বাংলাদেশের আদালত রায়ে শুধু তাঁদের ভারতীয় ঘোষণা করেনি, বরং আধার কার্ডের নম্বর ও ঠিকানা উল্লেখ করে তা প্রমাণও করেছে।

শেষ আপডেট: 10 October 2025 11:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের (Bangladesh) জেলে আটক বীরভূমের সোনালী খাতুন (Sonali Khatun Birbhum) এবং তাঁর সঙ্গী সাথীদের ভারতীয় হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশের আদালত (Bangladesh court order)। এই ব্যাপারে সে দেশের কোর্ট সোনালীদের আধার কার্ড এবং অন্যান্য ভারতীয় নথিপত্র যাচাই করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের আদালত ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনারকে (Indian High Commission) নির্দেশ দিয়েছে সোনালীদের নিরাপদে ভারতে ফেরানোর ব্যবস্থা করতে।
এই তথ্য জানিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম। তিনি রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের চেয়ারম্যান।
শুক্রবার সকালে সমাজ মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, যাদের বিদেশি প্রমাণ করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিল বিজেপি, তাঁদেরই ভারতীয় হিসেবে প্রমাণ করল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের আদালত তার রায়ে শুধু তাঁদের ভারতীয় ঘোষণা করেনি, বরং আধার কার্ডের নম্বর ও ঠিকানা উল্লেখ করে তা প্রমাণও করেছে। আদালতের নির্দেশ ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাই কমিশনে। বলা হয়েছে — বীরভূমের অন্তঃসত্ত্বা মহিলা সোনালী খাতুনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ভারতে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
সামিরুল আরও বলেছেন, এই রায় আবারও প্রমাণ করল, কীভাবে বাংলা-বিরোধী বিজেপি গরিব ও অসহায় মানুষদের শুধু বাংলায় কথা বলার অপরাধে 'বাংলাদেশি’ সাজিয়ে তাড়িয়ে দেয়। মনে পড়ছে, তখন এই বাংলারই কয়েকজন বিজেপি অনুগামী তাঁদের ‘রোহিঙ্গা’ বলে প্রচার চালিয়েছিল। সেই সময় শুধু আমি নয়, আমার পরিবারও আক্রমণের শিকার হয়েছিল।
তবুও আমাদের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আমাদের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময় এই মানুষগুলোর পাশে থেকেছেন, লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শক্তি জুগিয়েছেন।
এর আগে কলকাতা হাই কোর্টও নির্দেশ দিয়েছিল — সোনালী খাতুনসহ সকলকে চার সপ্তাহের মধ্যে দেশে ফেরত আনতে হবে। এখন দেখার বিষয়, এই নিষ্ঠুর বাংলা-বিরোধী কেন্দ্র সরকার কবে সেই সোনালীদের দেশে ফিরিয়ে আনে।'

ইতিমধ্যে আরও একটি বিষয় নিয়ে চিন্তিত সোনালীর পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট সকলের। তা হল, ভারতে ফেরার আগেই যদি বাংলাদেশেই সোনালীর সন্তান জন্ম নেয় সেক্ষেত্রে সেই সন্তানের নাগরিকত্ব নিয়ে আবার জটিলতা দেখা দেবে। নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী সেই সন্তান বাংলাদেশের নাগরিক বলে গণ্য হবে। যদিও সোনালী ভারতীয় বলে চিহ্নিত হওয়ায় এই ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়টি বেশি দূর না করালেও এই নিয়ে আইনি জটিলতা মেটাতেও বেশকিছু সময় চলে যাবে। সেই কারণে সংশ্লিষ্ট মহল চাইছে যত দ্রুত সম্ভব তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা। প্রসঙ্গত পরিযায়ী শ্রমিক সোনালী ও অন্যান্যদের জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে আদালতে ভারত সরকার ও বিএসএফের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের আটক করে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। আইনি প্রক্রিয়ায় তারা এখন বাংলাদেশের জেলে আটক।