ধনতেরাস থেকে দুর্গাপুজো পর্যন্ত সোনার হঠাৎ ওঠানামা জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের চিন্তায় ফেলেছে; রপ্তানি শুল্ক ও বৈশ্বিক অস্থিরতা বাজারে প্রভাব ফেলছে।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 22 September 2025 19:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজো থেকে ধনতেরাস – উৎসবের মরশুম মানেই সোনার বাজারে কেনাবেচার জোয়ার। কিন্তু এবার সোনার দামে ব্যাপক ওঠানামা ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কেই চিন্তায় ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, ডলারের দামের পরিবর্তন এবং দেশের অর্থনৈতিক চাপ সোনার দামে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ফলে অনেকেই সোনার গয়না কেনার পরিকল্পনা পিছিয়ে দিচ্ছেন, কেউ আবার বিনিয়োগেও সতর্ক হচ্ছেন।
সোনার দামের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি
সম্প্রতি বাংলাদেশে টানা আট দফা দাম বাড়ার পর অবশেষে ১৭ সেপ্টেম্বর সোনার দাম কিছুটা কমানোর ঘোষণা করে বাজুস। এর পরদিন আন্তর্জাতিক বাজারে সামান্য পতনের কারণে ভারতীয় বাজারেও দামে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে এই দাম কমা বেশিদিন থাকবে কিনা তা বলা মুশকিল। গত এক বছরে সোনার দাম ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে, ২০২৫ সালে এই বৃদ্ধি প্রায় ৪৩ শতাংশ। বর্তমানে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১ লক্ষ টাকা ছাড়িয়েছে, আর ২২ ক্যারেটও প্রায় একই স্তরে রয়েছে।
জুয়েলারি শিল্পের বিপর্যয়
সোনার এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধাক্কা। উচ্চ দামের কারণে বিক্রি কমে যাচ্ছে, শ্রমিকরাও কাজ হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। অল ইন্ডিয়া জেম অ্যান্ড জুয়েলারি ডোমেস্টিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সাইয়াম মেহরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ফলে সুরাট, জাভেরি বাজার এবং কলকাতার প্রায় ১.৭৫ লক্ষ শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতের সোনার চাহিদা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম হতে পারে।
মার্কিন শুল্কের ধাক্কা
সম্প্রতি আমেরিকা ভারতীয় রত্ন ও গয়নার উপর ৫০% শুল্ক ঘোষণা করেছে। এর ফলে রফতানি ৪০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে, যা সরাসরি লক্ষাধিক শ্রমিকের জীবিকাকে প্রভাবিত করবে। তবে শিল্পপতিরা বলছেন, বিকল্প বাজার খুঁজে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করা হবে।
ক্রেতাদের প্রভাব ও পছন্দের বদল
উৎসব ও বিয়ের মরশুমে সাধারণত সোনা কেনার প্রবণতা বাড়ে, কিন্তু উচ্চ দাম ক্রেতাদের দ্বিধায় ফেলছে। অনেকেই ভারী গয়না বাদ দিয়ে হালকা গয়না বা কয়েন কিনছেন। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দাম সামান্য কমলেও বড় কেনাকাটার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। আমদানি শুল্ক ও জিএসটি যোগ হওয়ায় খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে অনেক বিনিয়োগকারী এখন পুরনো গয়না বিক্রি করে লাভ তুলছেন।
বিশেষজ্ঞদের মত
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত সোনার দাম খুব একটা কমবে না। বরং আরও কিছুদিন দাম উঁচুতেই থাকতে পারে। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা বাড়লে সোনার দাম আরও বাড়তে পারে এবং আগামী বছরগুলিতে প্রতি ১০ গ্রামে ২.৪০ থেকে ৩.৬১ লাখ টাকায় পৌঁছতে পারে। যদিও কিছু বিশ্লেষক নিকট ভবিষ্যতে ২-৫ শতাংশ দামের পতনের সম্ভাবনা দেখছেন।
ভবিষ্যতের ছবি
দীর্ঘমেয়াদী হিসেবে ২০২৫ সালে সোনার দাম প্রতি আউন্স ৩,৪০০ ডলার ছুঁতে পারে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৫,০০০ ডলার হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, ক্রেতাদের উচিত বাজারের দিক নজরে রেখে সোনা কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া। দাম কমলে বিনিয়োগের ভালো সময় হতে পারে, আর দীর্ঘমেয়াদে সোনা এখনও নিরাপদ বিকল্প।
'দ্য ওয়াল' এই বিষয়বস্তুর প্রচারক নয়; এটি কেবল তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে।