সার্বিকভাবে, সমীক্ষার যুক্তি অনুযায়ী, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ভারত এখনও অধিকাংশ বড় অর্থনীতির তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে।

আগামী ১ ফেব্রুয়ারি, রবিবার সংসদে কেন্দ্রীয় বাজেট প্রস্তাব পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।
শেষ আপডেট: 29 January 2026 16:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman) বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ সংসদের বাজেট অধিবেশনে লোকসভায় আর্থিক সমীক্ষা ২০২৫–২৬ (Economic Survey 2025–26) পেশ করলেন। সমীক্ষায় প্রথম আগাম হিসাব অনুযায়ী, অর্থবর্ষ ২৬ (FY26)-এ ভারতের প্রকৃত গড় জাতীয় উৎপাদন (Real GDP) বৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৭.৪ শতাংশ এবং গ্রস ভ্যালু অ্যাডেড (GVA) বৃদ্ধির হার ৭.৩ শতাংশ। সমীক্ষায় দাবি, এটি টানা চতুর্থ বছরের মতো ভারতকে বিশ্বের দ্রুততম বৃদ্ধিশালী অর্থনীতি (fastest-growing major economy) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।
এই উপলক্ষে প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি এ অনন্ত নাগেশ্বরন (Chief Economic Adviser V.A. Anantha Nageswaran) সাংবাদিক বৈঠকে অর্থনৈতিক প্রবণতা ব্যাখ্যা করবেন। তবে সমীক্ষার ভূমিকায় তিনি লিখেছেন, ২০২৬ সালে বিশ্বের জন্য সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতি হতে পারে ২০২৫-এর মতো ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া। তবে সেই পরিবেশ ক্রমশ আরও অনিশ্চিত ও ভঙ্গুর হয়ে উঠছে।
আর্থিক সমীক্ষা মূলত সরকারের আর্থিক কর্মদক্ষতা ও দেশের অর্থনীতির বার্ষিক রিপোর্ট কার্ড (report card) বলা যেতে পারে। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যৎ নীতিগত দিকনির্দেশ (policy outlook) তুলে ধরে কেন্দ্রীয় বাজেটের আগে। এই নথি তৈরি করে অর্থ মন্ত্রকের অর্থনৈতিক বিষয়ক দপ্তর (Department of Economic Affairs)। উল্লেখ্য, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি, রবিবার সংসদে কেন্দ্রীয় বাজেট প্রস্তাব পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।
ভালো বর্ষার জেরে (good monsoon) ২০২৪-২৫ কৃষি বছরে (Agriculture Year) দেশের খাদ্যশস্য উৎপাদন (food grain production) বেড়ে দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ৩,৫৭৭.৩ লক্ষ মেট্রিক টন (LMT)। যা আগের বছরের তুলনায় ২৫৪.৩ লক্ষ টন বেশি। এই বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হয়েছে চাল (rice), গম (wheat), ভুট্টা (maize) ও শস্য।
এই আর্থিক সমীক্ষায় ২০২৫–২৬ সামগ্রিকভাবে একটি ‘সতর্ক আশাবাদী’ (cautiously optimistic) দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে। এতে অর্থবর্ষ ২৭ (FY27)-এ ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৬.৮ থেকে ৭.২ শতাংশের মধ্যে। আগের বছরের সমীক্ষায় যেখানে ৬.৩ থেকে ৬.৮ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল এবং পরিস্থিতিকে ‘ভারসাম্যপূর্ণ’ (balanced) বলেছিল, সেখানে নতুন সমীক্ষা সামান্য বেশি আশাবাদী।
সার্ভে ইঙ্গিত দিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ গতি আরও মজবুত হচ্ছে। গ্রাহক চাহিদা, সরকারি মূলধনী ব্যয় এবং উন্নত আর্থিক ভিত্তি এর প্রধান কারণ। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, প্রতিকূল বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতের বৃদ্ধি টিকে রয়েছে। এমনকী আমেরিকার (United States) কড়া শুল্কবৃদ্ধির (tariff hikes) পরও ভারতের অর্থনীতি গতি হারায়নি। ২০২৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের একাধিক রফতানিকারক উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক (50% tariffs) বসানোর পর বৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানো হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে সেই আশঙ্কাকে ছাপিয়ে গিয়েছে। সার্ভের মতে, একাধিক কাঠামোগত সংস্কার (structural reforms) ও লক্ষ্যভিত্তিক নীতিগত পদক্ষেপ (targeted policy measures) অর্থনীতিকে এই বাইরের আঘাত সামলে নিতে সাহায্য করেছে।
তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এখন দোদুল্যমান। সমীক্ষা সতর্ক করেছে যে, বিশ্ব অর্থনীতির (global economy) ঝুঁকি এখনও যথেষ্ট। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) যদি প্রত্যাশিত উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে ব্যর্থ হয়, তবে অতিরিক্ত সম্পদ মূল্যায়ন হঠাৎ পরিবর্তনের মুখে পড়তে পারে। যার ফলে আর্থিক চাপ (financial stress) তৈরি হবে। দীর্ঘস্থায়ী বাণিজ্য সংঘাত (trade conflicts) বিনিয়োগ কমিয়ে দিতে পারে এবং বিশ্বের বৃদ্ধিকে দুর্বল করতে পারে। আপাতত স্থিতাবস্থা থাকলেও ঝুঁকির দিকটাই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।
এই রিপোর্ট নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে রাইট রিসার্চ পিএমএস (Wright Research PMS)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও ফান্ড ম্যানেজার সোনম শ্রীবাস্তব (Sonam Srivastava) বলেন, ইকনমিক সার্ভে বড় কোনও নীতিগত বদলের ইঙ্গিত না দিয়ে বরং সহায়ক ম্যাক্রো পরিবেশের ছবি তুলে ধরেছে। তাঁর মতে, ব্যাঙ্ক ও এনবিএফসি (NBFC)-গুলি চলতি অর্থবর্ষে প্রবেশ করছে শক্তিশালী ব্যালান্স শিট, উন্নত সম্পদ ও স্থায়ী ঋণ বৃদ্ধির জায়গায় দাঁড়িয়ে।
বৃদ্ধি নিয়ে তিনি আরও বলেন, ৬.৮–৭.২ শতাংশের পূর্বাভাস অস্থির বিশ্বে ভারতের বাস্তবসম্মত গতিকে প্রতিফলিত করে। তাঁর ভাষায়, এই দৃষ্টিভঙ্গি উচ্ছ্বসিত নয়, বরং স্থিতিশীল। যা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক সংকেত। সার্বিকভাবে, সমীক্ষার যুক্তি অনুযায়ী, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ভারত এখনও অধিকাংশ বড় অর্থনীতির তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে।