ভারতের বাজারে গহনা সোনার দাম ইতিমধ্যেই লাখ টাকা ছাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অদূর ভবিষ্যতে সোনার দাম পেরতে পারে ৩ লাখের গণ্ডি। অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও বিশ্বব্যাপী সোনা কেনার প্রবণতাই এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 21 September 2025 11:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোনার দাম ইতিমধ্যেই পেরিয়ে গিয়েছে ১ লক্ষ টাকার গণ্ডি। আর এবার আন্তর্জাতিক অর্থনীতির অস্থিরতার প্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, আগামী দিনে সোনার দাম আরও চড়তে পারে। তাঁদের আশঙ্কা, ১০ গ্রাম সোনার দাম ভারতীয় বাজারে ৩ লাখ টাকাও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
২০২৫ সালে এখনও পর্যন্ত ৪৩ শতাংশ দাম বেড়েছে সোনার। ২০২১ সালের জানুয়ারির সঙ্গে তুলনা করলে বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ১২৬ শতাংশে। অন্য কোনও অ্যাসেট ক্লাস এত রিটার্ন দিতে পারেনি। আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্সিয়াল সংস্থা সুইস এশিয়া ক্যাপিটাল জানিয়েছে, অদূর ভবিষ্যতে প্রতি আউন্স সোনার দাম পৌঁছতে পারে ৮,০০০ মার্কিন ডলারে। এই পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে ভারতীয় বাজারে ১০ গ্রাম সোনার দাম ৩ লাখ ছাড়াবে।
কেন বাড়ছে সোনার দাম?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বৃদ্ধির কারণ শুধু মুদ্রাস্ফীতি নয়। বিশ্ব অর্থনীতির বড় পরিবর্তনই মূল চালিকাশক্তি। একদিকে শেয়ার বাজার ও বন্ড দুর্বল, অন্যদিকে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলোর সোনা কেনার প্রবণতা সোনাকে আবারও ‘নিরাপদ আশ্রয়’-এর জায়গায় বসিয়েছে।
চিনের কৌশল ও ডলারের বিকল্প সন্ধান
সোনার এই চড়চড়িয়ে দাম বাড়ার পিছনে বড় ভূমিকা নিয়েছে চিন। যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক আধিপত্য কমাতে ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা জোরদার করতে ক্রমাগত সোনা কিনছে বেজিং। বর্তমানে তাদের হাতে প্রায় ২,৩০০ টন সোনা মজুত। লক্ষ্য, ৫,০০০ টন সংগ্রহ করে জার্মানিকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে ওঠা। তুলনায় আমেরিকার কাছে রয়েছে ৮,১৩৩ টন সোনা। চিনের এই পদক্ষেপ আসলে ডলারের উপর নির্ভরতা কমানোর কৌশল। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ডলার প্রধান আন্তর্জাতিক মুদ্রার মর্যাদা হারায়, সোনা হয়ে উঠবে বিকল্প শক্তি।
বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির প্রভাব
ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমাতে পারে—এমন ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই এসেছে। সুদের হার কমলে দুর্বল হয় ডলার, বাড়ে সোনার দাম। তার সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও এশিয়া-প্যাসিফিকের টানাপোড়েন বিনিয়োগকারীদের সোনার দিকে আরও বেশি টেনে নিচ্ছে।
এছাড়া, এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড (ETF)-এর মাধ্যমে বিপুল বিনিয়োগও সোনার দাম বাড়াচ্ছে। কেবল ২০২৫ সালের প্রথমার্ধেই ETF-এ ঢুকেছে ২১ বিলিয়ন ডলার।
জোগান বনাম চাহিদা
প্রতি বছর বিশ্বের খনিগুলো থেকে প্রায় ৩ হাজার টন সোনা উত্তোলিত হয়। এর ২৫-৩০ শতাংশ কিনে নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলো। এর ফলে বাজারে জোগান কমে যায়, দাম বাড়ে আরও দ্রুত।
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে ভারতের বাজারেও সরাসরি প্রভাব পড়ে। তবে টাকার তুলনায় ডলারের দাম বাড়ায় এখানে সোনার দাম অনেক সময়ে আরও দ্রুত ওঠে। ভারতীয় পরিবারগুলির কাছে আনুমানিক ২৫ হাজার টনেরও বেশি সোনা মজুত রয়েছে। তাই সোনার দাম বৃদ্ধির প্রভাব ভারতের অর্থনীতিতে প্রবল।
তবে সতর্কবার্তাও রয়েছে। ইতিহাস বলছে, অল টাইম হাই-এর পর সোনার দাম প্রায়ই ১০-২০ শতাংশ নেমে আসে। তাই খুচরা বিনিয়োগকারীদের জন্য এককালীন বড় বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান (SIP), সোভেরেইন গোল্ড বন্ড বা ডিজিটাল গোল্ডের মতো বিকল্পের পরামর্শ দিচ্ছেন। এতে ঝুঁকি কমে ও সুবিধা বাড়ে।
কলকাতায় আজ সোনার দাম