কের হেলথ ইনসিওরেন্সের ২০২৫ ট্রেন্ডস রিপোর্টে উঠে এল প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য, ডিজিটাল রিনিউয়াল ও সিনিয়র কেয়ারের বাড়তে থাকা গুরুত্ব।

শেষ আপডেট: 30 December 2025 18:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে স্বাস্থ্য বিমা (Health Insurance) নিয়ে মানুষের ভাবনাচিন্তায় বড়সড় পরিবর্তনের ছবি উঠে এল কেয়ার হেলথ ইনসিওরেন্স-এর (Care Health Insurance) প্রকাশিত ২০২৫ সালের বার্ষিক ট্রেন্ডস রিপোর্টে। এই রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে— দেশজুড়ে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যচর্চার (Preventive Health) প্রতি নজর, ডিজিটাল মাধ্যমে বিমা পরিষেবা ব্যবহারের প্রবণতা এবং পাশাপাশি, সিনিয়র সিটিজেনদের বিমা কভারেজের চাহিদাও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ক্রমবর্ধমান চিকিৎসা খরচের চাপ এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি সম্পর্কে বাড়তে থাকা সচেতনতার ফলে গত এক বছরে বিমা করানো সদস্যের সংখ্যা ২৭ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্ডাররাইটিং ইয়ার ২০২৩–২৪ থেকে ২০২৪–২৫-এর মধ্যে এই বৃদ্ধি কার্যত প্রমাণ করে, এখন ভারতীয় গ্রাহকরা আর শুধুমাত্র অসুস্থ হলে নয়, আগেভাগেই স্বাস্থ্য বিমার সুরক্ষা নিতে চাইছেন।
কেয়ার হেলথ ইনসিওরেন্সের চিফ অপারেটিং অফিসার মনীশ দোদেজা এই প্রসঙ্গে বলেন, “আমাদের বাৎসরিক ট্রেন্ডস রিপোর্ট স্পষ্ট করে দেখাচ্ছে, ভারতীয় স্বাস্থ্য বিমা গ্রাহকরা এখন অনেক বেশি সচেতন। তাঁরা প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য পরিষেবা ও লাইফস্টাইল কেয়ারের উপর জোর দিচ্ছেন। এই আচরণগত পরিবর্তন আমাদের পথ দেখাচ্ছে, যাতে আমরা এমন বিমা সমাধান তৈরি করতে পারি, যা গ্রাহকদের কাছে সহজ ও স্বচ্ছ। প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করে স্বাস্থ্য বিমাকে আরও বোধগম্য, সহজলভ্য ও ভবিষ্যৎমুখী করে তুলতেই আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
সব বয়সেই বাড়ছে বিমা কভারেজের অঙ্ক
রিপোর্টে বয়সভিত্তিক বিমা কেনার ধরণেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। প্রায় সব বয়সের গ্রাহকের ক্ষেত্রেই গড় বিমাকৃত অঙ্ক বা Sum Insured বেড়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, ০ থেকে ১৭ বছর বয়সি শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে গড় বিমার অঙ্ক ২০২৪–২৫ থেকে ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে ৭ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর অর্থ, পরিবারগুলি এখন তাদের সন্তানদের জন্য আগের তুলনায় বেশি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চাইছে।
অন্যদিকে, ১৮–৩৫ বছর বয়সি প্রথমবার বিমা নেওয়া গ্রাহকরা এখনও মোট পলিসিধারীদের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছেন। ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে এই বয়সের গ্রাহকরা মোট পলিসির ৩০ শতাংশেরও বেশি দখল করে রেখেছেন। এছাড়াও, ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সি সিনিয়র সিটিজেনদের অংশীদারিত্ব বেড়ে প্রায় ১৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা স্পষ্ট করে দিচ্ছে— বয়স্ক নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
কোন অসুখে বেশি ক্লেম?
রিপোর্টে দাবি নিষ্পত্তির (Claims Settlement) বিশ্লেষণেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। সবচেয়ে বেশি ক্লেম এসেছে যেসব অসুখে, সেগুলির মধ্যে রয়েছে, ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া ও সাধারণ ফ্লু, লাইফস্টাইল ডিজিজ যেমন শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ ও হৃদরোগ, ক্যানসার, আর্থ্রাইটিস ইত্যাদি।
এই তালিকা থেকে স্পষ্ট, একদিকে যেমন সংক্রামক রোগের প্রকোপ বাড়ছে, তেমনই লাইফস্টাইল ডিজিজ ও বয়স্কদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার দাবিও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ডিজিটাল মাধ্যমেই বিমার ঝোঁক
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও গ্রাহকদের আচরণে বড় বদল দেখা যাচ্ছে। চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ছ’মাসে, ওয়েবসাইটে বড় অঙ্কের বিমা ভিজিটের সংখ্যা গত তিন বছরে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
শুধু তাই নয়, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যচর্চার দিকেও নজর দিচ্ছেন গ্রাহকরা। কেয়ার হেলথের মোবাইল অ্যাপে থাকা স্টেপ ট্র্যাকিং ফিচার ব্যবহার করে রিনিউয়াল প্রিমিয়ামে ছাড় পাওয়ার সংখ্যা ২.৫ গুণ বেড়েছে।
অনলাইন রিনিউয়াল ও অ্যাপ ব্যবহারে জোয়ার
এখন স্বাস্থ্য বিমা রিনিউ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে পছন্দের মাধ্যম হয়ে উঠেছে অনলাইন পেমেন্ট। গত বছরে ডিজিটাল রিনিউয়াল প্রিমিয়াম দেওয়ার হার প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে।
কেয়ার হেলথ ইনসিওরেন্সের মোবাইল অ্যাপ— Care Health – Customer App ব্যবহার করেও পরিষেবা নেওয়ার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। ক্লেম ফাইল করা, পলিসি রিনিউ করা, হাসপাতাল নেটওয়ার্ক দেখা বা হেলথ চেক নির্ধারণ—সব কাজেই অ্যাপের ব্যবহার বাড়ছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, গত এক বছরে প্রায় ৩০ শতাংশ গ্রাহক অ্যাপের মাধ্যমে ক্লেম ফাইল করেছেন এবং ১৫ শতাংশেরও বেশি গ্রাহক মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে পলিসি রিনিউ করেছেন।
কমপ্রিহেনসিভ কভারেজেই ঝোঁক
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, আজকের গ্রাহক শুধু বেসিক স্বাস্থ্য বিমা নয়— টপ-আপ কভারেজ, OPD সুবিধা, ওয়েলনেস প্রোগ্রাম, টেলিকনসালটেশন, হোম কেয়ার এবং বিস্তৃত ক্যাশলেস হাসপাতাল নেটওয়ার্ক— সব দিক বিবেচনা করেই স্বাস্থ্য বিমা কিনছেন। এই প্রবণতাই দেখাচ্ছে, ভারতীয় গ্রাহক এখন আরও সচেতন, দূরদর্শী এবং ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে প্রস্তুত।