২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাঙ্ক হিসেবে যাত্রা শুরু করা বন্ধন ব্যাঙ্ক বর্তমানে দেশের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল প্রাইভেট ব্যাঙ্ক।

শেষ আপডেট: 18 July 2025 19:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে বন্ধন ব্যাঙ্ক। তারা জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে তাদের মোট ব্যবসা ১১% বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লক্ষ ৮৮ হাজার কোটি টাকায়। খুচরো আমানতের অংশ এখন ব্যাঙ্কের মোট আমানতের প্রায় ৬৮ শতাংশ, যা গ্রাহকদের উপর প্রতিষ্ঠিত আস্থারই পরিচায়ক।
এই বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে ব্যাঙ্কের বিস্তৃত পরিষেবা নেটওয়ার্ক, আধুনিক পরিচালন দক্ষতা ও স্থিতিশীল আর্থিক পরিবেশ। ব্যাঙ্ক চলতি ত্রৈমাসিকে ₹৩৭২ কোটির নিট মুনাফা করেছে।
ব্যাঙ্কের দেওয়া তথ্য অনুসারে, এই ত্রৈমাসিকে আমানতের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ১৬% বেড়ে হয়েছে ১.৫৫ লক্ষ কোটি টাকা। অন্যদিকে, ঋণের পরিমাণও বেড়েছে ৬%—যার বর্তমান পরিমাণ ১.৩৪ লক্ষ কোটি।
গ্রাহকদের সঞ্চয় অভ্যাসের দিক থেকে ব্যাঙ্কের CASA (কারেন্ট ও সেভিংস অ্যাকাউন্ট) অনুপাত দাঁড়িয়েছে ২৭.১%। ব্যাঙ্কের ক্যাপিটাল অ্যাডিকোয়েসি রেশিও (CAR)—যা আর্থিক স্বাস্থ্য মাপার একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড—বর্তমানে ১৯.৪%, যা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত সীমার অনেক উপরে।
বন্ধন ব্যাঙ্ক বর্তমানে দেশের ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে ৩৫টিতেই উপস্থিত, যেখানে রয়েছে ৬,৩৫০-এরও বেশি ব্যাঙ্কিং আউটলেট। ব্যাঙ্কের গ্রাহকসংখ্যা ৩.১৪ কোটিরও বেশি এবং কর্মীসংখ্যা ছাড়িয়েছে ৭২,০০০।
ব্যাঙ্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও পার্থ প্রতিম সেনগুপ্ত বলেন, “এই ত্রৈমাসিকে আমরা যে সাফল্য পেয়েছি তা আমাদের ব্যবসার দৃঢ়তা ও ভবিষ্যতের কৌশলগত ভাবনার প্রতিফলন। আমানতের ধারাবাহিক বৃদ্ধি ও খুচরো ও হোলসেল ব্যাঙ্কিংয়ে গতি আমাদের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। আমরা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও পরিষেবা দক্ষতার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে এগোচ্ছি।”
বন্ধন ব্যাঙ্ক এখন তাদের খুচরো পোর্টফোলিও আরও শক্তিশালী করতে সচেষ্ট। পাশাপাশি, ডিজিটাল ব্যাংকিং পরিষেবাতেও আরও গতিশীলতা আনতে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নিচ্ছে সংস্থাটি। এর ফলে শুধু উৎপাদনশীলতা ও কার্যকারিতা নয়, গ্রাহক অভিজ্ঞতাও হবে আরও উন্নত।
২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাঙ্ক হিসেবে যাত্রা শুরু করা বন্ধন ব্যাঙ্ক বর্তমানে দেশের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল প্রাইভেট ব্যাঙ্ক। ‘আপনার মঙ্গলেই সবার মঙ্গল’—এই মূলমন্ত্রে বিশ্বাসী ব্যাঙ্কটি মূলত আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকেই গুরুত্ব দেয়। শহর ছাড়াও গ্রামীণ ও আধা-শহরাঞ্চলে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই তাদের প্রধান লক্ষ্য।