জেন জি আর মিলেনিয়ালদের মধ্যে হ্যান্ড ক্রিমের জনপ্রিয়তা আগের চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে। ফলে একটাই প্রশ্ন মাথায় আসতে বাধ্য, আমাদের কি সত্যিই আলাদা করে হ্যান্ড ক্রিম দরকার, নাকি সাধারণ ময়েশ্চারাইজারই হাতের যত্নের জন্য যথেষ্ট?

হ্যান্ড ক্রিম
শেষ আপডেট: 24 May 2025 19:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটা সময় ছিল, যখন হ্যান্ড ক্রিম (hand cream) মানে সবাই ভাবত শুধুই এক ধরনের বিলাসিতা। কিন্তু এখনকার সময় কী বলছে জানেন? ২০২৩ সালে শুধু এই খাতের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ১৮.১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার! ফলে একটাই প্রশ্ন মাথায় আসতে বাধ্য, আমাদের কি সত্যিই আলাদা করে হ্যান্ড ক্রিম দরকার, নাকি সাধারণ ময়েশ্চারাইজারই (moisturiser) হাতের যত্নের জন্য যথেষ্ট?
আজকাল নিজের স্কিনকেয়ার রুটিন (skin care routine) মানেই বেশ একটা ভাবনাচিন্তার বিষয়। একটার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে না উঠতেই দেখা যায় নতুন কোনও সিরাম (serum) বাজারে চলে এসেছে। শুধু মুখের পরিচর্যা নয়, হাত-পা, এমনকী নখও বিশেষ মনোযোগ চায়। আর সেই চাহিদার দায়িত্ব নিচ্ছে স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডগুলো (skin care brand)।

বিশেষ করে জেন জি (Gen Z) আর মিলেনিয়ালদের (Millennials) মধ্যে হ্যান্ড ক্রিমের জনপ্রিয়তা আগের চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে। এর একটি বড় কারণ অবশ্যই কোভিড-১৯, যে সময় ঘন ঘন হাত ধোয়ার কারণে ত্বক হয়ে উঠছিল শুষ্ক আর রুক্ষ। সেই সময় থেকেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই ছোট্ট টিউবের ‘পকেট ময়েশ্চারাইজার’ (pocket moisturiser)। আর এখন তা রীতিমতো অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
ময়েশ্চারাইজার বনাম হ্যান্ড ক্রিম- আসলেই কি পার্থক্য আছে?
আপাতভাবে মনে হতে পারে, ময়েশ্চারাইজার আর হ্যান্ড ক্রিমের কাজ এক- ত্বককে আর্দ্র রাখা। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুটি এক নয়।
ডার্মাটোলজিস্ট বা স্কিনের রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. গরিমা ত্যাগীর কথায়, ‘যে কোনও ভাল হাইড্রেটিং ক্রিম এই একই কাজ করতে পারে, তবে যাঁদের হাত খুব শুকনো, অথবা যাঁরা নিয়মিত হাত ধোয়া বা স্যানিটাইজ করেন, তাঁদের জন্য হ্যান্ড ক্রিমের আলাদা ফর্মুলেশন বেশ উপকারী। তাঁদের জন্য দ্রুত শোষিত হওয়া নন-গ্রিসি হ্যান্ড ক্রিম বেশি কার্যকর।’
হ্যান্ড ক্রিম সাধারণত ঘন, ময়েশ্চারাইজিং উপাদানে সমৃদ্ধ এবং হাতে ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে তৈরি। এতে শিয়া বাটার, গ্লিসারিন, স্কোয়ালিন, সেরামাইড ও পেট্রোলিয়ামের মতো উপাদান বেশি থাকে, যা ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং স্কিন বেরিয়ারকে সুরক্ষা দেয়। তাই একে শুধু 'ফ্যান্সি টিউবের বডি লোশন' বলা ভুল।

হ্যান্ড ক্রিম মার্কেটিং সর্বস্ব চলচাতুরি, না বাস্তবের স্কিন কেয়ার হিরো?
সত্যি বলতে, হ্যান্ড ক্রিমে অনেকটাই গ্ল্যামার আর ব্র্যান্ডিংয়ের খেলা আছে। কিন্তু তাই বলে এটি অপ্রয়োজনীয়, এমনটা নয়।
ডা. ত্যাগী আরও বলছেন, ‘যদি কারও স্কিন সংক্রান্ত বিশেষ কোনও সমস্যা না থাকে, অথবা এমন কোনও পেশায় না থাকেন যেখানে নিয়মিত হাত ধোয়া বা কেমিক্যালের সংস্পর্শে আসতে হয়, তাহলে হ্যান্ড ক্রিম না ব্যবহার করলেও চলে। তবে যাঁদের জন্য প্রয়োজন, তাঁদের জন্য এটি অত্যন্ত দরকারি। আর বাকিদের জন্য ব্যক্তিগত পছন্দও হতে পারে।’
যদি আপনার সাধারণ বডি লোশনে গ্লিসারিন, পেট্রোলিয়াম বা সেরামাইড থাকে, তাহলে সেটি হাতের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

হাতের যত্নে কিছু সহজ টিপস (Hand care tips):
ত্বকের যত্ন শুধু মুখেই সীমাবদ্ধ নয়। হাত, পা, হাঁটু- সবই গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। আর নরম-মসৃণ হাতের জন্য এই কয়েকটি ধাপ নিয়মিত মেনে চলা জরুরি:
• মাইল্ড সাবান (mild soap) দিয়ে হাত ধোয়া
• প্রয়োজনে হালকা স্ক্রাব (scrub) করা
• হ্যান্ড স্যানিটাইজারের পর ময়েশ্চারাইজার (moisturiser) ব্যবহার
• রোদে বাইরে বেরোলে SPF ব্যবহার করা
• ফেস ক্রিম, সানস্ক্রিন (sunscreen), এমনকি রেটিনল (retinol)—যা মুখে ব্যবহার করেন, তার অতিরিক্ত অংশ হাতেও লাগিয়ে নিতে পারেন।