নিউইয়র্কের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইউনুস আওয়ামী লিগ সম্পর্কে আইনি অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। বলেছেন, আওয়ামী লিগ নিষিদ্ধ নয়। তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ।

শেখ হাসিনা ও মহম্মদ ইউনুস।
শেষ আপডেট: 1 October 2025 11:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আওয়ামী লিগকে তাদের কার্যক্রম চালুর অনুমতি ফিরিয়ে দিতে পারে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। এমনই আভাস দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। নিউইয়র্কের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইউনুস আওয়ামী লিগ সম্পর্কে আইনি অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। বলেছেন, আওয়ামী লিগ নিষিদ্ধ নয়। তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হতে পারে। সেই সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, এটি একটি সম্ভাবনা মাত্র।
রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম বৈঠকে অংশ নিতে ইউনুস হত মাসের ২২ তারিখ নিউইয়র্ক যান। সেখানে একাধিক রাষ্ট্রপ্রধান, আমলার সঙ্গে তিনি বৈঠক করেছেন। একাধিক জনের সঙ্গে আলোচনায় তিনি ভারতের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতির জন্য তিনি নয়াদিল্লিকে দায়ী করেন। ভারত লাগাতার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ফেক নিউজ ছড়াচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ করেন ইউনুস।
ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ মনে করছে, তারপরও আওয়ামী লিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিষয়ে ইউনুস সরকারের উপর আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হয়েছে। তাছাড়া, সিদ্ধান্তটি কতটা সঠিক তা নিয়েও সরকারের মধ্যে সংশয় আছে। কারণ গত ১২ মে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণার পর আওয়ামী লিগের কর্মসূচি আরও বেড়ে গিয়েছে। দলটির ঝটিকা মিছিলে প্রশাসন তটস্থ। ইদানী, আগাম ঘোষণা দিয়েও সমাবেশ, মিছিল করছে তারা। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের একাংশের মত হল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে কর্মসূচি করতে দিলে বরং দলটিকে মোকাবিলা সহজ হতে পারে। প্রশাসনের অনেকেই মনে করিয়ে দিচ্ছেন, জামায়াতে ইসলামিকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও তাদের কার্যক্রম বন্ধ করা যায়নি। কমেনি শক্তি।
ইউনুসকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তাহলে কি আওয়ামী লিগ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে? ইউনুস বলেছেন, না। পারবে না। কারণ নির্বাচন কমিশন তাদের নিবন্ধন বাতিল করেছে। সেটা সরকার করেনি। সরকার শুধু কার্যক্রম বাতিল করেছে। ইউনুসের কথায়, আওয়ামী লিগ দল হিসেবে বৈধ, তবে এখন কার্যক্রম স্থগিত। যে কোনও সময কার্যক্রম চালু করা হতে পারে।
সাক্ষাৎকারে এক জায়গায় ইউনুস খানিক উপহাস করেছেন হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে। তিনি বলেন, ভারত বরাবরই তাঁকে সমর্থন করে আসছে। যাঁরা তাঁর পেছনে আছেন, তাঁরা সম্ভবত এখনও আশা করছেন যে তিনি পূর্ণ গৌরবের সঙ্গে বাংলাদেশে ফিরে আসবেন। একজন বিজয়ী নেতা হিসেবে ফিরছেন। প্রসঙ্গত, আওয়ামী লিগ লাগাতার প্রচার চালাচ্ছে, ‘শেখ হাসিনা ফিরবে, বাংলাদেশ হাসবে।’ পাল্টা সরকার ও বিএনপি সহ সরকারের সমর্থক দলগুলি লাগাতার পাল্টা প্রচার চালাচ্ছে, আওয়ামী লিগ নির্বাচন বানচাল করার চক্রান্ত করছে। দিল্লিতে বসে শেখ হাসিনা ভারত সরকারের সহযোগিতায় চক্রান্ত করছেন বলে প্রচার চালানো হচ্ছে। আওয়ামী লিগের পাশাপাশি ভারত বিরোধী প্রচারও জোরদার করা হয়েছে সম্প্রতি।
আওয়ামী লিগকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ইউনুসকে তাঁর বন্ধু অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অমর্ত্য আওয়ামী লিগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে করেছিলেন, এটা আগের সরকারের ভুলের পুনরাবৃত্তি হবে, যারা ক্ষমতায় এসে বিরোধীদের নিষিদ্ধ করেছিল।
নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা এটা করেছে দলটির চরিত্র ও সম্ভাবনা দেখে যে তারা পুরো নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করবে। তাই তারা ভেবেছে, এটা না করাই ভাল।
ইউনুসকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়াটা কি ভাল পদক্ষেপ হবে? মানুষ তো বলছে নতুন সরকার পুরনো সরকারের মতোই দমনপীড়ন চালাচ্ছে। চক্রটা তো চলতেই থাকল। জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আওয়ামী লিগকে নিয়ে আমরা নির্বাচন করতে পারব না। এটা যদি মোটের ওপর একটা দল হয়, একটি রাজনৈতিক দল, তো তারা একটি রাজনৈতিক দলের মতো আচরণ করছে না। তারা যে মানুষ হত্যা করেছে, সে জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেনি। এই সময়ে তারা যা যা করেছে, তার কোনও কিছুরই দায় নেয়নি—একটি বিষয়েরও না। সব সময় অভিযোগ করছে যে এর জন্য অন্য কেউ দায়ী।