চোল-বিজয়নগর যুগের বোনা ঐতিহ্যের ‘কাট্টম কাঞ্জিভরম’ শাড়িতে নবম বাজেট পেশ করছেন নির্মলা সীতারামন। শাড়ির বুনোট, রঙ, মোটিফে ফুটে উঠল তামিলনাডুর সমৃদ্ধ কারিগরি ও সাংস্কৃতিক বার্তা।

নির্মলা সীতারমন
শেষ আপডেট: 1 February 2026 11:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাল কভারের আড়ালে যেমন ধরা পড়ল কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের (Nirmala Sitharaman) বাজেট ট্যাবলেট (Budget Tablet), তেমনই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর পরা শাড়ি- ম্যাজেন্টা কাট্টম কাঞ্জিভরম (Kanjivaram Saree)। বরাবরের মতো বাজেট-দিবসে তাঁর পোশাক যেন আলাদা করে বার্তা দিল বিরাট।
নির্মলা কোনওদিনই খুব বেশি ফ্যাশন-সচেতন নন। এদিনও তাই ম্যাজেন্টা কাঞ্জিভরমের সঙ্গে ফুল স্লিভ হাল্কা ইয়েলো সোয়েটার পরেছেন। জাঁকজমকের দাপট নেই, বরং একেবারে সংযত, মার্জিত, ঐতিহ্যে ভরা ক্লাসিক কাঞ্জিভরম সিল্ক। ডার্ক কফি রঙের পাড়ে সোনালি টেম্পল-বর্ডার (Temple Border), অনেকে এটাকে রেট্টা পেট বর্ডার বলেন। পরিচিত পাট্টু বর্ডার নামেও। চওড়া পাড়ে সরু সূক্ষ্ম কাজ শাড়িটিকে ভরাট করে তা বলা বাহুল্য।
ক্লাসিক কাঞ্জিভরম
কাঞ্জিভরম মানেই সাধারণের ধারণা থাকে চকচকে, ভারী কাজের শাড়ি। মূলত বিয়ে বাড়িতে পরা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে দক্ষিণ ভারতের কাঞ্চিপুরমের (Kanchipuram) হাতে বোনা এই প্যাটার্নের শাড়ি অফিসিয়াল অনুষ্ঠান, শপথগ্রহণ বা সরকারি প্রোগ্রামে পরার রেওয়াজ আছে। তাই এই শাড়ি খানিকটা আলাদা।
রাজনীতি আর সংস্কৃতির আড়ালে খোলা বার্তা
বছরের পর বছর বাজেট-দিবসে নির্মলার শাড়ি একটা আলাদা পরিচয় তৈরি করেছে। নকশা, রঙ, বুনোট—সব মিলিয়ে তা কেবল পোশাক নয়, আস্ত বার্তা। এ বছর তামিলনাডুর শাড়ি বেছে নেওয়ার সময়টাও তাৎপর্যপূর্ণ। একে নিজের রাজ্যের শাড়ি অন্যদিকে সেখানে সামনে ভোট। বিজেপির লক্ষ্য সরকার গড়া। তাই শাড়িতে সাংস্কৃতিক শ্রদ্ধার পাশাপাশি রাজনীতির সূক্ষ্ম ইঙ্গিতও থাকছে বলেই চর্চা।
বাজেট-দিবসের দিকে তাকালে দেখা যায়, নির্মলা নিয়মিতই হাতের বোনা শাড়িতে দেশজ ঐতিহ্য তুলে ধরেন—কখনও সম্বলপুরী (Sambalpuri), কখনও বোমকাই (Bomkai)। আর এবার কাঞ্জিভরম।
বুনোটের ইতিহাস—চোল, বিজয়নগর, আর পদ্মশালির কীর্তি
কাঞ্চিপুরমের কাঞ্জিভরমের শিকড় ৯০০ থেকে ১৩০০ শতকের চোল সাম্রাজ্যে (Chola Dynasty) নিহিত। বিস্তার ঘটে বিজয়নগর সাম্রাজ্যে (Vijayanagara Empire) ১৫-১৬০০ শতকে। এই বুনোটের শিল্প তৈরি করেন পদ্মশালি (Padmasali) তেলুগু বণিক-বুনকররা। সিল্ক আসে কর্নাটকের (Karnataka) মালবেরি সিল্কওয়ার্ম থেকে। নকশায় প্রকৃতি, পুরাণ, মন্দির স্থাপত্যের প্রভাব দেখা যায়। আর জরি তৈরি হয় খাঁটি রুপোর উপর সোনার আস্তরণে—যা কাঞ্জিভরমকে দেয় স্বাতন্ত্র্য।
আধুনিকতার ছোঁয়া
এই শাড়ি তৈরির মূল দু'টি টেকনিক রয়েছে, কোরভাই (Korvai) আর পেটনি (Petni)। কোরভাই মানে বডি ও পাড়ের কনট্রাস্ট রং আলাদা করে বোনা। পেটনি দিয়ে আলাদা করে আঁচল জুড়তে হয়,যা কাঞ্জিভরমকে আরও সুন্দর করে তোলে।
বাজারে এখন কাঞ্জিভরমের নতুন ঘরানা এসেছে, যেমন লিনেন-ব্লেন্ড, অর্গানজা, খাদি। সঙ্গে এসেছে বড় মোটিফ, স্পেসড ডিজাইন, আধুনিক ঘরানার বুনোট। কিন্তু বেশিরভাগ কাঞ্জিভরমপ্রেমীরা নির্মলার মতো ট্র্যাডিশনালেই আস্থা রাখেন।
তাই হয়তো ২০২৩-এর পর এবারও বাজেটে পরলেন নিজের রাজ্যের টেম্পল বর্ডার কাঞ্জিভরম।
একদিকে অর্থমন্ত্রী যখন নিজের রাজ্যের শাড়ি পরলেন. তেমনই এদিন নিজের মাতৃভূমি ওড়িশার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরতে বোমকাই পরলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ছাই ও পিঙ্ক রঙা শাড়িটির পরতে পরতে ঐতিহ্যের ছোঁয়া স্পষ্ট।