অসমের (Assam) শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা (Civil Service Officer) নূপূর বোরার (Nupur Bora) বাড়ি থেকে ২ কোটি টাকা নগদ (2 crore cash) ও সোনা উদ্ধার। ছ'মাস নজরদারির পরে অবশেষে গ্রেফতার তিনি।

নূপুর বোরা।
শেষ আপডেট: 16 September 2025 12:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অসম সিভিল সার্ভিস (এএসসি) অফিসার নূপূর বোরাকে নিয়ে হইচই। কারণ তাঁর গুয়াহাটি ও বরপেটা জেলার দু'টি বাড়ি থেকে মোট প্রায় ২ কোটি টাকার নগদ ও সোনার গয়না উদ্ধার হওয়ার পরে তাঁকে সোমবার গ্রেফতার করেছে বিশেষ ভিজিল্যান্স সেল।
জানা গেছে, এই অভিযানে নূপুরের গুয়াহাটির বাড়ি থেকে পাওয়া গেছে ৯২ লাখ টাকা নগদ এবং প্রায় ১ কোটি টাকার গয়না। বরপেটার ভাড়া বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে আরও ১০ লাখ টাকা নগদ।
১৯৮৯ সালের ৩১ মার্চ গোলাঘাট জেলায় জন্মান নূপুর। শিক্ষাজীবনে তিনি গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে গ্র্যাজুয়েশন করেন। এর পরে ২০১৯ সালে তিনি অসম সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। তার আগে তিনি ডিস্ট্রিক্ট ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (ডায়েট)-এ লেকচারার হিসেবে কাজ করতেন।
এর পরে প্রশাসনিক জীবন শুরু হয় ২০১৯ সালের মার্চে। তাঁকে কার্বি আংলং জেলার অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদে নিয়োগ করানো হয়। জুন ২০২৩ পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পালনের পর তাঁকে বরপেটায় সার্কেল অফিসার হিসেবে বদলি করা হয়। এরপর কামরূপ জেলায় বদলি হন।
তিনি বর্তমানে কামরূপ জেলাতেই গোরোয়মারিতে সার্কেল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সরকারি চাকরিতে মাত্র ছ'বছর কাটিয়েই নূপূর বোরা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ। তাঁর আয় সরকারি বেতনের তুলনায় অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। জমি, নগদ অর্থ ও অন্যান্য সম্পত্তি সংগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষ ভিজিল্যান্স সেল তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত বরপেটা রেভিনিউ সার্কেল অফিসের কর্মী সুরজিত ডেকার বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছে। অভিযোগ, বরপেটায় সার্কেল অফিসার থাকাকালীন নূপূর বোরার সহযোগিতায় একাধিক জমি কিনেছেন তিনি।
এই ঘটনায় অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, নূপূর বোরার উপর ছ'মাস ধরে নজর রাখা হচ্ছিল। অভিযোগ, তিনি বিতর্কিত জমি-সংক্রান্ত মামলায় জড়িত ছিলেন। বর্তমানে গোটা বিষয়টি তদন্তাধীন। এর সঙ্গে আরও অনেকে যুক্ত থাকতে পারেন বলেও মনে করা হচ্ছে।
তদন্তের বর্ণনা দিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, নূপুর বোরার বিরুদ্ধে দফায় দফায় জমি বেচাকেনা সংক্রান্ত অভিযোগ আসছিল দফতরের কাছে। তিনি আরও বলেন, বরপেটা জেলায় সার্কল অফিসার হিসেবে কাজ করার সময় নূপুর বোরার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী যাঁকে তিনি মিয়া নামে উল্লেখ করেছেন, তাঁর নামে সরকারি ও সাতরা জমির রেজিস্ট্রেশন করিয়েছেন।
অসম ও বাংলাদেশে বাংলাভাষী মুসলিমদের মিয়া মুসলিম বলে। যাদেরকে বিজেপি নিশানা করেছে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বলে। এরা সকলেই বাংলাদেশ থেকে গোপনে এদেশে এসে ঢুকেছে বলে বিজেপির দাবি। এই জনসংখ্যার লোকজন প্রকৃত অসমিয়া বাসিন্দাদের জমি-ঘরদোর কেড়ে নিচ্ছে বেদখল করছে বলে বিজেপি প্রচার করছে।
সোমবার ভোর থেকে শুরু হওয়া তল্লাশি অভিযান এখনও চলছে। স্থানীয় একটি সংগঠন কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতির শিবসাগরের বিধায়ক অখিল গগৈ এই অফিসারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, নূপুর জমি কেনাবেচা ও রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিষয়ে একটি রেট কার্ড তৈরি করেছিলেন। যেখানে ঘুষের পরিমাণ ১৫০০ টাকা থেকে ২ লক্ষ টাকার পর্যন্ত ছিল। অভিযোগ, এই টাকা জমির রেকর্ডে নাম অন্তর্ভুক্তি ও বিয়োজনের জন্য নিতেন নূপুর।