লন্ডনে দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসিত জীবনে থাকার সময় থেকেই বিএনপি'কে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তারেক জিয়া। মা খালেদা অসুস্থ হওয়ার পর থেকে তারেক কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিলেন। যদিও চেয়ারম্যান পদে ছিলেন খালেদাই। খালেদা প্রয়াত হওয়ায় বিএনপি'র সুপ্রিমো এখন তারেক জিয়া।

শেষ আপডেট: 5 January 2026 16:23
লন্ডনে দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসিত জীবনে থাকার সময় থেকেই বিএনপি'কে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তারেক জিয়া। মা খালেদা অসুস্থ হওয়ার পর থেকে তারেক কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিলেন। যদিও চেয়ারম্যান পদে ছিলেন খালেদাই। খালেদা প্রয়াত হওয়ায় বিএনপি'র সুপ্রিমো এখন তারেক জিয়া।
খালেদার জীবিত থাকাকালীন তাঁকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করে আসছিলেন আওয়ামী লিগের সভাপতি শেখ হাসিনা। কিন্তু খালেদার মৃত্যুর পর আওয়ামী লিগের অন্দরে প্রশ্ন উঠেছে তারেককে মোকাবিলা করবেন কে? আগামী দিনের তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তারেকেও কি হাসিনাই রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করবেন? যদি তাই হয় তবে সেটা কি রাজনৈতিকভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত হবে?
রবিবার রাতে কলকাতায় আওয়ামী লিগের কর্ম সমিতির বৈঠকে এই প্রশ্নে দীর্ঘ আলোচনা হয়। রবিবার দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেন শেখ হাসিনাও। তিনি বৈঠকে যোগদানের আগে কর্ম সমিতির সদস্যরা নিজেদের মধ্যে দলের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন।
সেই আলোচনায় আওয়ামী লিগের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, তারেক জিয়া বিএনপিতে পাকাপাকিভাবে শীর্ষ পদে বসে গিয়েছেন। এখন তাঁকে মোকাবিলায় আওয়ামী লীগেও একজন নতুন মুখ আনা দরকার। ওই সাংগঠনিক সম্পাদকের কথায় সায় দেন বৈঠকে উপস্থিত প্রায় সব নেতাই। অধিকাংশ নেতার অভিমত রাজনৈতিকভাবে তারেককে মোকাবিলা করার শেখ হাসিনার জন্য শোভনীয় হবে না। এজন্য নতুন কোন নেতৃত্ব চাই। প্রসঙ্গত রবিবার দুপুরে দ্য ওয়াল-এ একটি ভিডিওতে বলা হয়েছিল খালেদার মৃত্যু হাসিনার সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তার একটি হলো রাজনৈতিকভাবে তারেককে মোকাবিলার দায়িত্ব আওয়ামী লিগের তরফে কে পালন করবেন। এই বিষয়ে এখনই অবস্থান স্পষ্ট করা দরকার বলে ওই ভিডিওতে বিভিন্ন মহলের বক্তব্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।
দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লিগে আলোচনা আছে আগামী দিনের দলের হাল ধরবেন হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। গত বছর ৫ অগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে জয় দলের তরফে সমাজমাধ্যমে এবং সংবাদ মাধ্যমে বক্তব্য রাখছেন। কিন্তু সরকারিভাবে তিনি আওয়ামী লিগের কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে নেই। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লিগের একজন সাধারন সদস্য মাত্র। তবে তিনি যে আগামী দিনের নেতা তার আভাস নানাভাবে পাওয়া যাচ্ছে।
যেমন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শেখ হাসিনার শোকবার্তা দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে পৃথক শোকবার্তায় সজীব ওয়াজেদ জয় বিএনপি নেত্রীর স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার অবদানের প্রশংসা করেন প্রশংসা করেন এবং বলেন যে তিনি বাংলাদেশ জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গিয়েছেন। জয়ের আলাদা করে শোকবার্তা দেওয়ার সিদ্ধান্তে স্পষ্ট, তাঁকে আগামীদিনের নেতা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
কিন্তু দলের সব স্তরেই এখন আলোচনা আছে জয় যদি নেতৃত্বে আসতে চান তাহলে এখনই তাকে সেই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হবে এ নিয়ে বিলম্ব করার কোন অবকাশ নেই।
আওয়ামী লিগের একাংশ, জয় ব্যক্তিগতভাবে দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত হতে খুব বেশি আগ্রহী নন। এছাড়া পার্টির একাংশ শেখ হাসিনার কন্যা সায়েমা ওয়াজের পুতুলকেও নেতৃত্বের আসনে দেখতে চান। এমন ভারতে রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকেও কংগ্রেসের বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্বের আসনের পেতে চাইছিলেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর প্রিয়াঙ্কা দলে সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন এবং বর্তমানে তিনি সাংসদ।
আওয়ামী লিগের তৃণমূল থেকে শীর্ষস্তর পর্যন্ত হাসিনার পুত্র কন্যাকে নেতৃত্বে আনা নিয়ে খুব বেশি মতবিরোধ নেই। বেশিরভাগেরাই মনে করেন এখনো শেখ পরিবারের বাইরে আওয়ামী লিগের নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার সময় আসেনি। কংগ্রেসে অতীতে একাধিকবার গান্ধী পরিবারের বাইরের কেউ সভাপতি হয়েছেন। বর্তমান সভাপতিও গান্ধী পরিবারের কেউ নন।
কিন্তু আওয়ামী লিগের ক্ষেত্রে সভাপতি পদে হাসিনাকে রেখে দিয়ে প্রথম সারির নেতৃত্বে নতুন মুখ আনার দাবি উঠেছে। হিসাব মতো গত মাসে ছিল আওয়ামী লগের কাউন্সিল হওয়ার কথা। কাউন্সিলে নতুন কমিটি গঠন করা হয়ে থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কাউন্সিল হবে না এটা জানাই ছিল। তবে সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা চাইলে যেকোনো সময় দলের সাংগঠনিক পরিবর্তন করতে পারেন। সভাপতি হিসেবে তাঁর সেই ক্ষমতা রয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে তিনি দলের নেতাকর্মীদের এই প্রত্যাশা এখন পূরণ করবেন কিনা।