Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
মাত্র ৫০০ টাকার পরীক্ষা বাঁচাবে কয়েক লাখের খরচ, কেন নিয়মিত লিভারের চেকআপ জরুরি?অভিষেক ও তাঁর স্ত্রীর গাড়িতে তল্লাশির নির্দেশ! কমিশনের ‘হোয়াটসঅ্যাপ নির্দেশ’ দেখাল তৃণমূল৪২-এ বেবি বাম্প নিয়েও ওয়েট লিফটিং! স্বামী বরুণের সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে রোম্যান্স করিশ্মারIPL 2026: হেরেও শীর্ষে রাজস্থান! কমলা ও বেগুনি টুপি আপাতত কোন দুই তারকার দখলে? প্রকাশ্যে আয়-সম্পত্তির খতিয়ান, রাজ না শুভশ্রী! সম্পত্তির নিরিখে এগিয়ে কে? অ্যাপল ওয়াচ থেকে ওউরা রিং, কেন একসঙ্গে ৩টি ডিভাইস পরেন মুখ্যমন্ত্রী? নেপথ্যে রয়েছে বড় কারণপ্রসবের তাড়াহুড়োয় ভয়াবহ পরিণতি! আশাকর্মীর গাফিলতিতে দু'টুকরো হল শিশুর দেহ, মাথা রয়ে গেল গর্ভেই২০ বছরের 'রাজ্যপাট'! ইস্তফা বিহারের মুখ্যমন্ত্রী ‘সুশাসন বাবু' নীতীশ কুমারের, উত্তরসূরির শপথ কবেমুম্বইয়ের কনসার্টে নিষিদ্ধ মাদকের ছড়াছড়ি! 'ওভারডোজে' মৃত্যু ২ এমবিএ পড়ুয়ার, গ্রেফতার ৫IPL 2026: ‘টাইগার জিন্টা হ্যায়!’ পাঞ্জাবকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ভাইরাল মিমের স্মৃতি উসকে দিলেন সলমন

আজকের সোনার দামে বড় পতন, উৎসবের মরসুমে কম দামে সোনা কেনার সুযোগ মধ্যবিত্তের

আজ ভারতে সোনার দামে বড়সড় পতন! আন্তর্জাতিক প্রভাব ও উৎসব-পরবর্তী দরপতনে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য কম দামে সোনা কেনার দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আজকের সোনার দামে বড় পতন, উৎসবের মরসুমে কম দামে সোনা কেনার সুযোগ মধ্যবিত্তের

নিশান্ত চৌধুরী

শেষ আপডেট: 28 October 2025 13:33

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের বাজারে আজ সোনার দামে বড়সড় পতন দেখা গেছে, যা ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। উৎসবের মরসুম শেষ হওয়ার পর এই দরপতন মধ্যবিত্তের জন্য কম দামে সোনা কেনার এক সুবর্ণ সুযোগ করে দিয়েছে। ২৮ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ₹১,২১,০৪৪, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ₹২,২১১ কম। ২২ ক্যারেট সোনার দামও নেমে এসে প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ₹১,১০,৯৫৭ টাকায় পৌঁছেছে। পশ্চিমবঙ্গের বাজারেও একই প্রবণতা—২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রামে ₹১২,১৪৩ এবং ২২ ক্যারেটের দাম ₹১১,৫৬৫।
 

গত কয়েক মাস ধরে সোনার দাম লাগাতার বাড়ছিল, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছিল। তাই এই আকস্মিক পতন বিশেষ করে আসন্ন বিবাহ মরসুমে ক্রেতাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। কলকাতার বাজারে ২৪ ক্যারেটের ১ গ্রাম সোনা ₹১২,৩২৭ এবং ২২ ক্যারেটের ₹১১,২৯৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, গত সপ্তাহের শুরু থেকেই এই পতনের ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়।

সোনার দাম কমার পেছনের মূল কারণ

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সোনার দামের সাম্প্রতিক পতনের পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় একাধিক কারণ। প্রথমত, মার্কিন ডলারের ক্রমাগত শক্তিশালী হওয়া। ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য মুদ্রার তুলনায় সোনার দাম কমে যায়, কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার লেনদেন ডলারে হয়। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বাণিজ্য সম্পর্কের উন্নতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করেছে। ফলে তারা নিরাপদ বিনিয়োগ (gold hedge) থেকে সরে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগ করছেন, যা সোনার চাহিদা কমিয়ে দিচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা কিছুটা কমার আশা—গাজা পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সম্ভাব্য অবসান ইত্যাদি। এসব কারণে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনার চাহিদা কমেছে। দেশীয়ভাবে উৎসবের মরসুম শেষ হওয়ায় সোনার চাহিদাও কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) ডিসেম্বর ফিউচার দরে পতন বাজারের নিম্নমুখী মনোভাবকে আরও স্পষ্ট করেছে।

মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের স্বস্তি

ভারতে সোনা শুধু ধাতু নয়—একটি আবেগ, ঐতিহ্য এবং বিশ্বাসের প্রতীক। ধনতেরাস ও দীপাবলির মতো উৎসবে সোনা কেনা শুভ মনে করা হয়। নবরাত্রি ও দীপাবলির সময় সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও, বর্তমানে যে দরপতন দেখা যাচ্ছে তা মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের স্বস্তি দিয়েছে।
শীতকালীন বিবাহ মরসুম সামনে রেখে এই দাম হ্রাস অনেক পরিবারের জন্য বিশেষভাবে সহায়ক হয়েছে। যারা এতদিন উচ্চ দামের কারণে সোনা কেনা থেকে বিরত ছিলেন, তারাও এখন কম দামে কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন। কালীপুজো ও ছট পুজোর পর সোনার চাহিদা কিছুটা কমে আসায় এই সময়ে দরপতন আরও গভীর হয়েছে। এই সময়ে সোনা কেনা একদিকে ঐতিহ্য রক্ষা, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের দিক থেকেও লাভজনক হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বিশ্লেষকদের মতে, এই দরপতন সাময়িক সংশোধন হতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলির ক্রমাগত সোনা ক্রয় ভবিষ্যতে দামের পুনরুত্থান ঘটাতে পারে। আরবিআই সেপ্টেম্বরের শেষে তাদের সোনার রিজার্ভ ০.২ মেট্রিক টন বাড়িয়ে ৮৮০ মেট্রিক টনে উন্নীত করেছে। বিশ্ব গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ২০১৬ সালের পর সর্বাধিক সোনা ক্রয় করছে। তবে, কিছু অর্থনীতিবিদ যেমন জন মিলসের মতে, সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে আগামী কয়েক বছরে দাম আরও কমতে পারে। অন্যদিকে, ইউবিএস ও গোল্ডম্যান স্যাকসের মতো বৈশ্বিক বিনিয়োগ সংস্থাগুলি ২০২৫-২৬ সালে সোনার দাম প্রতি আউন্স $৪,২০০–$৫,০০০ পর্যন্ত বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। তাদের মতে, ফেডের সুদের হার কমানো ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক দুর্বলতা সোনার দাম বাড়াতে সহায়ক হবে।

সোনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বিনিয়োগমূল্য

ভারতের ইতিহাসে সোনা বরাবরই ধনসম্পদ ও মর্যাদার প্রতীক। সিন্ধু সভ্যতা থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত এটি ব্যবহৃত হয়েছে সম্পদ, বাণিজ্য ও সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে সোনা সবসময়ই একটি নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে কাজ করেছে। ১৯৪৭ সালে ১০ গ্রাম সোনার দাম ছিল মাত্র ₹৮৮.৬২ — যা আজ বেড়ে ₹১,২১,০৪৪।

বছর২৪ ক্যারেট প্রতি ১০ গ্রাম সোনার মূল্য (আনুমানিক)
১৯৫০₹৯৯
১৯৭০₹১৮৪.৫০
২০০০₹৪,৪০০
২০১০₹১৮,৫০০
২০২২₹৫২,৬৭০
২০২৩₹৬৫,৩৩০
২০২৫₹১,২১,০৪৪ (বর্তমান)

সোনার দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা এটিকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বর্তমানে দরপতনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সোনা কেনা আর্থিক ও সাংস্কৃতিক—দুই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ। তবে মনে রাখা জরুরি, ₹২ লক্ষের বেশি মূল্যের সোনা কিনতে প্যান কার্ড বাধ্যতামূলক, এবং গোল্ড ইটিএফ বা সার্বভৌম গোল্ড বন্ডে বিনিয়োগের জন্য ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট ও কেওয়াইসি প্রয়োজন।


```