ইউনুস সরকার শেখ হাসিনার দলকে সন্ত্রাস দমন আইনে তাদের কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করায় নির্বাচন অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না দেশের সবচেয়ে পুরনো এই দলটি।

শেখ হাসিনা
শেষ আপডেট: 5 January 2026 14:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লিগের (Awami Leauge) ভোটাররা বুথে যাবেন না। আওয়ামী লিগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) নেতাদের বলেছেন, কর্মী সমর্থকদের বোঝাতে যাতে তারা ভোটের দিন বুথে না যায়।
হাসিনার এই নির্দেশ পাওয়ার পর আওয়ামী লিগ নেতৃত্ব নতুন স্লোগান 'নো বোট, নো ভোট' চালু করেছেন। আওয়ামী লিগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকা বোট আসন্ন নির্বাচনে দেখা যাবে না। ইউনুস সরকার শেখ হাসিনার দলকে সন্ত্রাস দমন আইনে তাদের কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করায় নির্বাচন অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না দেশের সবচেয়ে পুরনো এই দলটি।
রবিবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে আওয়ামী লিগের ওয়ার্কিং কমিটির সঙ্গে হাসিনা বৈঠক করেন। সপ্তাহ দুই আগের বৈঠকে তিনি নেতাদের বলেছিলেন আওয়ামী লিগ ভোট বয়কট করতে চায় না। সুযোগ দিলে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত, এই মর্মে প্রচার চালাতে। গত দু সপ্তাহ যাবত আওয়ামী লিগ নেতারা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করেছেন তারা নির্বাচনে অংশ নিতে চায়। সরকারের উচ্চতম মহলে দলের তরফে সেই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।
আওয়ামী লিগের প্রথম সারির এক নেতা সোমবার বলেন সরকারের তরফ থেকে তারা কোন ধরনের সাড়া পাননি। এরপরই দলনেত্রী হাসিনা রবিবারের বৈঠকে নেতাদের বলেন নতুন বক্তব্য এনে প্রচার করতে। তিনি বলেন যে নির্বাচনে নৌকা নেই সেখানে আওয়ামী লিগের কোন নেতাকর্মী সমর্থকও থাকতে পারেন না। দলের সমর্থকদের বোঝাতে হবে তারা যেন কোনও অবস্থাতেই বুঝে না যান।
হাসিনা বিগত কয়েক দিন ধরে সমাজ মাধ্যমে ভাষণে অভিযোগ করে আসছিলেন আওয়ামী লিগের ভোটারদের বুথে যেতে বাধ্য করতে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামি। সংখ্যালঘু ভোটারদেরও একই ভাবে ভয় দেখানো হচ্ছে। রবিবারের বৈঠকে হাসিনা নেতাদের বলেন, আওয়ামী লিগের ভোটারদের বোঝাতে হবে, বুথ বয়কটই হতে পারে আদর্শ প্রতিবাদ।
আওয়ামী লিগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হবে না, বেশ কয়েক মাস আগেই তার স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তারপরও এই ব্যাপারে দলের অবস্থানের মধ্যে নানা ধরনের ভিন্নতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। দলের একাংশ প্রচার করছিল আওয়ামী লিগ যে কোন মূল্যে নির্বাচন প্রতিহত করবে। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দ্য ওয়াল কে দেওয়া-কে সাক্ষাৎকারে এই অভিমত ব্যক্ত করার পর দলের একাংশ তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এরপর দলের কর্ম সমিতির বৈঠকে হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বলেন আওয়ামী লিগ নির্বাচন প্রতিরোধ করতে চায় না। তারা চায় নির্বাচনে অংশ নিতে।
কিন্তু গত রবিবার হাসিনা অবস্থান বদলে ঘোষনা করেছেন আওয়ামী লিগের ভোটাররা কেউ বুথে যাবেন না। নেতারা বলছেন আওয়ামী লিগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়ার কোনও সুযোগ এখন আর নেই। মনোনয়নপত্র গ্রহণ এবং সেগুলি বাছাইয়ের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। দিন পাঁচেকের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু হয়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতে হাসিনা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন বলে মনে করা হচ্ছে।।