অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন এই কমিটি পরিষেবা ক্ষেত্রের সম্ভাব্য বৃদ্ধি কী ভাবে আরও কার্যকর করা যায়, সেই দিকগুলি চিহ্নিত করবে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন ও অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তি শিক্ষা থেকে শুরু করে কর্মসংস্থানে কী ধরনের পরিবর্তন আনছে, তা পর্যালোচনা করবে কমিটি।

নির্মলা সীতারামন
শেষ আপডেট: 1 February 2026 12:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-সহ আধুনিক প্রযুক্তি ভারতের পরিষেবা খাত ও কর্মসংস্থানের ওপর ঠিক কতটা প্রভাব ফেলছে, তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি (AI Committee) গঠনের ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। সংসদে ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট (Union Budget 2026) পেশ করতে গিয়ে তিনি জানান, ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক রূপরেখা নির্ধারণে প্রযুক্তির ভূমিকা মূল্যায়ন করতেই এই উদ্যোগ।
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন এই কমিটি পরিষেবা ক্ষেত্রের সম্ভাব্য বৃদ্ধি কী ভাবে আরও কার্যকর করা যায়, সেই দিকগুলি চিহ্নিত করবে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন ও অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তি শিক্ষা থেকে শুরু করে কর্মসংস্থানে কী ধরনের পরিবর্তন আনছে, তা পর্যালোচনা করবে কমিটি। পরিষেবা খাতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, নতুন দক্ষতার চাহিদা নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতের কাজের ধরন কেমন হতে পারে - এই সব বিষয়ই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
বাজেট বক্তৃতায় (Budget News) নির্মলা সীতারামন বলেন, ২০২৬ সালের বাজেটে সরকার ‘সংস্কারের পথ’কেই বেছে নিয়েছে। তাঁর কথায়, ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে ধারাবাহিক ও বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থনৈতিক সংস্কারের এই ধারা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, এটি নির্মলা সীতারামনের টানা নবম কেন্দ্রীয় বাজেট (Budge Live)। এই নজির তাঁকে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাইয়ের টানা ১০টি বাজেট পেশের রেকর্ডের আরও কাছে নিয়ে গেল। বাজেট পেশের আগেই দেশের শীর্ষ প্রযুক্তি সংস্থাগুলি আশা প্রকাশ করেছিল, এআই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার জন্য উদ্ভাবন, ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং বিভিন্ন খাতে প্রযুক্তির প্রয়োগে জোর দেবে সরকার। একই সঙ্গে বাজারে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে পর্যাপ্ত আর্থিক প্রবাহের দিকেও নজর থাকবে বলে ধারণা ছিল।
এই প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে চলতি বছরের অর্থনৈতিক সমীক্ষার পর্যবেক্ষণ। ২৯ জানুয়ারি সংসদে পেশ হওয়া ইকোনমিক সার্ভেতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কোনও ‘প্রতিপত্তির প্রযুক্তি দৌড়’ নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখার সুপারিশ করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি বাজেটে আগামী অর্থবর্ষে মূলধনী ব্যয়ে প্রায় ৯ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণাও করেন অর্থমন্ত্রী। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য মূলধনী ব্যয়ের বরাদ্দ বাড়িয়ে করা হয়েছে ১২.২ লক্ষ কোটি টাকা। সরকারের মতে, এই বিনিয়োগ পরিকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিকে আরও মজবুত করবে।
একই সঙ্গে, তিন কর্তব্যকে মাথায় রাখার কথা বললেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। তাঁর কথায়, এই বাজেট (Budget Live) যুবা শক্তি চালিত বাজেট তাই মূলত তিনটি কর্তব্যকে মাথায় রাখা হয়েছে।
কোন তিন কর্তব্যের কথা বললেন নির্মলা? কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর বলেন, অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত ও দীর্ঘস্থায়ী করা, জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা এবং সবকা সাথ, সবকা বিকাশ - এটাই কেন্দ্রীয় সরকারের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি তাঁর এও মত, দেশের আর্থিক বৃদ্ধির যারা বিরোধিতা করে আসলে তাঁরাই দেশদ্রোহী।