চলতি বছরের ১২ মে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ইউনুস সরকার আওয়ামী লিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। তবে দলকে নিষিদ্ধ করেনি। এবার পথে এগোতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (International crime tribunal, Dhaka) আইনে শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) দলকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ আয়োজন শুরু হয়েছে
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 22 September 2025 12:31
বাংলাদেশে আওয়ামী লিগকে (Bangladesh Awami League) এবার পুরোপুরি নিষিদ্ধ (total banned) ঘোষণার পথে এগচ্ছে মহম্মদ ইউনুসের সরকার (Md Yunus government)। চলতি বছরের ১২ মে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ইউনুস সরকার আওয়ামী লিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। তবে দলকে নিষিদ্ধ করেনি। এবার পথে এগোতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (International crime tribunal, Dhaka) আইনে শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) দলকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ আয়োজন শুরু হয়েছে।
ঢাকার একাধিক সরকারি সূত্র দ্য ওয়াল (The Wall)-কে জানিয়েছে, আগামী মাসের গোড়াতেই এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। পদক্ষেপ দুভাবে করা হতে পারে। এক. শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান জামান খান কামাল এবং বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক ডিজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চলমান মামলায় আওয়ামী লিগের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে। দুই. দল হিসাবে আওয়ামী লিগের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হতে পারে।

ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের কথায়, দুভাবেই আওয়ামী লিগকে মামলায় যুক্ত করা যায়। ট্রাইব্যুনাল আইনে সেই বিধান আছে। সংঘঠিত অপরাধ অর্থাৎ অর্গানাইজড ক্রাইমের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার নজির আছে। ভারতে আম আদমি পার্টির বিরুদ্ধেই এমন মামলা বিচারাধীন। সিবিআই ও ইডি দিল্লির মদ কেলেঙ্কারির তদন্ত রিপোর্টে আম আদমি পার্টির দলগতভাবে অংশ নেওয়ার অভিযোগ এনেছে। মদ ব্যবসায়ীদের থেকে নেওয়া ঘুষের টাকা আপের দলীয় নির্বাচনী তহবিলে জমা পড়েছিল। ওই মামলায় আপ দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের রাজনৈতিক দল হিসাবেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হতে পারে।
আওয়ামী লিগকে দল হিসাবে বিচারের কাঠগড়ায় তোলার প্রস্তাবটি সামনে এনেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় তিনি গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্যদানের পর তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নির্দেশেই মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘঠিত হয়েছে। তবে যেভাবে অপরাধ সংঘটিত হয় আওয়ামী লিগ তাতে দলগতভাবে অংশ না নিয়ে থাকলে সম্ভব হত না। তাই দলেরও বিচার করা দরকার।
বাংলাদেশের চলতি অন্য কোনও আইনে সরাসরি কোনও দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণার বিধান নেই। সেই কারণে সন্ত্রাস দমন আইনে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সেই নির্দেশিকাকে হাতিয়ার করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লিগের নিবন্ধন বাতিল করে দিয়েছে। কিন্তু আইনত দলটি এখনও নিষিদ্ধ নয়।
ঢাকার একাধিক সূত্রের খবর, ইউনুস সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসাবেই নাহিদ ওই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। যে কারণে সঙ্গে সঙ্গে তা লুফে নেন চিফ প্রসিকিউটর। আগামী মাসের গোড়ায় নাহিদ অথবা দলের কোনও সামনের সারির নেতা আওয়ামী লিগের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারেন। ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারও স্বত:প্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করতে পারেন।