মাগুরা উপনির্বাচনের ইতিহাস সবাই জানেন। ৯০-পরবর্তী সময়ে মাগুরা এবং রাজধানীর মিরপুর উপনির্বাচনের মাধ্যমেই ভোট কারচুপির আনুষ্ঠানিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও ধারাবাহিক কার্যক্রম শুরু করেছিল বিএনপি।

শেষ আপডেট: 26 July 2025 21:13
বাংলাদেশে জেনারেল জিয়াউর রহমানের আমলে নির্বাচনগুলির কথা বাদই দিলাম বিএনপি জমানায় প্রতিটি নির্বাচনই ছিল নির্বাচনের নামে নাটক।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার বিএনপিও একটি একতরফা প্রহসনের নির্বাচন করে। সেই প্রহসনের একতরফা নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছিল বলে দেখানো হয়েছিল ২১ শতাংশ এবং বিএনপি ২৭৮টি আসন লাভ করে। সেই নির্বাচনে ফ্রিডম পার্টিকে ১টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ১০টি আসন দেওয়া হয়।
এর আগে মাগুরা উপনির্বাচনের ইতিহাস সবাই জানেন। ৯০-পরবর্তী সময়ে মাগুরা এবং রাজধানীর মিরপুর উপনির্বাচনের মাধ্যমেই ভোট কারচুপির আনুষ্ঠানিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও ধারাবাহিক কার্যক্রম শুরু করেছিল বিএনপি।
এরপর, ২০০৪ সালের ১ জুলাই তৎকালীন ঢাকা-১০ (রমনা-তেজগাঁও) সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনেও বিএনপি নির্বাচন ব্যবস্থাকে এক প্রহসনে পরিণত করেছিল।
২০০৬-এ এসে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নষ্ট করল কে? প্রধান বিচারপতির বয়স বাড়িয়ে নিজেদের পছন্দের বিচারপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান বানাতে চেয়েছিল বিএনপি। উদ্দেশ্য ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনেও যেন নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে আবার ক্ষমতায় আসা নিশ্চিত হয়। জালিয়াতির এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে।
বিএনপি যদি মাগুরা ও মিরপুর উপনির্বাচনে ভোট ডাকাতি না করতো, তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজনই হতো না। ভুলে গেলে চলবে না—বিএনপির ভোট ডাকাতির মনোবৃত্তি এবং আচরণের কারণেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আনতে হয়েছিল। পরবর্তীতে ভোট ডাকাত বিএনপি এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকেও ম্যানিপুলেট করে। ভোট ডাকাতির মাধ্যমে আবার ক্ষমতায় ফিরতে চায়। কিন্তু জনগণের প্রবল আন্দোলনের মুখে বিএনপির পতন হয় এবং ১/১১ সরকার আসে।
শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করার কোনও ইতিহাস নেই বিএনপির। বাংলাদেশের ইতিহাসে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর একবারই হয়েছিল, এবং সেটি করেছিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা।
বিএনপির ইতিহাস নির্বাচন কারচুপি ও জালিয়াতির ইতিহাস—এক কথায়, ভোট ডাকাতির ইতিহাস।
সেই বিএনপি আজ ভোট চুরির অভিযোগ করে! শুধু তাই নয়, ভোট ডাকাত বিএনপি ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনের জন্য তৎকালীন নির্বাচন কমিশনারদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি; বরং নির্বাচন প্রতিহত করার জন্য হেন কোনও নৃশংসতা নেই, যা তারা করেনি।
২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেছিল নামেমাত্র; মূল উদ্দেশ্য ছিল দলের নিবন্ধন রক্ষা করা।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বিএনপি মাগুরা ও মিরপুর উপনির্বাচনে ভোট ডাকাতি করেছিল বলেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আনতে হয়েছিল। পরবর্তীতে, এই বিএনপিই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকেও ম্যানিপুলেট করেছিল বলেই তা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, এবং এর ফলেই ১/১১ সরকারের মতো একটি অসাংবিধানিক সরকার আসতে বাধ্য হয়েছিল। এর মাঝখানে আওয়ামী লিগ শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিল।
কী আজব বাস্তবতা! যাদের জন্ম সামরিক শাসন জারির মাধ্যমে এবং যারা সারা জীবনে কখনওই শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি, যখনই সুযোগ পেয়েছে নির্বাচন কারচুপি করেছে—সেই বিএনপি এখন শুদ্ধ হয়ে গেছে? ভোট ডাকাত এখন ভোট চুরির অভিযোগ করে!

<br><strong>লেখক: বাংলাদেশ আওয়ামী লিগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য, ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী</strong>
মতামত ব্যক্তিগত