বাংলাদেশের রাজনীতিতে জেলহত্যা এক ভয়ঙ্কর অধ্যায়। নানা সময়ে রাজবন্দিদের অত্যাচার করে, নয়তো সরাসরি গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বহু ক্ষেত্রে দাগি আসামীদের এই কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া দেশটির ৫৪ বছরের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হয়ে আছে ১৯৭৫-এর ৩ নভেম্বরের জেল হত্যাকাণ্ড।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 26 July 2025 23:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা কারাগারে বন্দি আওয়ামী শতাধিক সাবেক মন্ত্রী, সাংসদকে ঢাকার কেরাণিগঞ্জের জেলে আনার তৎপরতা শুরু হয়েছে। শেখ হাসিনার দল বড অঘটনের আশঙ্কা করছে। ওই ধৃত নেতাদের জেলে হত্যার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না আওয়ামী লিগের শীর্ষ নেতৃত্ব।
কারাবন্দি নেতাদের ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বদলি করার খবর সম্পর্কে আওয়ামী লিগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, দলীয় সূত্রে আমরাও এই খবর পেয়েছি। সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা উদ্বেগ, উৎকণ্ঠার মধ্যে আছি।
নাছিম জানান, গত ৫ অগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত আওয়ামী লিগের প্রায় তিরিশ জন নেতা-কর্মী খুন হয়েছেন। তাদের নিপীড়ন, অত্যাচার করে খুন করা হয়। এর আগে গাজিপুরের কেন্দ্রীয় কারাগারেও জেলহত্যার চেষ্টা হয়েছিল। সেই পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় হত্যা করা সম্ভব হয়নি।
নাছিম আরও বলেন, বাংলাদেশে গত বছরের ৫ অগস্টের পর বাংলাদেশে যত অঘটন, হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা মহম্মদ ইউনুস সরকারের প্রত্যক্ষ মদতে হয়েছে। সরকার সরাসরি খুনখারাবিতে যুক্ত। শুধু আওয়ামী লিগের নেতা-কর্মীই নয়, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের ঘটনাতেও ইউনুস সরকার জড়িত।

২০১৬-র ১০ এপ্রিল ঢাকার এই।জেলের উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা
আওয়ামী লিগের এক সম্পাদক বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর পরই জেলে থাকা খুনিদের ছেড়ে দিয়ে আওয়ামী লিগের নেতাদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অনেক দুষ্কৃতীকে সরকারই জামিনে মুক্ত করে দেয়। সেই ষড়যন্ত্র আঁচ করেই আওয়ামী লিগের হাজার হাজার নেতা-কর্মী এলাকা ছাড়েন। অনেকে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।
আওয়ামী লিগের অভিযোগ, উৎকণ্ঠা নিয়ে সরকারি মহলের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রশাসনিক কর্তার ব্যাখ্যা ভিন্ন। তাঁর বক্তব্য, অনেক জেলা আদালত যথেষ্ট সুরক্ষিত নয়। গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে আওয়ামী লিগের সমর্থকেরা জেলা কারাগারে হামলা চালিয়ে আটক নেতাদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কারারক্ষীরা রীতিমত যুদ্ধ করে জেলের সদর ফটক ভাঙা আটকে দেন। গোপালগঞ্জের ঘটনার পরই আলোচনা হয়েছিল এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি আটকাতে আওয়ামী নেতাদের ঢাকার কেরানিগঞ্জের সুরক্ষিত জেলে এনে রাখা হবে।
আওয়ামী লিগ নেতারা অবশ্য এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। তাঁদের আশঙ্কা সরকারের উদ্দেশ্য ভিন্ন। নেতারা জেলহত্যার আশঙ্কা করছেন।

৩ নভেম্বর, ১৯৭৫। বাংলাদেশে কুখ্যাত জেলহত্যার বলি জাতীয় চার নেতা।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে জেলহত্যা এক ভয়ঙ্কর অধ্যায়। নানা সময়ে রাজবন্দিদের অত্যাচার করে, নয়তো সরাসরি গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বহু ক্ষেত্রে দাগি আসামীদের এই কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া দেশটির ৫৪ বছরের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হয়ে আছে ১৯৭৫-এর ৩ নভেম্বরের জেল হত্যাকাণ্ড। ওই বছর ১৫ অগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে নিজের বাড়িতে সপরিবারে হত্যার পর জাতীয় চার নেতা তথা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম কাণ্ডারি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, মুহাম্মদ মনসুর আলী ও আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামানকে ঢাকার জেলে গুলি করে হত্যা করে সেনা বাহিনী। বাংলাদেশের কর্ণধার তখন ছিলেন খন্দকার মোস্তাক আহমেদ। মুজিব হত্যার দিনে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছিলেন তিনি।
৩ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ড হয়েছিল পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে। কেনানিগঞ্জের কারাগারটি নতুন। সেটি ২০১৬-র ১০ এপ্রিল উদ্বোধন করা হয়। পুরান ঢাকার কারাগার থেকে বন্দিদের কেরানিগঞ্জে নিয়ে রাখা হয়। আওয়ামী লিগের নেতা-কর্মীদের অনেকেই গ্রেফতারের পর থেকে কেরানিগঞ্জের কারাগারে আছেন।