Date : 16th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
বিরাট ঝড়ে লণ্ডভণ্ড লখনউ! রশিখ-ভুবনেশ্বরদের বোলিং দাপটে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে আরসিবি‘লালা প্যাড’ ও ১০ টাকার নোটের কারসাজি! কয়লা পাচারের অভিনব কৌশলে পর্দাফাঁস ইডিরটাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় তারেক রহমান, কেন তাঁকে বাছল খ্যাতনামা মার্কিন সাময়িকী?West Bengal Election 2026 | ‘ভবানীপুরে কেন শুভেন্দু’, ‘ফাটকা’র ব্যাখ্যায় দিলীপ ঘোষ‘অন্যের ভোট কেউ দিয়ে দেবে, সেটা আর হবে না’, মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি সার্চ নিয়েও মুখ খুললেন সিইওবাংলা নববর্ষের সূচনায় তারেকের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে হাসিনা পুত্রের অভিযোগ, দেশ বিদেশি প্রভুদের দখলেপুলিশ তো বটেই, সরকারি গাড়িতেও এবার তল্লাশি হবে! অবাধ ভোটের লক্ষ্যে নজিরবিহীন নির্দেশিকা এডিজি-রWest Bengal Election 2026 | ভোটের আঁচে ফুটছে মেদিনীপুরকর্নাটকে 'পিরিয়ড লিভ' এবার বাধ্যতামূলক! গোটা রাজ্যেই ১ দিন বেতন-সহ ছুটির নির্দেশ হাইকোর্টের'জয় বাংলা' স্লোগান শুনে মেজাজ হারালেন শুভেন্দু, তেড়ে গেলেন! বালি থানার আইসি-কে হুঁশিয়ারি

Real Diamond: 'এনগেজমেন্ট রিং'-এর ঝকমকে ডায়মন্ডটা নকল না তো! আসল হিরে চিনবেন কী করে, জেনে নিন

একজন ক্রেতা হিসেবে হিরের সরকারি ও স্বীকৃত সংজ্ঞা (how to know the diamond is real) জানা অত্যন্ত জরুরি। ফলে হিরে বা হিরের গয়না কেনার সময় আর দ্বিধা থাকবে না।

Real Diamond: 'এনগেজমেন্ট রিং'-এর ঝকমকে ডায়মন্ডটা নকল না তো! আসল হিরে চিনবেন কী করে, জেনে নিন

প্রতীকী ছবি

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 24 January 2026 12:57

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেউ হিরেকে ভবিষ্যতের বিনিয়োগ হিসেবে দেখেন, কেউ আবার শুধু গয়না হিসেবেই ব্যবহার করতে চান। দুই ক্ষেত্রেই প্রয়োজন একটাই - সেই 'পাথর'টি যেন ‘ডায়মন্ড’ই হয় (how to know the diamond is real)। প্রাকৃতিক আর ল্যাবে তৈরি হিরে (natural diamond vs lab diamond) নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিভ্রান্তি ছিল। তা দূর করতেই নতুন পরিভাষা ও সংজ্ঞা নিয়ে এসেছে ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (BIS)।

উদ্দেশ্য একটাই - প্রতিটি হিরে সম্পর্কে ক্রেতাদের মধ্যে পরিষ্কার একটা ধারণা (Diamond rules) তৈরি করা, যাতে সেটা বিনিয়োগ হোক বা শখপূরণ, কোনও বিভ্রান্তি যাতে না তৈরি হয়।

ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (BIS) কী?

এটি ভারতের জাতীয় মান নির্ধারণকারী সংস্থা। ভোক্তাদের সুরক্ষাই BIS-এর প্রধান দায়িত্ব। সেই কারণেই পণ্যের নিরাপত্তা ও গুণমান যাচাই করে শংসাপত্র দেয় এই সংস্থা। ISI মার্ক, গয়নার ক্ষেত্রে হলমার্ক, এবং বিভিন্ন কনফরমিটি অ্যাসেসমেন্ট স্কিম-এর মাধ্যমে BIS নিশ্চিত করে যে বাজারে পাওয়া পণ্য নির্ধারিত মান পূরণ করছে কি না।

আকার, স্বচ্ছতা ও কাটের উপর নির্ভর করে হিরের দাম পৌঁছে যেতে পারে কয়েক লক্ষ, এমনকী কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত। তাই একজন ক্রেতা হিসেবে হিরের সরকারি ও স্বীকৃত সংজ্ঞা জানা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, এখানে আপনি বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করছেন।

BIS-এর নতুন নিয়ম তথা ‘ডায়মন্ড’-এর সংজ্ঞা বদলানোর প্রয়োজন কেন ছিল?

