ব্যাংকের সুদের হারে পরিবর্তন মানেই বিনিয়োগের নতুন সুযোগ। কীভাবে এই পরিবর্তনকে আপনার বৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগের হাতিয়ার বানাবেন? জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ।

সুদের হার বাড়ল
শেষ আপডেট: 10 September 2025 18:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণা করেছে। তবে এর আগের কয়েক ধাপে সুদ বাড়ায় আর্থিক বাজারে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রভাব পড়বে সঞ্চয়, ঋণ এবং বিনিয়োগের ওপর।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে সময়ে সময়ে সুদহার বাড়ায় বা কমায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঋণের সুদ বাড়িয়েছে। ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়লেও সাধারণ আমানতকারীরা বেশি লাভ পাচ্ছেন।
স্থায়ী আমানত এখন অনেক আকর্ষণীয়। গড়ে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। এমনকি কয়েকটি ব্যাংক আড়াই থেকে পাঁচ বছরে টাকা দ্বিগুণ করার স্কিম চালু করেছে। সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবেও সুদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৫ থেকে ৬ শতাংশে। একজন ব্যাংকার বলেন, “সরকার উচ্চ সুদে টাকা ধার করছে। ফলে ব্যাংকগুলোর হাতে টাকা কম। তাই আমানতকারীদের বেশি সুদ দিতে হচ্ছে।”
সুদের হার বাড়লে নতুন বন্ড বেশি লাভজনক হয়। এতে পুরনো বন্ডের দাম পড়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, ৯% সুদে বন্ডের দাম দাঁড়ায় ১০৫৯ টাকা, ১০% সুদে ১০০০ টাকা এবং ১১% সুদে ৯৪৪ টাকা। তবে সুদ কমলে পুরনো বন্ডের দাম আবার বাড়তে শুরু করে।
সুদের হার বাড়ায় ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণ নেওয়া কঠিন হচ্ছে। উৎপাদন ও সম্প্রসারণে খরচ কমছে। ফলে শেয়ার বাজারে চাপ পড়েছে। অনেক বিনিয়োগকারী এখন ব্যাংক আমানত বা বন্ডের দিকে ঝুঁকছেন।
এফবিসিসিআই সহ-সভাপতি প্রার্থী সাকিফ শামীম বলেন, “সুদহার বাড়া মানেই ব্যবসায়ীদের গলা টিপে ধরা।”
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা (এসএমই) সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন। আগে যেখানে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়া যেত, এখন সেখানে অনেক ক্ষেত্রেই ১৪-১৫ শতাংশ দিতে হচ্ছে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো দাবি তুলেছে, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো খাতে সুদহার কমানো উচিত।