দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বাজেটে ছ'টি ক্ষেত্রে জোর দেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। এই সেক্টরগুলি হল - ঐতিহ্যবাহী শিল্প ক্ষেত্রগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করা, MSME ক্ষেত্রকে আরও মজবুত করা, পরিকাঠামো তৈরিতে জোর, দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করা, স্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করা, শহরগুলির অর্থনীতিকে উন্নত করা।

নির্মলা সীতারামন
শেষ আপডেট: 1 February 2026 11:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার মাঘ পূর্ণিমার পুণ্যতিথি ও গুরু রামদাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে বাজেট (Union Budget 2026) বক্তৃতা শুরু করার শুরুতেই তিন কর্তব্যকে মাথায় রাখার কথা বললেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। তাঁর কথায়, এই বাজেট (Budget Live) যুবা শক্তি চালিত বাজেট তাই মূলত তিনটি কর্তব্যকে মাথায় রাখা হয়েছে।
কোন তিন কর্তব্যের কথা বললেন নির্মলা
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর বলেন, অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত ও দীর্ঘস্থায়ী করা, জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা এবং সবকা সাথ, সবকা বিকাশ - এটাই কেন্দ্রীয় সরকারের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি তাঁর এও মত, দেশের আর্থিক বৃদ্ধির যারা বিরোধিতা করে আসলে তাঁরাই দেশদ্রোহী।
নির্মলা ব্যাখ্যা দেন, এই বাজেটের (Budget News) লক্ষ্য হল, দেশের গরিব, শোষিত, বঞ্চিত মানুষের জন্য। তাঁর কথায় - আমাদের প্রথম কর্তব্য হল, বিশ্বের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশকে বিকশিত ভারত গড়ে তোলা। এই বাজেট সবকা সাথ সবকা বিকাশের পথে কাজ করে যাবে। সংস্কার এক্সপ্রেস আর্থিক উন্নয়নের পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
একই সঙ্গে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বাজেটে ছ'টি ক্ষেত্রে জোর দেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। এই সেক্টরগুলি হল - ঐতিহ্যবাহী শিল্প ক্ষেত্রগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করা, MSME ক্ষেত্রকে আরও মজবুত করা, পরিকাঠামো তৈরিতে জোর, দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করা, স্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করা, শহরগুলির অর্থনীতিকে উন্নত করা।
বাজেটের ইতিহাস
আজকের বাজেট একটি ইতিহাসও তৈরি করেছে। এত দিন পর্যন্ত বাজেট (Budget News) পেশের ক্ষেত্রে কার্যদিবসের রীতিই অনুসরণ করা হত। সেই প্রথা ভেঙেই এ বার রবিবার সংসদের অধিবেশন (Nirmala Sitharaman Speech) বসেছে বাজেটের জন্য।
যদিও রবিবার বাজেট (Union Budget 2026) পেশ এই প্রথম, তবে ফেব্রুয়ারির শেষ রবিবার ঘিরে বাজেটের ইতিহাসে রয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কারণ একটা সময় পর্যন্ত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ কার্যদিবসে বাজেট পেশ করা হত। তবে ১৯৯৯ সালে ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখ পড়েছিল রবিবার। সেই সময় অটলবিহারী বাজপেয়ী (Atal Bihari Vajpayee) নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন যশবন্ত সিনহা (Yashwant Sinha)। সেবার রবিবার এড়িয়ে তিনি বাজেট পেশ করেছিলেন এক দিন আগে, ২৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার।
১৯৯৯ সালের বাজেট আরও একটি কারণে ঐতিহাসিক বলে বিবেচিত। ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা রীতি অনুযায়ী, তখন কেন্দ্রীয় বাজেট সাধারণত বিকেল ৫টার সময় পেশ করা হত। লন্ডনের কর্মঘণ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই এই সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু যশবন্ত সিনহাই প্রথম বাজেট পেশের সময় বদলে সকাল ১১টা করেন। সেই পরিবর্তনই পরবর্তী কালে স্থায়ী রীতি হয়ে যায় এবং এখনও সেই সময়েই বাজেট পেশ হয়ে আসছে।