আগামীকাল শুক্রবার ৮ অগস্ট বর্ষপূর্তি বাংলাদেশের মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের। বৃহস্পতিবার সরকারের বারো মাসের বারো সাফল্য তুলে ধরেছন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

শেষ আপডেট: 7 August 2025 15:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামীকাল শুক্রবার ৮ অগস্ট বর্ষপূর্তি বাংলাদেশের মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের। বৃহস্পতিবার সরকারের বারো মাসের বারো সাফল্য তুলে ধরেছন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
ফেসবুকে প্রেস সচিব এক নম্বর সাফল্য হিসাবে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার দাবি পেশ করেছেন, যা নিয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক মহল ও মিডিয়ার একাংশের দ্বিমত আাছে। শফিকুলের কথায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা ফিরে আসে, যা প্রতিশোধ ও বিশৃঙ্খলার চক্র বন্ধ করেছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
প্রেস সচিবের কথায়, অধ্যাপক ইউনুসের নৈতিক নেতৃত্ব ছিল এই স্থিতিশীলতার প্রধান চালিকা শক্তি, যিনি দেশকে সহিংসতার বদলে পুনর্মিলন ও গণতন্ত্রের পথে পরিচালিত করেন।
শফিকুল আলম লিখেছেন,
১. অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার: খাদ্য মূল্যস্ফীতি প্রায় ১৪ শতাংশ থেকে অর্ধেকে নেমেছে। সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ৮. ৪৮ শতাংশে নেমেছে, বিগত ৩৫ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। তিনি এই প্রসঙ্গে আরও লিখেছেন, প্রবাসীদের থেকে আয় ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলারে রেকর্ড সৃষ্টি করেছ বিগত বারো মাসে এবং রপ্তানি ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘসময় পর টাকার মান ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হয়েছে। ব্যাংক ক্ষেত্র এখন স্থিতিশীল।
২. বাণিজ্য ও বিনিয়োগে অগ্রগতি:
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক সংক্রান্ত আলোচনায় সফল সমাপ্তি ঘটে, যা অনেকেই বলেছিলেন দুর্বল সরকার পেরে উঠবে না। উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ আসে।
প্রেস সচিব জানিয়েছেন, হান্ডা গ্রুপের ২৫ কোটি ডলারের টেক্সটাইল বিনিয়োগ, যা ২৫,০০০ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। গত সরকারের তুলনায় দ্বিগুণ এফডিআই প্রবাহ নিশ্চিত হয় বিগত বারো মাসে। চিনা বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেছেন শফিকুল আলম।
৩. গণতান্ত্রিক সংস্কার ও জুলাই সনদ:
সংস্কার কমিশন গঠন, ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দলের মধ্যে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা এবং ঐতিহাসিক জুলাই সনদ চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্র ফিরে আসার পথ রোধে কাঠামোগত জবাবদিহি নিশ্চিত করবে। এই সনদ গণতন্ত্রের এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে দাবি প্রেস সচিবের।
এই প্রসঙ্গে তিনি বিগত জমানাকে কটাক্ষ করে বলেছেন, ৬ অগস্ট সেনাবাহিনীতে ক্যু করার চেষ্টা করেছিলেন জেনারেল মুজিব।
৪. জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার: জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের স্বচ্ছ বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে চারটি বড় মামলার বিচার চলছে। শেখ হাসিনার বিচার শুরু হয়েছে, বলেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব।
৫. নির্বাচন পরিকল্পনা ও সংস্কার: ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর জাতীয় নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রবাসী, প্রথমবারের মতো ভোটার হওয়া তরুণ এবং নারীদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা হচ্ছে। নাগরিক মতামতের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু হচ্ছে। নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৮ লাখ পুলিশ, আনসার ও সেনা সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে পোস্টে লিখেছেন শফিকুল আলম।
৬. প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি সংস্কার-
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আর মজবুত এবং
পুলিশ সংস্কার: মানবাধিকার সেল, বডিক্যাম, স্বচ্ছ জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ, জাতিসংঘ মানের প্রতিবাদ নিয়ন্ত্রণ প্রটোকল চালু।
আইনি সংস্কার: দেওয়ানি ও ফৌজদারি কার্যবিধিতে বড় পরিবর্তন, গ্রেফতারের পর ১২ ঘণ্টার মধ্যে পরিবারের কাছে জানানো বাধ্যতামূলক, আইনজীবীর অ্যাক্সেস, চিকিৎসা সুরক্ষা ও অনলাইন জিডির সুযোগ চালু।
৭. গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও ইন্টারনেট অধিকার: দমনমূলক সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল, সব সাংবাদিকের মামলার অবসান, সমালোচনার স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইন্টারনেট অ্যাক্সেসকে মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা।
৮. পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন: একক দেশের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে সরে এসে বহুমাত্রিক ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি গড়ে তোলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চিন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, চিকিৎসা সহায়তা ও সংকট মোকাবেলায় সহযোগিতা সম্প্রসারণ। সার্কের পুনর্জাগরণ ও আসিয়ানে সদস্যপদ অর্জনের প্রচেষ্টা শুরু।
৯. প্রবাসী ও শ্রমিকদের অধিকার: আমিরাতে ভিসা পুনরায় চালু, মালয়েশিয়ায় একাধিকবার প্রবেশের ভিসা চালু। উপসাগরীয় অঞ্চলে অবৈধ শ্রমিকদের বৈধতা দেওয়া। জাপানে ১ লাখ তরুণ পাঠানোর উদ্যোগ এবং ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া ও সার্বিয়ায় আরও শ্রমিক পাঠানোর পরিকল্পনা গ্রহণ।
১০. শহিদ ও আহত বিপ্লবীদের সহায়তা: জুলাই বিপ্লবের শহিদ ও আহতদের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। ৭৭৫ শহীদ পরিবারের মাঝে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র ও ভাতা এবং ১৩ হাজার ৮০০ আহত বিপ্লবীর মাঝে ১৫৩ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের বিদেশে উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
১১. সমুদ্র ও অবকাঠামো উন্নয়ন: বঙ্গোপসাগরকে ‘জলভিত্তিক অর্থনীতির’ মূল সম্পদ ঘোষণা। চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা বাড়ানো হয়েছে (প্রতিদিন অতিরিক্ত ২২৫ কনটেইনার পরিচালনা), উপকূলীয় উন্নয়ন প্রকল্প সম্প্রসারণ এবং গভীর সমুদ্রের মৎস্য ও শিল্প প্রকল্পে বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ শুরু।