Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
সরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র

কম্পিউটার থেকে মোবাইল, দেশেই তৈরি হবে চিপ, শীঘ্রই বাণিজ্যিক উৎপাদনে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর শিল্প

কম্পিউটার থেকে মোবাইল, ডিজিটাল পণ্যের অপরিহার্য চিপ এবার তৈরি হবে দেশেই। শীঘ্রই ভারতে বাণিজ্যিক ভাবে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন শুরু হতে চলেছে বলে জানাল কেন্দ্র।

কম্পিউটার থেকে মোবাইল, দেশেই তৈরি হবে চিপ, শীঘ্রই বাণিজ্যিক উৎপাদনে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর শিল্প

কলকাতায় মার্চেন্টস চেম্বার অফ কমার্সের অনুষ্ঠানে

শেষ আপডেট: 16 January 2026 18:48

দেবপ্রিয় সেনগুপ্ত

দেশে শীঘ্রই বাণিজ্যিকভাবে সেমিকন্ডাক্টর তৈরি শুরু হয়ে যাবে। বাণিজ্যিকভাবে অর্থাৎ বাজারে সেই সেমিকন্ডাকটর কেনা বেচা হবে। যা দিয়ে তৈরি করা হবে ডিজিটাল পণ্যের অত্যাবশ্যক যন্ত্রাংশ 'চিপ'।

সম্প্রতি কলকাতায় মার্চেন্টস চেম্বার অফ কমার্সের অনুষ্ঠানের ফাঁকে সেমিকন্ডাক্টর কারখানাগুলির অগ্রগতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এই বার্তা দিয়ে গেলেন কেন্দ্রীয় বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এস কৃষ্ণন। দৌড়ে কারা এগিয়ে রয়েছে, জানতে চাইলে তিনি জানান, মাইক্রন টেকনোলজি ও কেনস টেকনোলজি কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাণিজ্যিকভাবে আধুনিক যন্ত্রাংশ তৈরির এ মূল উপাদানটি উতপাদনের কথা ঘোষণা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।  

প্রসঙ্গত, সেমিকন্ডাক্টর একটি বিশেষ ধরনের বৈদ্যুতিন উপাদান। আধুনিক বৈদ্যুতিন প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান উন্নতির জেরে এই উপাদান ও তা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন যন্ত্রাংশের (মূলত চলতি কথায় চিপ) চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। কম্পিউটার তো ছিলই, মানব সভ্যতায় যত ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে, ততই বাড়ছে এটির চাহিদা। যেমন মোবাইল ফোন, ডিজিটাল ক্যামেরা, টিভি, ওয়াশিং মেশিন, ফ্রিজ, এমনকি এলইডি বাল্বের ক্ষেত্রেও প্রয়োজন পড়ছে এই সেমিকন্ডাক্টরের।

যেমন গাড়ির দরজা খোলা থেকে নানা যন্ত্রাংশ এখন ডিজিটাল প্রযুক্তি নির্ভর। আর তখনই প্রয়োজন হয় এই বৈদ্যুতিন উপাদান থেকে তৈরি যন্ত্রাংশ বা সরঞ্জামের।

কিন্তু ভারতকে এই চাহিদা প্রায় পুরোটাই মেটাতে হয় তাইওয়ান, চিন, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুরের মতো দেশ থেকে আমদানি করে। আগামী দিনে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাত্রা বৃদ্ধির সম্ভাবনায় দেশে এটির উৎপাদনে লগ্নির আহ্বান জানিয়েছিল কেন্দ্র। তাতেৃ মার্কিন বহুজাতিক সংস্থা মাইক্রন টেকনোলজির পাশাপাশি টাটা গোষ্ঠী, বেদান্ত, কেনস টেকনোলজি-সহ একাধিক  শিল্পগোষ্ঠী বা সংস্থা বিনিয়োগের বার্তা দিয়ে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের মাধ্যমে লগনি করেছে দেশে। এর মধ্যে কয়েকটি ইতিমধ্যেই পাইলট প্রকল্পও চালু করেছে।

কৃষ্ণন জানান, মাইক্রন এবং কেনস টেকনোলজি শীঘ্রই পরবর্তী ধাপে মূল বাণিজ্যক ভাবে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন শুরু করবে। সংস্থাগুলি নিজেরাই সেই ঘোষণা করতে পারে।

ভারত এখন কার্যত সম্পূর্ণভাবে সেমিকন্ডাক্টরের জোগানের জন্য আমদানির উপরে নির্ভর করায় ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা (যেমন চিনের সঙ্গে সংঘাত বা চিন-তাইওয়ানের মধ্যে উত্তেজনা) বা অন্যান্য কারণে সেটির সরবরাহ মাঝে মধ্যেই বিঘ্নিত হয়। ফলে সেই গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের অভাবে যেমন বৈদ্যুতিন সরঞ্জামের উৎপাদন চাহিদা মতো তৈরি করা যায়নি, তেমনই সেমিকন্ডাক্টরের দামেও ভারসাম্য না থাকায় এ দেশে পণ্যের দাম সস্তা হয়নি। দেশেই সেমিকন্ডাক্টর তৈরি হলে যেমন চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্য অনেকটাই বজায় রাখা সহজ হবে, তেমনই আমদানি নির্ভরতা কমলে সেটি কম খরচেও মিলবে। সে ক্ষেত্রে তা দিয়ে তৈরি বৈদ্যুতিন পণ্যও সহজলভ্য ও সস্তা হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।

বণিকসভার ওই অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় সচিব জানান, রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে যৌথভাবে আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর ডেটা সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রের। পশ্চিমবঙ্গে যেমন তিনটি এমন কেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত করেছেন তাঁরা। এ জন্য মোট খরচ হবে ২০ কোটি টাকা। যার মধ্যে ৮ কোটি টাকা দেবে কেন্দ্র। এমন পরিকাঠামো গড়ার ক্ষেত্রে বেসরকারি ক্ষেত্রকেও এগিয়ে আসতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

এআই কর্মসংস্থানে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছেই। যদিও কৃষ্ণনের মতে, মূলত অফিসে কর্মরত বিশেষভাবে দক্ষ, পেশাদার কর্মীদের ক্ষেত্রে এআই কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। যে কাজকে কাজের বাজারে হোয়াইট কলার জব বলা হয়। পশ্চিমী দুনিয়ার চেয়ে ভারতে এমন কর্মসংস্থান কম। তাই এ দেশে এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে এখনই তত আশঙ্কার কিছু নেই। বরং ছোট শিল্প থেকে নানা ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগানো সম্ভব।

তাই এখনই এ ক্ষেত্রে কোনও নিয়ম বেঁধে দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করে সেই উদ্ধাবনী ভাবনার অগ্রগতিকে তাঁরা বাধা দিতে চান না। তাই নজরদারি রেখে একটা মধ্যপন্থা নিচ্ছে ভারত।


```