অ্যাডভোকেট জেনারেল আরও বলেন, নবান্ন রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ভবন। হাওড়ার মতো ঘিঞ্জি এলাকায় বড় মিছিল বা অভিযান জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে।

কলকাতা হাইকোর্ট
শেষ আপডেট: 7 August 2025 15:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী ৯ আগস্টের নবান্ন অভিযান (Nabanna Abhijan) ঘিরে দায়ের হওয়া মামলার শুনানি শেষ হয়েছে। আজ, বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে (Kolkata High Court) বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলায় রায়দান স্থগিত রাখলেও, দিনের শেষে রায় ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
মামলায় রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (AG) আদালতে জানান, অভিযানের পেছনে কোনও সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের সরাসরি নাম নেই। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে দায়ভার কার ওপর বর্তাবে, তা স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, “এটা অত্যন্ত অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। কেউ দায় নিচ্ছে না, অথচ নবান্ন অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে।”
অ্যাডভোকেট জেনারেল আরও বলেন, নবান্ন রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ভবন। হাওড়ার মতো ঘিঞ্জি এলাকায় বড় মিছিল বা অভিযান জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে। অতীত অভিজ্ঞতার কথা টেনে তিনি জানান, আগের কয়েকটি অভিযানে ৪৭ জন পুলিশ আধিকারিক আহত হয়েছেন, বহু সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে, এমনকি গাছপালাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “কোন রাজনৈতিক দল সরাসরি অভিযানের দায় নিচ্ছে না। যদিও এক নেতার থাকার কথা বলা হয়েছে, তবে দলীয় পতাকা ছাড়াই।”
রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলের আরও অভিযোগ, হাওড়া পুলিশ কমিশনার বা কলকাতা পুলিশ কমিশনারের কাছে কোনও লিখিত আবেদন জমা পড়েনি। এমনকি অভিযানের উদ্যোক্তা কারা, তাও আদালতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। একটি অডিও ক্লিপ ছাড়া অন্য কোনও সংগঠিত যোগাযোগের প্রমাণও পাওয়া যায়নি বলেও দাবি রাজ্যের।
অন্যদিকে, হাওড়ার ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকেও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, আগের অভিযানে ব্যবসার ক্ষতি হয়েছে, সাধারণ মানুষের জীবনযাপন ব্যহত হয়েছে। এছাড়াও, সোশ্যাল মিডিয়ায় নির্যাতিতার পরিবারও অভিযানের আবেদন জানিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী।
সবমিলিয়ে, আগামী ৯ আগস্টের নবান্ন অভিযান ঘিরে আদালতের রায়ই এখন নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট দিনে আদৌ মিছিল করা যাবে কি না।