বিশ্ববাজারে টানা দুই দিনে ধস নামল সোনার দামে, প্রায় পাঁচ বছরে সবচেয়ে বড় পতন। ভারতে ১০ গ্রামে দাম কমল ৪,০০০ টাকারও বেশি, রুপোর দামও ফোটাবে হাসি।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 22 October 2025 16:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্ববাজারে টানা দ্বিতীয় দিন সোনার দামে বড় পতন। বুধবারও কমেছে সোনালি ধাতুর মূল্য, টানা দু’দিনে যে ধস নেমেছে, তা প্রায় পাঁচ বছরে সবচেয়ে বড় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। মঙ্গলবার একদিনেই সোনার দাম পড়ে গিয়েছিল ৫ শতাংশেরও বেশি- ২০২০ সালের অগস্টের পর এটাই সবচেয়ে বড় পতন। বুধবার স্পট গোল্ডের দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ৪,১০৯.১৯ মার্কিন ডলার, যা সোমবারের সর্বকালীন উচ্চতম দর ৪,৩৮১.২১ ডলারের থেকে প্রায় ৬ শতাংশ কম।
দেশীয় বাজারেও ধাক্কা
বিশ্ববাজারের প্রভাব পড়েছে দেশীয় বাজারেও। ভারতে প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম কমেছে প্রায় ৪,২৯৪ টাকা বা প্রায় ৩ শতাংশ। কয়েক দিন আগেই সোনা পৌঁছেছিল রেকর্ড সর্বোচ্চ দরে- ১,৩২,২৯৪ টাকা প্রতি ১০ গ্রাম। এখন তা নেমে এসেছে প্রায় ১,২৮,০০০ টাকায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনার এই দাম পতনের পিছনে বড় কারণ বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ তুলে ফেলা বা প্রফিট বুকিং। এই বছর রেকর্ড দামে পৌঁছনোর পর বিনিয়োগকারীরা ধীরে ধীরে মুনাফা তুলে নিচ্ছেন।
২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত সোনা প্রায় ৬০ শতাংশ রিটার্ন দিয়েছে বিনিয়োগকারীদের, যা অন্য প্রায় সব বিনিয়োগের চেয়ে বেশি। তাছাড়া, আমেরিকা ও চিনের বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নতি এবং ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনায় ইতিবাচক সাড়া, এই দুটি কারণকেও সোনার দামের পতনের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
রুপোর বাজারেও ধস
শুধু সোনা নয়, রুপোর দামও কমেছে রেকর্ড হারে। মঙ্গলবার আমেরিকার বাজারে রুপোর দাম পড়েথে ৮ শতাংশ- যা ২০২১ সালের পর সবচেয়ে বড় একদিনের পতন। প্রতি আউন্স রুপোর দাম দাঁড়িয়েছে এখন ৪৮.১১ মার্কিন ডলার, ১৭ অক্টোবরের সর্বোচ্চ ৫৪.৪৭ ডলার থেকে প্রায় ১২ শতাংশ কম বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
দেশীয় বাজারেও রুপোর দাম পড়েছে প্রবলভাবে। মাত্র দু’দিনে কেজি প্রতি প্রায় ৮,১০০ টাকা কমে এখন এই ধাতুর দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,৬৩,৯০০ টাকায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান, ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা পিছিয়ে যাওয়া, আর ইলেকট্রনিকস ও সোলার এনার্জি খাতে শিল্পচাহিদা কিছুটা কমে যাওয়া— এই সব মিলেই রুপোর দামে চাপ পড়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, রুপোর দাম এখনও তুলনামূলকভাবে উপরের দিকেই রয়েছে।
তাহলে বিনিয়োগকারীদের জন্য বার্তা কী?
বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, সোনা ও রুপোর সাম্প্রতিক এই সংশোধন স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের কিছুটা চিন্তায় ফেললেও, দীর্ঘমেয়াদে এই দুই ধাতুর ভিত্তি মজবুতই রয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলির সোনার ক্রয় — এই তিনটি কারণ আগামী মাসগুলিতে আবারও সোনার চাহিদা বাড়িয়ে তুলতে পারে। তবে বাজারে অস্থিরতা ও বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মাঝে বিনিয়োগে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।