ভারতের গয়না ও রত্ন শিল্পে বহুদিন ধরেই একটি বড় সমস্যা ছিল, হিরে ও তার বিকল্প নিয়ে ব্যবহৃত বিভ্রান্তিকর শব্দ। অনলাইন ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম সেই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে বোঝা কঠিন হয়ে উঠেছিল, ঠিক কোনটা প্রাকৃতিক হিরে আর কোনটা নয়।

এতদিন পর্যন্ত হিরের কোনও নির্দিষ্ট ও আনুষ্ঠানিক মানদণ্ড না থাকায়, ক্রেতারা অনেক ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতেন। সেই জায়গাতেই বড় পরিবর্তন আনল BIS-এর নতুন কাঠামো। এই নিয়মে স্পষ্ট করে আলাদা করে দেওয়া হয়েছে—কোনটা প্রাকৃতিক হিরে (Natural Diamond) আর কোনটা ল্যাবরেটরিতে তৈরি হিরে (Laboratory-grown Diamond)।

এই প্রসঙ্গে ন্যাচারাল ডায়মন্ড কাউন্সিল (NDC) স্বাগত জানিয়েছে BIS-এর জারি করা IS 19469:2025 মানদণ্ডকে। এটি আসলে আন্তর্জাতিক মান ISO 18323:2015 (Jewellery: Consumer Confidence in the Diamond Industry)-এর সংশোধিত ভারতীয় রূপ। এই উদ্যোগ একদিকে যেমন ক্রেতা সুরক্ষা জোরদার করবে, তেমনই ভারতীয় গয়না বাজারে স্বচ্ছতা বাড়াবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

নতুন নিয়মে কী কী বলা হয়েছে?

BIS-এর জারি করা নতুন নিয়ম অনুযায়ী,

‘ডায়মন্ড’ বা ‘হিরে’ শব্দটি শুধুমাত্র প্রাকৃতিক হিরের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যাবে। তাই গয়না বিক্রেতারা প্রাকৃতিক হিরের ক্ষেত্রে ‘real’, ‘natural’, ‘precious’, ‘genuine’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করতে পারবেন।

ল্যাবে তৈরি হিরের ক্ষেত্রে তা স্পষ্ট করে জানানো বাধ্যতামূলক।

সেক্ষেত্রে ব্যবহার করতে হবে, ‘laboratory-created diamond’, ‘lab-grown diamond’, ‘laboratory-grown diamond’,
‘LGD’ বা ‘lab-diamond’ - এই ধরনের পরিভাষা। ল্যাব-গ্রোন হিরের ক্ষেত্রে ‘pure’, ‘natural’, ‘cultured’ বা ‘earth-friendly’ শব্দ ব্যবহার করা যাবে না।

এমনকি যদি কোনও বিক্রেতা শুধু ব্র্যান্ড নাম ব্যবহার করেন, কিন্তু সেটি যে ল্যাব-গ্রোন হীরে তা স্পষ্ট না করেন, তাহলেও সেটিকে অপর্যাপ্ত তথ্য প্রকাশ (insufficient disclosure) হিসেবে ধরা হবে।

নতুন পরিভাষায় কী লাভ ক্রেতাদের?

এই নতুন নিয়ম ও পরিভাষা ক্রেতা এবং বিক্রেতা - দু’পক্ষের জন্যই বড় স্বস্তি। এখন ক্রেতারা জানবেন, ঠিক কোন দোকানে কী ধরনের হিরে পাওয়া যাচ্ছে। ফলে হিরে বা হিরের গয়না কেনার সময় আর দ্বিধা থাকবে না।

ন্যাচারাল ডায়মন্ড কাউন্সিলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রিচা সিং জানিয়েছেন, “এই মানদণ্ড বহুদিনের প্রতীক্ষিত স্বচ্ছতা এনে দিল। কেউ যখন হিরে কেনেন, তখন তাঁর জানার অধিকার আছে, তিনি ঠিক কী কিনছেন। পরিষ্কার, সৎ এবং বিভ্রান্তিহীন তথ্য ক্রেতার আস্থা বাড়ায়। কোন পাথরকে ‘ডায়মন্ড’ বলা যাবে, তা নির্দিষ্ট করে দেওয়ায় প্রাকৃতিক হিরের মূল্য ও বিশ্বাসযোগ্যতা দু’টিই সুরক্ষিত থাকবে।”


```