হাসিনা জমানার আইনশৃঙ্খলার দূরবস্থা, অর্থ তছরুপ, বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগ নিয়ে প্রচারে সক্রিয় হয়েছে মহম্মদ ইউনুসের সরকার

শেষ আপডেট: 12 September 2025 17:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেপালে জেন-জি'র অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর বাংলাদেশে শেখ হাসিনার জমানার অপশাসনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। হাসিনা জমানার আইনশৃঙ্খলার দূরবস্থা, অর্থ তছরুপ, বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগ নিয়ে প্রচারে সক্রিয় হয়েছে মহম্মদ ইউনুসের সরকার (Muhammad Yunus)।
চলতি সপ্তাহের গোড়ায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিবৃতিতে দাবি করে, বর্তমান সরকারের সময়ে অপরাধের ঘটনা অনেক বেশি নথিভুক্ত হলেও তারমধ্যে একাংশ হাসিনা জমানায় সংঘঠিত। বিগত জমানায় থানায় গেলে অভিযোগ নিত না। একটা সময় মানুষ ভয়ে থানায় যাওয়া বন্ধ করে দেয়। জমানা বদলের পর মানুষ অপরাধ নথিভুক্ত করেছেন। এরমধ্যে খুন, ধর্ষণ, দাঙ্গার মতো ঘটনাও আছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হাসিনা জমানায় বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়েও নেপালের ঘটনার পর নতুন করে সক্রিয় হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের আমলা, কূটনীতিক, প্রচারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা লন্ডনের ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের একটি তথ্যচিত্র দেশে-বিদেশে প্রচার করছেন।অন্তর্বর্তী সরকারের এই কৌশল নিয়ে দু রকম ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে। একটি মত হল, বাংলাদেশের মানুষকে নতুন করে হাসিনা জমানার কুকীর্তি স্মরণ করিয়ে দেওয়া। অন্য একটি মত হল, ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধেও জনক্ষোভ দানা বাঁধছে্। এই পরিস্থিতিতে ইউনুস সরকার এই ধারণা তৈরি করতে চাইছে যে চলতি পরিস্থিতির জন্যও বিগত সরকারের অপকর্ম দায়ী।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের তথ্যচিত্রটিতে বিক্ষোভকারী, বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী এবং রাজনীতিবিদরা প্রশ্ন তুলেছেন, জানিয়েছেন হাসিনা জমানায় কীভাবে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব কিনা সেই প্রসঙ্গেও তথ্যচিত্রটিতে আলোচনা করা হয়েছে।
তথ্যচিত্রটি শুরু হয়েছে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে। ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক রাফিয়া রেহনুমা হৃদি এবং রেজওয়ান আহমেদ রিফাদ, দক্ষিণ এশিয়া ব্যুরো প্রধান জন রিড, বাংলাদেশভিত্তিক সাবেক সাংবাদিক সুজানা সাভিজ, স্পটলাইট অন করাপশন-এর উপ-পরিচালক হেলেন টেইলর এবং ওয়েস্টমিনস্টার লবির প্রতিবেদক রাফ উদ্দিন অংশ নিয়েছেন। তাঁরা শেখ হাসিনার পরিবারের ভূমিকা, বিদেশে জমির মালিকানা এবং অফশোর সম্পদ সম্পর্কে বিশ্লেষণ তথ্যচিত্রটি তৈরি করেছেন।তাতে অভিযোগ করা হয়েছে যে এই অর্থ পাচার মূলত অতিমূল্যায়ন ও অবমূল্যায়ন, হুন্ডির মতো অবৈধ চ্যানেল এবং যুক্তরাজ্যে সম্পত্তি কেনাবেচার মাধ্যমে লন্ডনে পৌঁছেছে।
তথ্যচিত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, সরকার ও ব্যবসায়িক অভিজাতদের সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি, যার মধ্যে শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিকও রয়েছেন, বিদেশে উচ্চমূল্যের সম্পত্তির মালিকানায় জড়িত। টিউলিপ সিদ্দিক এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তথ্যচিত্রে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, লুট করা অর্থ উদ্ধার একটি 'বহু বছরের দীর্ঘ প্রক্রিয়া হবে। এর সঙ্গে অনেক আইনগত, কূটনৈতিক ও ফরেনসিক বিষয় যুক্ত।বলা হয়েছে, বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পুঁজিপাচারের ঝুঁকিতে পড়েছে এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলি অনেক সময়ই ক্ষমতার অপব্যবহার ঠেকাতে ব্যর্থ, অথবা তাদের ইচ্ছা ছিল না।