বুধবার দুপুরে রাজধানী ঢাকা যখন খালেদার শেষ যাত্রাকে ঘিরে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে তখন জামাতের আমির রাইটার্সকে সাক্ষাৎকারে জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাবটি প্রকাশ করেছেন। সেই সাক্ষাৎকার দিয়ে এসে তিনি খালেদা জিয়ার বিদায় যাত্রায় অংশ নেন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 1 January 2026 08:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশ (Bangladesh) আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফলাফল যাই হোক না কেন দেশে তারা একটি জাতীয় সরকার গঠনের পক্ষপাতি বলে ঘোষণা করল জামায়াতে ইসলামি (Jamaat)। দলটির আমির শফিকুর রহমান সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন তাঁরা চান আগামী পাঁচ বছর দেশে একটি সব দলের সরকার ক্ষমতায় থাকুক। বাংলাদেশকে শোধরাতে এমন একটি সরকার প্রয়োজন বলে ওই জামাত নেতা সাক্ষাৎকারে বলেছেন। বলাই বাহুল্য, নির্বাচনে (Election) অংশ নিতে না পারা আওয়ামী লিগের সেই সরকারে স্থান হবে না।
তাৎপর্যপূর্ণ হল জামায়াতে ইসলামি তাদের এই নয়া প্রস্তাবের কথা এমন সময় প্রকাশ্যে এনেছে যখন বাংলাদেশে খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia) মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শোকের আবহাও বিরাজ করছে। শুধু তাই নয় খালেদার স্মৃতি ঘিরে এক আবেগের বাতাস বইছে সে দেশের রাজনীতিতে। বুধবার দুপুরে রাজধানী ঢাকা যখন খালেদার শেষ যাত্রাকে ঘিরে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে তখন জামাতের আমির রাইটার্সকে সাক্ষাৎকারে জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাবটি প্রকাশ করেছেন। সেই সাক্ষাৎকার দিয়ে এসে তিনি খালেদা জিয়ার বিদায় যাত্রায় অংশ নেন।
রয়টার্স রাতে সাক্ষাৎকারটি প্রচার করে। তারপর থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছে বিএনপি'র (BNP) সঙ্গে শেয়ানে শেয়ানে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েও শফিকুর রহমান কেন ভোটের পর জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলছেন? রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা হল খালেদার মৃত্যুতে বিএনপি'র বিপুল আসনে জয়লাভের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা এক প্রকার নিশ্চিত। আওয়ামী লিগ (Awami League) ময়দানে না থাকায় জামাত এবার তাদের নির্বাচনী ভাগ্য পরিবর্তনের আশা নিয়ে এগোচ্ছিল তারা মনে করছিল অতীতের রেকর্ড ছাপিয়ে এবার অনেক বেশি আসন নিয়ে তারা জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবে। অতীতে বিএনপির সঙ্গে জোট করেই জামায়াতে ইসলামি বাংলাদেশ সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৮ টি পেয়েছে। একক শক্তিতে তারা কখনো দশের গণ্ডি পেরোয়নি। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা নজিরবিন ফল করবে বলে আশাবাদী ছিল।
কিন্তু খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে (Khaleda Zia Death) কেন্দ্র করে যে আবেগের হাওয়া বইতে শুরু করেছে তাতে জামাতের পক্ষে খুব বেশি আসনে জয় লাভ সহজ হবে বলে নেতৃত্ব মনে করছে না। কিন্তু তারা চাইছে আগামী সরকারে অংশ নিয়ে দেশকে ইসলামিক পথে চালিত করা। জামাতের আমির এই ব্যাপারে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন তারা মনে করেন অন্তত পাঁচটি বছর বাংলাদেশে এমন সরকার থাকা উচিত যারা ইসলামিক মতাদর্শকে সামনে রেখে দেশ পরিচালনা করবে এবং সেই সরকারের অন্যতম এজেন্ডা হবে দুর্নীতিকে পুরোপুরি নির্মূল করা। জাতীয় সরকার গঠন করে তারা সেই সরকারে এই ভূমিকা, নিশ্চিত করতে চান। জামাতের মতে বাংলাদেশের একাধিক সমস্যার একটি হল দুর্নীতি।
এখন প্রশ্ন হল বিএনপি কি জামায়াতে ইসলামির এই সিদ্ধান্তে দেবে? বিএনপি নেতারা এই ব্যাপারে বুধবার কেউই মুখ খোলেননি। সকলেই খালেদা জিয়ার শেষ যাত্রা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তাছাড়া দলের তরফে বিএনপি খালেদার মৃত্যুতে সাত দিন শোক পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সময় তারা অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মকান্ড থেকে নিজেদের দূরে রাখার পরিকল্পনা করেছে।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের দুজন নেতা বলেছেন যে জামাতের এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে দল ভাবনা চিন্তা করবে নির্বাচনের পর। তবে মোটের উপর এমন কোন প্রস্তাবে সায় দেওয়া সম্ভাবনা কম। বিএনপি'র ওই দুই নেতার বক্তব্য জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়ে জামাত আসলে আগামী সরকারে তাদের কর্মসূচি বাস্তবায়নের সুযোগ নিতে চাইছে। যেহেতু তারা বুঝে গিয়েছে, যে ফলাফল হতে চলেছে তাতে তাদের সরকার গড়া দূরে থাক সরকারকে চাপে রাখাও কঠিন হয়ে পড়বে। সেই কারণেই আগেভাগে তারা জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়ে রাখল।