দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাঙ্ক এইচডিএফসি-র (HDFC Bank) শেয়ারে বড়সড় ধস নামল। বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্কের শেয়ারের দামে হঠাৎ পতনের জেরে একদিনেই প্রায় ১ লক্ষ কোটি বাজার মূলধন উধাও হয়ে যায়। এতে বড় ধাক্কা খেয়েছেন LIC, বিদেশি বিনিয়োগকারী (FII) থেকে শুরু করে সাধারণ খুচরো বিনিয়োগকারীরাও।

শেষ আপডেট: 19 March 2026 13:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাঙ্ক এইচডিএফসি-র (HDFC Bank) শেয়ারে বড়সড় ধস নামল। বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্কের শেয়ারের দামে হঠাৎ পতনের জেরে একদিনেই প্রায় ১ লক্ষ কোটি বাজার মূলধন উধাও হয়ে যায়। এতে বড় ধাক্কা খেয়েছেন LIC, বিদেশি বিনিয়োগকারী (FII) থেকে শুরু করে সাধারণ খুচরো বিনিয়োগকারীরাও।
কী ঘটেছে?
বুধবার রাতেই ব্যাঙ্কের পার্ট-টাইম চেয়ারম্যান অতনু চক্রবর্তীর (Atanu Chakraborty) ইস্তফার খবর জানা যায়। ‘নৈতিকতা ও মূল্যবোধ’ সংক্রান্ত মতপার্থক্যের জেরে এই বাঙালি ব্যাঙ্কার পদত্যাগ হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরই বিনিয়োগকারীদের আস্থা নড়ে যায়।
বৃহস্পতিবার বাজার খোলার পরই এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের (HDFC Bank) শেয়ার প্রায় ৮% পড়ে গিয়ে ৫২ সপ্তাহের সর্বনিম্ন ৭৭২ টাকায় নেমে আসে (BSE)।আগের দিন ক্লোজিং ছিল ৮৪২.৯৫ টাকা।
এই ধসের জেরে ব্যাঙ্কটির মোট বাজার মূলধন কমে দাঁড়ায় ১১.৮৮ লক্ষ কোটি, যা বুধবারের ১২.৯৬ লক্ষ কোটি থেকে অনেকটাই কম। অর্থাৎ একদিনেই ১ লক্ষ কোটির বেশি সম্পদ উবে গেছে।
মার্চ মাস জুড়েই শেয়ারের দাম পড়েছে প্রায় ৯%—গত ছয় বছরে যা সবচেয়ে খারাপ মাসিক পারফরম্যান্সের দিকে এগোচ্ছে।
এই পতনের প্রভাব পড়েছে প্রায় সব ধরনের বিনিয়োগকারীর উপর। সংবাদমাধ্যম লাইভমিন্ট জানিয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা (FII) সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেয়েছে। তাদের মোট ক্ষতি প্রায় ৪৫,০৭২ কোটি (শেয়ারহোল্ডিং ~৪৭.৭০%) টাকা।
এলআইসি-র (LIC) ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪,৫১০ কোটি টাকা (৪.৭৭% শেয়ার)। মিউচুয়াল ফান্ডে মোট ক্ষতির অঙ্ক প্রায় ২৫,২০৯ কোটি টাকা। খুচরো বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৮,৯০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়াও সিঙ্গাপুর সরকারের প্রায় ২,১৫০ কোটি টাকা, ভ্যানগার্ড ফান্ডে প্রায় ১,১৭৬ কোটি টাকা ও নরওয়ের সোভেরেন ওয়েলথ ফান্ডের প্রায় ১,১৫১ কোটি ক্ষতি হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাঙ্কের অন্তর্বর্তী চেয়ারম্যান কেকি মিস্ত্রি জানান, ব্যাঙ্কের ভিতরে কোনও ক্ষমতার লড়াই নেই। বিষয়টি মূলত ব্যক্তিগত সম্পর্কজনিত সমস্যা হতে পারে।
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)-ও জানিয়েছে, HDFC Bank আর্থিকভাবে স্থিতিশীল এবং তার তারল্য যথেষ্ট। বর্তমানে ব্যাঙ্কের পরিচালনা বা গভর্ন্যান্স নিয়ে কোনও বড় উদ্বেগ নেই।
দিনের নিম্নস্তর থেকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও শেয়ার এখনও চাপে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টেকনিক্যাল চার্টে এখনও নিম্নমুখী প্রবণতাই স্পষ্ট। বর্তমানে ৭৫০ টাকার আশেপাশে সাপোর্ট থাকতে পারে, আর ৮৫০ টাকার কাছে রেজিস্ট্যান্স দেখা যেতে পারে। নতুন করে বিনিয়োগে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে, হঠাৎ নেতৃত্ব পরিবর্তনের জেরে HDFC Bank-এ এই ধাক্কা বাজারে বড় বার্তা দিল—বিনিয়োগকারীদের আস্থা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা ফের প্রমাণিত হল এই ঘটনায়। তথ্যসূত্র: Livemint
Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। বিনিয়োগ সংক্রান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অনুগ্রহ করে স্বীকৃত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন)।