এদিকে রংপুরের পুলিশ সুপার মো: আবু সাইম জানান, হিন্দু পরিবারগুলির ওপর হামলার ঘটনায় মোট ১২টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই বাড়িগুলোতে ২২টি পরিবার বসবাস করতো।

ছবি সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 29 July 2025 10:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধর্ম অবমাননার অভিযোগে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় হিন্দুদের উপর সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা মেনে নিল বাংলাদেশ প্রশাসন। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং মঙ্গলবার সকালে গত রবিবার রংপুরে হামলার ঘটনা নিয়ে প্রশাসনের বক্তব্য প্রকাশ করেছে। তাতে অভিযোগ মেনে নিলেও সংবাদমাধ্যমের কিছু তথ্য অস্বীকার করা হয়েছে।
বলা হয়েছে রংপুরের উপজেলার বেতগাড়ি ইউনিয়নের আলদাদপুর বালাপাড়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ হিন্দু পরিবারের সার্বিক অবস্থা পরিদর্শন শেষে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিস্তারিত জানিয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, ২২টি পরিবারের মধ্যে ১৯টি পরিবার বর্তমানে তাদের বাড়িতেই আছে। কটুক্তিকারী রঞ্জন কুমার রায় এবং তার কাকার পরিবার-সহ মোট ৩টি পরিবার পার্শ্ববর্তী গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে রয়েছেন।
বুধবার থেকেই জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের বাড়িঘর মেরামত করার কাজ শুরু করা হবে।
তিনি পরিবারগুলির সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়োজিত রয়েছে।
এদিকে রংপুরের পুলিশ সুপার মো: আবু সাইম জানান, হিন্দু পরিবারগুলির ওপর হামলার ঘটনায় মোট ১২টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই বাড়িগুলোতে ২২টি পরিবার বসবাস করতো।
তিনি জানান, রঞ্জন আটক হওয়ার পর থেকেই তার বাবা, দাদা এবং কাকার পরিবার বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আছেন। অন্যান্য ১৯টি পরিবারের সকল পুরুষ সদস্য তাদের নিজেদের বাড়িতেই আছেন। ঘরবাড়ি ভাঙা থাকায় কিছু নারী সদস্য মালপত্র নিয়ে রিক্সাভ্যান যোগে অন্যত্র চলে গেছেন।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এলাকায় সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন ও পুলিশ এর সঙ্গে কাজ করছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামত হলে নারী সদস্যগণসহ সকলেই নিজ নিজ বাড়িতে ফিরবেন বলে জানান তিনি।
এই হামলার ঘটনায় দায়ীদের সনাক্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যারা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।