বাংলাদেশে হিন্দু হত্যা ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করলেন প্রধান উপদেষ্টা ইউনুসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

শফিকুল আলম
শেষ আপডেট: 11 January 2026 08:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে হিন্দু হত্যা এবং ওই সম্প্রদায়ের মানুষের উপর লাগাতার হিংসার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। হিন্দুদের উপর নিপীড়ন, নির্যাতনের ঘটনাগুলি নিয়ে সম্প্রতি সরব হয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সে বিষয়ে প্রেস সচিব ফেসবুকে লিখেছেন, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ (ঐক্য পরিষদ) এবং অন্যান্য এনজিও ও অধিকারকর্মী সংগঠনগুলোর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ, যারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে প্রভাবিত করা সহিংসতার ঘটনাগুলি জন দৃষ্টিতে এনেছেন।
শফিকুল আলম লিখেছেন, অন্যান্য অনেক বাংলাদেশির মতো আমিও প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এসব ঘটনার ফলে যে ভয় ও মানসিক আঘাত সৃষ্টি হয়, বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে—যারা আমাদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ—তা আমি উপলব্ধি করি। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলিম—সব সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমার কাছে ব্যক্তিগত দায়িত্বের বিষয়। প্রতিটি রিপোর্টকৃত ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সাড়া দিচ্ছে, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করছে এবং আইন যেন ন্যায্য ভাবে প্রয়োগ হয় তা দেখছে।
বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিপীড়ন, নির্যাতন নিয়ে সে দেশের ৩২ জন বিশিষ্ট নাগরিক বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তারা বলেছেন সরকার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। অন্তর্বর্তী সরকারকে এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে নিতে হবে। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা, বিশেষ করে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের লোকজন শফিকুল আলমের পোস্টটি শেয়ার করছেন। কেউ কেউ তির্যক মন্তব্য করেছেন। বলেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব অবশেষে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনায় যে প্রকাশ করলেন।
ফেসবুক পোস্টে শফিকুল আলম আরও লিখেছেন, একই সঙ্গে আমাদের একে অপরের সঙ্গে সৎভাবে কথা বলা প্রয়োজন। সংখ্যালঘু কোনও নাগরিকের সঙ্গে জড়িত প্রতিটি অপরাধই ঘৃণাজনিত অপরাধ নয়, এবং বিষয়টি স্পষ্ট করে বলা গুরুত্বপূর্ণ। সবকিছুকে একইভাবে চিহ্নিত করলে প্রকৃত ঘৃণাজনিত অপরাধগুলোর প্রতি মনোযোগ দুর্বল হয়ে পড়ে—যেমন দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস পিটিয়ে হত্যার ঘটনা। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা যে অনেক ঘটনাই দেখছি, সেগুলোর পেছনে রয়েছে বছরের পর বছর ধরে নিরাপত্তা বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার ফল। হাসিনা সরকারের পতনের পর সৃষ্ট অনিশ্চয়তার সুযোগ নিয়ে অপরাধী চক্র ও স্থানীয় বিরোধগুলো মাথাচাড়া দিয়েছে, এবং এতে সব সম্প্রদায়ের মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এটি বিভাজনের নয়, দায়িত্বশীলতার সময়। আমি রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় নেতা, কমিউনিটি সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই—ভয় ছড়ানো বা উত্তেজনা কাজে লাগানোর যে কোনও প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করুন।