেকই মুরগির উপর নির্ভর করে, তাই সামগ্রিক খরচও কমেছে।
মাসিক হিসেবে খরচ আরও কমেছে
শুধু বছরে বছরে নয়, জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতেও খাবারের খরচ কিছুটা কমেছে। নিরামিষ থালির খরচ কমেছে প্রায় ৫ শতাংশ। আমিষ থালির খরচ কমেছে প্রায় ১ শতাংশ। কারণ ফেব্রুয়ারিতে বাজারে টমেটো, আলু ও পেঁয়াজের দাম যথাক্রমে প্রায় ২৯%, ৬% ও ৪% কমেছে।
ক্রিসিলের মতে, আগামী কয়েক মাসে সবজির দাম কিছুটা কমতেই পারে। তবে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত টমেটোর দাম আগের বছরের তুলনায় বেশি থাকতে পারে। অন্যদিকে—মার্চ–এপ্রিল পর্যন্ত আলুর দাম তুলনামূলক কম থাকতে পারে। চাপের মধ্যে থাকতে পারে পেঁয়াজের দামও। অবশ্য রফতানি না বাড়লে তবেই দাম নিচের দিকে থাকবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে সরবরাহ ও আবহাওয়ার উপরই আগামী দিনে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের খরচ কতটা বাড়বে বা কমবে, তা নির্ভর করবে।