‘ডার্ক প্যাটার্ন’ প্রক্রিয়ায় গ্রাহকরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হন এবং পরোক্ষভাবে তা প্রতারণাও বটে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 8 June 2025 19:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে (e-commerce) ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করে লাভবান হওয়ার জন্য ব্যবহার করা ‘ডার্ক প্যাটার্ন’-এর বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় ক্রেতা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ (CCPA) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সব ই-কমার্স সংস্থাকে ৩ মাসের মধ্যে নিজেদের প্ল্যাটফর্ম থেকে এই বিভ্রান্তিকর ডিজাইন সরিয়ে ফেলতে হবে এবং একটি বিবৃতি দিতে জানাতে হবে যে, তাদের প্ল্যাটফর্মে কোনও ‘ডার্ক প্যাটার্ন’ নেই।
‘ডার্ক প্যাটার্ন’ (Dark pattern) আসলে কী?
‘ডার্ক প্যাটার্ন’ হল ডিজাইনের এমন ছলচাতুরী, যার মাধ্যমে ওই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হয়, যা তাঁরা সাধারণত নিতেন না। যেমন, অপ্রয়োজনীয় সাবস্ক্রিপশনে সাইন আপ করা, অতিরিক্ত জিনিস কেনা, অথবা লুকোনো চার্জে ফেঁসে যাওয়া।
এই প্রক্রিয়ায় গ্রাহকরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হন এবং পরোক্ষভাবে তা প্রতারণাও বটে। এটি এক ধরনের প্রতারণামূলক ডিজিটাল ইন্টারফেস বলা যেতে পারে।
সরকার কী নির্দেশ দিয়েছে?
১) সব ই-কমার্স সংস্থাকে নিজেদের প্ল্যাটফর্মে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ‘ডার্ক প্যাটার্ন’ চিহ্নিত করতে হবে এবং তা সরাতে বলা হয়েছে।
২) সংস্থাগুলিকে বিবৃতি দিতে বলা হয়েছে, যেখানে তারা নিশ্চিত করবে যে, তাদের প্ল্যাটফর্মে কোনও বিভ্রান্তিকর ডিজাইন নেই।
৩) যেসব সংস্থার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই গাইডলাইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাদেরকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
কোন কোন 'ডার্ক প্যাটার্ন' চিহ্নিত হয়েছে?
২০২৩ সালে প্রকাশিত গাইডলাইনে মোট ১৩টি ডার্ক প্যাটার্ন চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ:
১) ভুয়ো জরুরি অবস্থা (False Urgency)-
ক্রেতাকে তাড়াহুড়ো করিয়ে কিনতে বাধ্য করার জন্য যেমন বলা হয়, ‘মাত্র ২টি বাকি!’, ‘৩০ জন এখনই দেখছে!’। অথচ তথ্যটি হয়তো মিথ্যা বা তা বাড়িয়ে বলা হচ্ছে।
২) বাস্কেট স্নিকিং (Basket Sneaking)-
ব্যবহারকারীর অজান্তে অতিরিক্ত জিনিস বা পরিষেবা (যেমন: ডোনেশন, ইনস্যুরেন্স, সাবস্ক্রিপশন) কার্টে যোগ করা।
৩) নিশ্চিত হতে বাধ্য করা (Confirm Shaming)-
‘আমি নিরাপত্তাহীন থাকতে চাই’, ‘আমি ডোনেট করতে চাই না কারণ আমি কৃপণ’- এমন কিছু লেখা স্ক্রিনে দেখিয়ে ব্যবহারকারীকে মানসিক চাপে ফেলতে বাধ্য করা হয়।
৪) বাধ্যতামূলক কিছু অপশন (Forced Action)-
প্রয়োজনীয় নয় এমন অ্যাপ ডাউনলোড বা পরিষেবা নেওয়া বাধ্যতামূলক করা।
৫) সাবস্ক্রিপশনের ফাঁদ (Subscription Trap)-
সাবস্ক্রিপশন সহজে নেওয়া গেলেও বাতিল করার পদ্ধতি অত্যন্ত কঠিন করে রাখা।
৬) তথ্যে বিভ্রান্তি (Interface Interference)-
প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীর চোখের আড়ালে তথ্য রাখা বা ভুল বোঝাতে ডিজাইন করাও এর মধ্যে পড়ে।
৭) ভুল পণ্য বিক্রি (Bait and Switch)-
কেনার সময় একটি জিনিস দেখিয়ে অন্য একটি জিনিস বিক্রি করা। তা সাধারণত নিম্নমানেরই হয়ে থাকে।
৮) দামের ফারাক (Drip Pricing)
কোনও জিনিস কার্টে অ্যাড করার সময় মূল দাম লুকিয়ে বা কমিয়ে রাখা এবং শেষে কেনার সময় অতিরিক্ত খরচ চাপানো।
উদাহরণস্বরূপ কিছু বাস্তব চিত্র যার বেশিরভাগই হয়তো আপনার অভিজ্ঞতায় রয়েছে-
• ফ্লাইট বুকিংয়ে দেখানো হয় ৫,০০০ টাকা, কিন্তু পেমেন্টের সময় সেটা একধাপে ৫,৫০০ টাকা হয়ে যায়।
• ‘ফ্রি চেস গেম’ ডাউনলোডের ৭ দিন পর হঠাৎ জানা যায়, এর পর ব্যবহার করতে গেলে টাকা দিতে হবে।
• জিম মেম্বারশিপ নেওয়ার পর জানা যায়, সেখানে যেতে হলে আলাদা গ্লাভস বা জুতো কিনতে হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের নিজেদের থেকেই কিনতে হতে পারে।
সরকার ক্রেতা সুরক্ষার স্বার্থে এই ধরনের নানা ডার্ক প্যাটার্ন বন্ধ করতে নড়েচড়ে বসেছে। — কেন্দ্রীয় গ্রাহক সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ (CCPA) তাদের নির্দেশে স্পষ্ট জানিয়েছে, ‘ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলিকে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করা বন্ধ করতে হবে। তাদের ডিজাইন এমন হতে হবে, যাতে গ্রাহক নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, এতে যেন তাঁদের মনে কোনওরকম চাপ সৃষ্টি না হয় বা প্রতারণার শিকার না হন।’