যুদ্ধের বল আগামী দিনে কোনদিকে গড়াবে, তার উপর বাকিটা নির্ভর করছে। তবে সব মিলিয়ে হোটেল বা রেস্তরাঁগুলি আপাতত অতিথিদের স্বাগত জানাতে বরাবরের মতোই তৈরি। সেই সঙ্গে পরিস্থিতির সঙ্গে যুঝে চলতে চাইছে এই ব্যবসামহল।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 8 March 2026 15:30
পটলডাঙ্গার টেনিদার অন্যতম শিষ্য তথা ভোজনরসিক হাবুলের চিন্তা করার এখনও তেমন কিছু নেই। শহরের রেস্তরাঁ বরাবরের মতো ঠিক তালেই চলছে। অন্তত এখনও।
ছোটদের নানা পরীক্ষা পর্ব হয় শেষ বা শেষের মুখে। ফলে সপ্তাহান্তের (weekend) ছুটির দিনে রাজ্যের হোটেল-রেস্তরাঁয় অতিথিদের ভিড় আরও কিছুটা যখন বাড়বে বলে আশা, তখনই সুদূর পশ্চিম এশিয়া বা আরব দুনিয়ায় মুহুর্মুহু যুদ্ধের (Middile East crisis) দামামা ভোজনরসিকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে। রান্নাঘরে উনুনের জ্বালানি, গ্যাসের যোগানে নাকি রাশ (fuel cost increase due to middle east crisis) পড়ছে, এমন চর্চায় অনেকেই ভাবছেন পছন্দের রেস্তরাঁয় গিয়ে কী দেখবেন! নাকি খাবার অর্ডার দেওয়ার পর রান্না হতে সময় বেশি লাগবে জ্বালানিতে টান পড়লে (restaurants service during increased fuel cost)!
তেল ও গ্যাসের যোগান নিয়ে সামান্য হলেও আশঙ্কা ছড়াচ্ছে ঠিকই। কিন্তু পূর্বাঞ্চলের হোটেল ও রেস্তরাঁগুলির সংগঠনের (Hotel and Restaurants Association of Eastern India, HRAEI) কর্তাদের আশ্বাস, এখনও জ্বালানিতে কোনও টান নেই। রান্নার জন্য বাণিজ্যিক গ্যাস অন্য সময়ের মতোই মিলছে। ফলে রেস্তরাঁর ঝাঁপ বন্ধের কোনও প্রশ্নই এখনও উঠছে না। অর্ডার দিলে আগের মতো ঠিক সময়ই টেবিলে এসে যাবে অতিথিদের সেই সব পছন্দসই খাবার। আর গ্যাসের দামও বাড়লেও (recent gas cylinder price hike) রেস্তরাঁর মেনুর দাম একই থাকছে।
সংশ্লিষ্ট মহল সূত্রের খবর, আগে গৃহস্থের গ্যাসের সিলিন্ডার (১৪.২ কেজি) যোগানের জন্য তেল সংস্থাগুলির বটলিং প্ল্যান্টে জোর দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া একসঙ্গে অনেক সিলিন্ডারের যে বিরাট বরাত ( bulk order) দেওয়া হয়, সেটিতে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। কিন্তু স্বাভাবিক রীতি অনুযায়ী, বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারেরও (১৯ কেজি) এক থেকে দেড় মাসের চাহিদার মতো মজুত ভান্ডার রয়েছে। এছাড়া সেই গ্যাসের যোগান ও চালু রয়েছে। ফলে গৃহস্থের মতোই হোটেল-রেস্তরাঁর রান্নাঘরে সিলিন্ডারের যোগান চলছে, জানিয়েছেন এইচআরএইআইয়ের প্রেসিডেন্ট তথা মন্থন বার এন্ড রেস্তরাঁর ডিরেক্টর সুদেশ পোদ্দার।
তবে সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের দাবি, হোটেল ও রেস্তরাঁগুলির কেউ কেউ যোগানের আশঙ্কায় বাড়তি বরাত দিচ্ছে গ্যাসের ডিস্ট্রিবিউটরদের। ফলে বাজারে একটা 'কৃত্রিম' যোগান-সঙ্কট আগামী দিনে তৈরি হওয়ার সম্ভব উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে সুদেশবাবু বলেন, “ আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি, বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার এখনও পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। যোগানও রয়েছে। তাই কোনও আশঙ্কায় এলপিজি বিক্রেতাদের কাছে এখনই প্রয়োজনের চেয়ে দ্বিগুণ বা তিনগুণ সিলিন্ডারের অর্ডার না দিতে আমরা আমাদের সদস্য হোটেল-রেস্তরাঁগুলিকে বার্তা দিয়েছি।”
একই দাবি সংগঠনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তথা আমিনিয়া রেস্তরাঁর পার্টনার মহম্মদ আজহারেরও। তিনি বলেন, “আমাদের বিভিন্ন শাখায় গড়ে তিন-চারদিন পরপর সিলিন্ডার লাগে। সেই পরিস্থিতির কোনও অবনতি ঘটেনি। আন্তর্জাতিক অবস্থার প্রেক্ষিতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে।”
বাণিজ্যিক গ্যাসের দামও শনিবার থেকে আচমকা বেড়েছে। তবে আজহারের দাবি, শুধু জ্বালানি নয়, রান্নার অন্যান্য কিছু পণ্যের দাম বাড়লেও খাবারের দাম তাঁরা বাড়াচ্ছেন না। সেই বাড়তি খরচ নিজেরাই বইছেন, ক্রেতাদের উপর চাপাচ্ছেন না।
যুদ্ধের যা পরিস্থিতি, এখনই তাতে কোনও রকম ছেদ পড়ার ইঙ্গিত মেলেনি। তাই রান্নার গ্যাসের চাহিদা সামান্য কিছু হলেও কমানোর লক্ষ্যে বিকল্প জ্বালানি ও সরঞ্জাম ব্যবহারের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন সুদেশ, আজহারেরা। সুদেশ বলেন, “আমাদের কর্মীদের নিজস্ব পানীয় যেমন চা করার জন্য বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম ( ইন্ডাকশন) ব্যবহারের কথা ভাবা যেতে পারে। এ নিয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছি।”
যুদ্ধের বল আগামী দিনে কোনদিকে গড়াবে, তার উপর বাকিটা নির্ভর করছে। তবে সব মিলিয়ে হোটেল বা রেস্তরাঁগুলি আপাতত অতিথিদের স্বাগত জানাতে বরাবরের মতোই তৈরি। সেই সঙ্গে পরিস্থিতির সঙ্গে যুঝে চলতে চাইছে এই ব্যবসামহল।