মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল ও ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা সংঘাত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা বাড়িয়েছে। ফলে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলির মুদ্রার উপর চাপ তৈরি হয়েছে। তার মধ্যে ভারতীয় মুদ্রাও রয়েছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 4 March 2026 13:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার ডলারের বিরুদ্ধে ভারতীয় মুদ্রার বড়সড় পতন (Rupee Hits All Time Low Against US Dollar) ধরা পড়ল বাজারে। এদিন সকালে এক ডলারের তুলনায় 'রুপি' নেমে আসে ৯২ টাকা ১৭ পয়সায়। ইরান-ইজরায়েল সংঘাতে (Iran Israel Conflict) পরিস্থিতির অবনতি ও জ্বালানির দাম লাফিয়ে বাড়ায় আর্থিক বাজারে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা, তারই প্রভাব পড়েছে মুদ্রাবাজারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল ও ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা সংঘাত (Middle East Tensions) বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা বাড়িয়েছে। ফলে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলির মুদ্রার উপর চাপ তৈরি হয়েছে। তার মধ্যে ভারতীয় মুদ্রাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অশোধিত তেলের দামের হঠাৎ উত্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। আরব দুনিয়া বিশ্ব জ্বালানি রফতানির বড় অংশ জোগায়। সেখানে অস্থিরতা দেখা দিলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, যা সরাসরি প্রভাব ফেলে দামে। ইতিমধ্যেই সেই আশঙ্কা বাজারে প্রতিফলিত হয়েছে।
ভারত তার মোট প্রয়োজনের প্রায় ৮৫ শতাংশ অশোধিত তেল আমদানি করে। ফলে তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চস্তরে থাকলে আমদানি ব্যয় বাড়ে, মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হয় এবং চলতি হিসাবে ঘাটতি বাড়ার আশঙ্কা থাকে। এই সব কারণ মিলিয়ে মুদ্রার উপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে।
এর পাশাপাশি বিশ্ববাজারে ডলারের শক্তি বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করেছে। আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার সময়ে বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝোঁকেন। ডলার ও মার্কিন সরকারি ঋণপত্র সেই তালিকার শীর্ষে। ফলে পুঁজি উদীয়মান বাজার থেকে সরে গিয়ে ডলারের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
এই পুঁজি বহির্গমন মুদ্রার উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা যত বাড়ে, ততই উদীয়মান অর্থনীতির মুদ্রাগুলি দুর্বল হতে থাকে। ভারতীয় মুদ্রার সাম্প্রতিক পতন সেই বৃহত্তর প্রবণতারই প্রতিফলন।
এশিয়ার বিভিন্ন শেয়ার বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। আগের রাতের মার্কিন বাজারের দুর্বলতার পরে এশিয়ায় লেনদেন শুরু হয়েছে নিম্নমুখী সুরে। বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে অবস্থান কমাচ্ছেন।
আগামী দিনে আরব দুনিয়ার পরিস্থিতি ও অশোধিত তেলের দামের গতিপ্রকৃতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে বাজার। এই দুই উপাদানই নির্ধারণ করতে পারে ভারতীয় মুদ্রার পরবর্তী পথচলা।
গত জানুয়ারি মাসে এক পর্যায়ে ডলারের তুলনায় 'রুপি' নেমে এসেছিল ৯১.৯৮৫০-এ। এর ফলে তারও আগের সপ্তাহে তৈরি হওয়া সর্বনিম্ন রেকর্ড ৯১.৯৬৫০-ও ভেঙে যায়। এবার তো ৯২-ও টপকে গেল টাকার দাম।