চলতি সংঘাতে সোনার দাম প্রত্যাশামতো বাড়েনি। যুদ্ধের এক সপ্তাহ পর দাম কিছুটা বাড়লেও পরে তা স্থিতিশীল হয়ে যায়। এর প্রধান কারণ মার্কিন ডলারের শক্তিশালী হওয়া। ডলার শক্তিশালী হলে অন্য দেশের ক্রেতাদের কাছে সোনা বেশি দামী হয়ে যায়, ফলে চাহিদা কমে।
.jpg.webp)
সোনা-ডলারকে ছাপিয়ে গেছে ‘অচেনা’ সম্পদ
শেষ আপডেট: 17 March 2026 14:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ার সংঘাতের (Middle East Tension) জেরে বিশ্ববাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তেল সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায় বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে, ফলে শেয়ারবাজারেও (Share Market) ওঠানামা চলছে। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগের (Safe investment) দিকে ঝুঁকছেন।
সাধারণত এমন সময়ে সোনা (Gold) বা মার্কিন ডলারই (US Dollar) সবচেয়ে ভরসার জায়গা হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু এবার সেই প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সামনে এসেছে বিটকয়েন (Bitcoin)। সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর পর থেকে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি Bitcoin-এর দাম ৭২ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এই সময়ে তেল ও শেয়ারবাজারে বড় ওঠানামা চললেও বিটকয়েন প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে নজর কেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উত্থান গুরুত্বপূর্ণ কারণ বিটকয়েনকে এতদিন নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হত না। বরং এটি ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ হিসেবেই পরিচিত ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক বিনিয়োগকারী এটিকে বিকল্প ‘সেফ হেভেন’ হিসেবে ভাবতে শুরু করেছেন।
INRGrid Stable-এর প্রতিষ্ঠাতা অনুজ চৌধুরীর মতে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সময়ে বিটকয়েনের বড় সুবিধা হল এর গতিশীলতা। এটি কোনও ব্যাঙ্ক বা সরকারের নিয়ন্ত্রণে নয়, ফলে বিশ্বের যেকোনও প্রান্তে দ্রুত স্থানান্তর করা যায়। সঙ্কটের সময়ে এই স্বাধীনতা ও সহজ লেনদেনই বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করছে।
তবে সব বিশেষজ্ঞরা একমত নন। অনেক অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীর মতে, বিটকয়েন এখনও সোনার মতো নির্ভরযোগ্য নিরাপদ সম্পদ নয়। কারণ রাষ্ট্রীয় ব্যাঙ্কগুলি এখনও সোনা কিনেই রিজার্ভ বাড়াচ্ছে, বিটকয়েন নয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে সোনার গুরুত্ব কমেনি।
এদিকে, চলতি সংঘাতে সোনার দাম প্রত্যাশামতো বাড়েনি। যুদ্ধের এক সপ্তাহ পর দাম কিছুটা বাড়লেও পরে তা স্থিতিশীল হয়ে যায়। এর প্রধান কারণ মার্কিন ডলারের শক্তিশালী হওয়া। ডলার শক্তিশালী হলে অন্য দেশের ক্রেতাদের কাছে সোনা বেশি দামী হয়ে যায়, ফলে চাহিদা কমে।
তার পাশাপাশি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে মার্কিন রাষ্ট্রীয় ব্যাঙ্ক সুদের হার কমাবে, এমন আশা আর করা যাচ্ছে না। সুদের হার বেশি থাকার সম্ভাবনা থাকলে সোনায় বিনিয়োগ কিছুটা কম আকর্ষণীয় হয়ে পড়ে।
সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধের আবহে বিনিয়োগের ধরণে বদলের ইঙ্গিত মিলছে। যদিও বিটকয়েনের উত্থান নজর কেড়েছে, তবুও এটি আদৌ সোনার মতো নিরাপদ বিকল্প হয়ে উঠতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।