সেন্ট্রাল ড্রাগ স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (CDSCO)-কে আরও শক্তিশালী করার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে ওষুধের গুণমান, নিরাপত্তা ও দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হয়।
.jpeg.webp)
ছবি - এআই
শেষ আপডেট: 1 February 2026 14:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ও ওষুধ শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে (Union Budget 2026) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। বায়ো ফার্মা সেক্টরের (Biopharma) বিকাশ, মানসিক স্বাস্থ্যের পরিকাঠামো জোরদার করা এবং জীবনদায়ী ওষুধের দাম কমানোর লক্ষ্যে নেওয়া এই সিদ্ধান্তগুলি আগামী পাঁচ বছরে ভারতের স্বাস্থ্যনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাজেট বক্তৃতায় (Budget News) অর্থমন্ত্রী জানান, ভারতের বায়ো ফার্মা সেক্টরের (Biopharma Sector) জন্য আগামী পাঁচ বছরে মোট ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। তাঁর কথায়, এই বিনিয়োগ একটি শক্তিশালী ও টেকসই ‘ইকো সিস্টেম’ তৈরি করতে সাহায্য করবে, যার মাধ্যমে গবেষণা, উৎপাদন এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো - তিনটিই একসঙ্গে এগোবে।
এর পাশাপাশি সেন্ট্রাল ড্রাগ স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (CDSCO)-কে আরও শক্তিশালী করার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে ওষুধের গুণমান, নিরাপত্তা ও দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হয়।
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘোষণা এসেছে মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে। অর্থমন্ত্রী জানান, রাঁচি এবং অসমের তেজপুরে ‘নিমহ্যান্স ২’ গড়ে তোলা হবে। বেঙ্গালুরুর নিমহ্যান্সের আদলে তৈরি এই নতুন কেন্দ্রগুলি মানসিক রোগের চিকিৎসা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাজেটে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর আলাদা করে গুরুত্ব দেওয়াকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, কোভিড-পরবর্তী সময়ে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যার সংখ্যা যে ভাবে বেড়েছে, তা মোকাবিলায় এমন পরিকাঠামো অত্যন্ত প্রয়োজন।
সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে জীবনদায়ী ওষুধের দামের ক্ষেত্রেও। বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে, ক্যানসার, ডায়াবেটিস (ব্লাড সুগার) সহ বিভিন্ন গুরুতর রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের উপর কোনও আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে না। এর ফলে এই ওষুধগুলির বাজারদর কমবে এবং চিকিৎসা খরচ সাধারণ মানুষের নাগালে আসবে বলেই আশা করা হচ্ছে। ওষুধ শিল্পের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্ত রোগীদের পাশাপাশি হাসপাতাল ও চিকিৎসা পরিষেবা ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সরকারের বক্তব্য, বায়ো ফার্মা সেক্টরে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ, নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে শক্তিশালী করা এবং ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ - এই তিনটি পদক্ষেপ একসঙ্গে ভারতের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও আত্মনির্ভর করে তুলবে। একই সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যকে মূলধারার চিকিৎসা ব্যবস্থার কেন্দ্রে নিয়ে আসার উদ্যোগ সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন আনতে পারে।
সব মিলিয়ে, এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে কেবল ব্যয়ের খাত হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি মানবসম্পদ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে কেন্দ্র। এই ঘোষণাগুলি বাস্তবে কতটা দ্রুত এবং কার্যকর ভাবে রূপ পায়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে দেশের স্বাস্থ্য ক্ষেত্র।