নির্দেশনামায় ১৫ ফেব্রুয়ারির উল্লেখ থাকলেও সোমবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ পেয়ে পুলিশ সদর দফতর নড়েচড়ে বসে। আওয়ামী লিগের কর্মসূচি ১৬ জুলাই পর্যন্ত চলবে।

ইউনুস ও হাসিনা
শেষ আপডেট: 17 June 2025 10:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আওয়ামী লিগের, (Awami League) সোমবারের প্রতিবাদ বিগত কর্মসূচিগুলি থেকে তুলনামূলকভাবে অনেক জোড়ালো হয়েছে। ঢাকার (Dhaka) একাধিক এলাকায় পুলিশ ও সেনার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে প্রতিবাদে শামিল হন দলের নেতা কর্মীরা।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, পথ চলতি বহু মানুষ মিছিল, প্রতিবাদ সভায় অংশ নিয়েছেন। বেশ কয়েক জায়গায় হামলা করতে এসে ধাওয়া খেতে হয় বিএনপি-জামাত-এনসিপি'র (BNP-Jamat-NCP) নেতা-কর্মীদের। আওয়ামী লিগ নেত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) সফল কর্মসূচির জন্য দলীয় কর্মীদের প্রশংসা করে বিবৃতি দিয়েছেন।
এদিকে হাসিনার দলের একমাসব্যাপী কর্মসূচির প্রথম দিনের সাফল্য দেখে নড়েচড়ে বসেছে বাংলাদেশ পুলিশ। সোমবার রাতে বাহিনীর উদ্দেশে বিশেষ বার্তায় ঢাকায় বাংলাদেশ পুলিশের সদর দফতর থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করে আওয়ামী লিগের কর্মসূচি আটকাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, এই কর্মসূচি ঘিরে আওয়ামী লিগ বড় ধরনের অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
নির্দেশনামায় ১৫ ফেব্রুয়ারির উল্লেখ থাকলেও সোমবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ পেয়ে পুলিশ সদর দফতর নড়েচড়ে বসে। আওয়ামী লিগের কর্মসূচি ১৬ জুলাই পর্যন্ত চলবে।
এদিকে, বাংলাদেশ আওয়ামী লিগের কর্মসূচি সফল করায় নেতাকর্মীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, অবৈধ দখলদার ফ্যাসিস্ট ইউনুস সরকারের চরম দমন-পীড়ন অত্যাচার-নির্যাতন ও শত প্রতিকূলতাকে দু পায়ে মাড়িয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লিগের ঘোষিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে তা সফল ও সার্থক করায় দলের কর্মীদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। তিনি বলেন, দলের নীতি, আদর্শ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি আওয়ামী লিগের নেতাকর্মীরা চরমভাবে আস্থাশীল। যে কারণে কোনও অপশক্তিই আওয়ামী লিগের নেতাকর্মীদের অদম্য শক্তি ও সাহসকে দমাতে পারে না। বাধার বিন্ধ্যাচল ডিঙিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এই দলের নেতাকর্মীরা নিবেদিত। এই নিবেদন থেকেই এই চরম প্রতিকূল সময়েও তারা দলের ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। আমি আওয়ামী লিগের নেতাকর্মীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
হাসিনা অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লিগের নেতাকর্মীরা দেশের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এই অবৈধ দখলদার সরকার ও তার লেলিয়ে দেওয়া সরকারি ও বেসরকারি পেটোয়া বাহিনীর দ্বারা নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে এমন কোনও পন্থা নেই, বরং প্রতিনিয়ত অভিনব পন্থায় নারকীয় অত্যাচার-নির্যাতন চালানো হচ্ছে। আওয়ামী লিগের যে সকল নেতাকর্মী এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় এবং বেআইনিভাবে গ্রেফতার করে বিনাবিচারে আটক রাখা হয়েছে তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি। একই সঙ্গে আমি এই অবৈধ দখলদার দেশবিরোধী ও গণবিরোধী অপশক্তি এবং তার দোসরদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলতে চাই, আওয়ামী লিগের নেতাকর্মীদের উপর এই চরম অন্যায়-অবিচারের বিচার একদিন বাংলার মাটিতে হবে।